১১ অগ্রহায়ণ  ১৪২৭  শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০ 

Advertisement

সিরিয়ায় উলটপুরাণ, নিজের অস্ত্র ভাণ্ডারেই বিধ্বংসী বোমাবর্ষণ করল আমেরিকা

Published by: Monishankar Choudhury |    Posted: October 18, 2019 11:15 am|    Updated: October 18, 2019 11:15 am

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সিরিয়ায় নিজেদের অস্ত্র ভাণ্ডারেই বিধ্বংসী বোমাবর্ষণ করল মার্কিন বোমারু বিমান। যুদ্ধক্ষেত্রে মজুত করা অত্যাধুনিক মার্কিন অস্ত্রগুলি যাতে অন্য সশস্ত্র বাহিনীর হাতে না পড়ে, তাই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।

জানা গিয়েছে, বুধবার উত্তর সিরিয়ার কোবানে শহরের একটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে বোমাবর্ষণ করে মার্কিন বাযুসেনার দুটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান। সেনা প্রত্যাহারের আগে লাফারজ সিমেন্টের ওই ফ্যাক্টরিটিই ছিল মার্কিন ফৌজের একটি মজবুত ঘাঁটি। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপরই মিত্রশক্তি কুর্দ মিলিশিয়া বা ‘সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস’-কে কার্যত জলাঞ্জলি দিয়ে সমস্ত ঘাঁটি থেকে সরে এসেছে মার্কিন সেনা। এদিকে, উত্তর সিরিয়ার মানবিজ, রাস আল আইন, কোবানে-সহ কুর্দ মিলিশিয়ার দখলে থাক এলাকাগুলির দিকে বন্যার জলের মতো এগিয়ে আসছে তুরস্কের সেনা ও আঙ্কারার মদতপুষ্ট ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’ বা আসাদ সরকারের বিরোধী মিলিশিয়া। ফলে ফাঁকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে মজুত থাক অত্যাধুনিক মিসাইল, অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট গান, রকেট ও অন্যান্য অস্ত্র হানাদার বাহিনীর হাতে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছিল। তাই বাধ্য হয়েই সেগুলিকে ধ্বংস করতে বিমান হামলা চালিয়েছে আমেরিকা।

মার্কিন সেনার এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, উত্তর সিরিয়ার সব ঘাঁটি ছেড়ে আপাতত কোবানে শহরে এসে জড়ো হয়েছে মার্কিন ফৌজ। সেখান থেকে জওযানদের বিমানে করে আমেরিকা ফিরিয়ে আনা হবে। এই মুহূর্তে সিরিয়ায় রয়েছে প্রায় ১ হাজার মার্কিন সেনা। কুর্দ বিদ্রোহীদের সঙ্গে মিলে ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে লড়াই করেছে তাঁরা। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের সঙ্গে গোপন বোঝাপড়ার পর মার্কিন ফৌজ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। তারপরই ‘ফ্রি জোন’ গড়ার উদ্দেশ্যে সিরিয়ার কুর্দ বিদ্রোহীদের দখলে থাক এলাকায় সামরিক অভিযান শুরু করেছে তুরস্কের বাহিনী। এদিকে, মার্কিন ফৌজ সরে যাওয়ায় খুশি রাশিয়া। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই মানবিজে একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দখল নিয়েছে রুশ সেনা। পাশাপাশি শহরে প্রবেশ করেছে মস্কোর বন্ধু প্রেসিডেন্ট বাশার-আল-আসাদের বাহিনীও। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে সিরিয়ায় ক্ষমতা দখলের বেনজির লড়াই চলছে। আর এই যুদ্ধের মাশুল গুনতে হচ্ছে নিরীহ নাগরিকদের।

[আরও পড়ুন: কাবুলগামী ভারতীয় বিমানকে মাঝ আকাশে ঘিরে ধরল পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement