BREAKING NEWS

৭ আশ্বিন  ১৪২৭  শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

ভারতকে ন্যাটো সদস্যের সমান মর্যাদা দিতে চলেছে আমেরিকা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 22, 2016 2:55 pm|    Updated: May 22, 2016 2:58 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আমেরিকার বিদেশনীতি কি পাল্টাচ্ছে? পাকিস্তানের কপাল পুড়িয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন মার্কিন সফর ঘিরে মার্কিন প্রশাসনের বেনজির অভ্যর্থনার প্রস্তুতি সেই জল্পনাই তৈরি করছে৷

শুক্রবারই পাকিস্তানকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে আমেরিকার হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ৷ একইদিনে মোদির মার্কিন সফরের খবরও চূড়ান্ত করা হয়৷ জানা গিয়েছে, আগামী ৮ জুন ক্যাপিটল হিলে মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ সভায় ভাষণ দেবেন মোদি৷ চলতি বছর কোনও বিদেশি রাষ্ট্রনেতার তরফে প্রথম ভাষণ৷ তার আগে তাঁকে বিরল রেড কার্পেট অভ্যর্থনা দেওয়া হবে৷ আর থাকবে মোদির সম্মানে স্পিকার পল রায়ানের আয়োজিত মধ্যাহভোজ, যা বিরলতম বললেও অত্যুক্তি হয় না৷ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা, সেনেটের হাউস অফ ফরেন রিলেশন কমিটি ও দু’টি ইন্দো-মার্কিন ককাসের যৌথ উদ্যোগে মোদিকে সম্মানজ্ঞাপনের কর্মসূচিও নেওয়া হচ্ছে৷ একইসঙ্গে, মার্কিন সংসদে একটি প্রতিরক্ষা বিলে সংশোধনী গৃহীত হয়েছে৷ যার ফলে ন্যাটো-সঙ্গীর মর্যাদা পেতে চলেছে ভারত৷ দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশকে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আর আমেরিকার কোনও বাধা থাকবে না৷ মূলত চিনের সামরিক আধিপত্য খর্ব করতেই ভারতকে এভাবে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে ওয়াশিংটন৷

(ভারতে আইএস-কে সর্বশক্তি দিয়ে রোখার চ্যালেঞ্জ রাজনাথের)

মার্কিন কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, ৮ জুন ক্যাপিটল হিলের অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বুঝে উপস্থিত থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বিডেন এবং ওবামা ক্যাবিনেটের বেশ কয়েকজন সদস্য৷ উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল, হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ও সেনেট, দু’টি কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাধিক্য৷ মোদিকে আমন্ত্রণ জানাতে প্রেসিডেন্ট ওবামার ডেমোক্র্যাট দলের সদস্যরাও এবার রিপাবলিকানদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, যা মার্কিন রাজনীতিতে অত্যন্ত বিরল ঘটনা৷ তার উপর আগামী নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন৷ ফলে যুযুধান দুই দল একত্রে চলতি বছরে আর কোনও রাষ্ট্রনেতাকে অভ্যর্থনা জানাবেন, এমন ঘটনা দেখার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে৷ এর আগে বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পরই অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যেত৷ এবার কংগ্রেসের নেতৃত্ব তার পরেও চারটি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে৷ আপাতত ঠিক হয়েছে, দিনের শুরুতে স্পিকার রায়ান, বিরোধী দলনেত্রী ন্যান্সি পেলোসি, সেনেটের দুই দলের নেতা মিচ ম্যাকনেল ও হ্যারি রিডের সঙ্গে মোদির বৈঠক হবে৷ এরপর যৌথ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ৷ ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠান নিয়ে ইতিমধ্যেই মার্কিন সেনেটর ও কংগ্রেসম্যানদের মধ্যে প্রভূত উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে৷ এর আগে ২০০৫-এর ১৯ জুলাই মনমোহন সিং মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন৷ সেই সুযোগ পেয়েছিলেন রাজীব গান্ধী, পি ভি নরসিমা রাও ও অটলবিহারী বাজপেয়ীও৷

ভাষণ শেষে মোদির সম্মানে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজেও গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেস সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন৷ এর আগে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে মার্কিন কংগ্রেসে মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠিত হয়নি৷ তারপর হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ও সেনেটের ভারতীয় ককাসের উদ্যোগে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান৷ এর আগে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ককাস বাজপেয়ীকে এই রকম সংবর্ধনা জানিয়েছিল ঠিকই৷ কিন্তু তাতে কংগ্রেসের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটি শামিল ছিল না৷ ক্যাপিটল হিলের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এদিনের অনুষ্ঠানসূচি থেকেই তা স্পষ্ট৷ শুধু তাই নয়, প্রায় গোটা একটি দিন প্রধানমন্ত্রী মোদি যেভাবে মার্কিন কংগ্রেসে কাটাতে রাজি হয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারও স্বীকৃতি বলা যেতে পারে৷

তারই মধ্যে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতের সঙ্গে সামরিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছে আমেরিকা৷ তাই ভারতকে ন্যাটো-সঙ্গীর মতোই মর্যাদা দিতে আইনও সংশোধন করেছে৷ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ-এর পাশাপাশি মার্কিন সেনেটেও এই ধরনের বিল অনুমোদনের অপেক্ষায়৷ দু’টি বিল এরপর একত্রে যাবে প্রেসিডেন্ট ওবামার কাছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য৷ ওবামা সম্মতি দিলে শুধুমাত্র ভারত-মার্কিন সামরিক ও বাণিজ্যিক আদানপ্রদান দেখভাল করতে পেন্টাগনে বিশেষ দফতর চালু হতে পারে বলে জানা গিয়েছে৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement