Advertisement
Advertisement

ভারতকে ন্যাটো সদস্যের সমান মর্যাদা দিতে চলেছে আমেরিকা

আমেরিকার বিদেশনীতি কি পাল্টাচ্ছে?

US lawmakers frustrated with Pakistan, approve move to put India at par with NATO allies
Published by: Sangbad Pratidin Digital
  • Posted:May 22, 2016 2:55 pm
  • Updated:May 22, 2016 2:58 pm

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আমেরিকার বিদেশনীতি কি পাল্টাচ্ছে? পাকিস্তানের কপাল পুড়িয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন মার্কিন সফর ঘিরে মার্কিন প্রশাসনের বেনজির অভ্যর্থনার প্রস্তুতি সেই জল্পনাই তৈরি করছে৷

শুক্রবারই পাকিস্তানকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে আমেরিকার হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ৷ একইদিনে মোদির মার্কিন সফরের খবরও চূড়ান্ত করা হয়৷ জানা গিয়েছে, আগামী ৮ জুন ক্যাপিটল হিলে মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ সভায় ভাষণ দেবেন মোদি৷ চলতি বছর কোনও বিদেশি রাষ্ট্রনেতার তরফে প্রথম ভাষণ৷ তার আগে তাঁকে বিরল রেড কার্পেট অভ্যর্থনা দেওয়া হবে৷ আর থাকবে মোদির সম্মানে স্পিকার পল রায়ানের আয়োজিত মধ্যাহভোজ, যা বিরলতম বললেও অত্যুক্তি হয় না৷ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা, সেনেটের হাউস অফ ফরেন রিলেশন কমিটি ও দু’টি ইন্দো-মার্কিন ককাসের যৌথ উদ্যোগে মোদিকে সম্মানজ্ঞাপনের কর্মসূচিও নেওয়া হচ্ছে৷ একইসঙ্গে, মার্কিন সংসদে একটি প্রতিরক্ষা বিলে সংশোধনী গৃহীত হয়েছে৷ যার ফলে ন্যাটো-সঙ্গীর মর্যাদা পেতে চলেছে ভারত৷ দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশকে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আর আমেরিকার কোনও বাধা থাকবে না৷ মূলত চিনের সামরিক আধিপত্য খর্ব করতেই ভারতকে এভাবে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে ওয়াশিংটন৷

Advertisement

(ভারতে আইএস-কে সর্বশক্তি দিয়ে রোখার চ্যালেঞ্জ রাজনাথের)

Advertisement

মার্কিন কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, ৮ জুন ক্যাপিটল হিলের অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বুঝে উপস্থিত থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বিডেন এবং ওবামা ক্যাবিনেটের বেশ কয়েকজন সদস্য৷ উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল, হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ও সেনেট, দু’টি কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাধিক্য৷ মোদিকে আমন্ত্রণ জানাতে প্রেসিডেন্ট ওবামার ডেমোক্র্যাট দলের সদস্যরাও এবার রিপাবলিকানদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, যা মার্কিন রাজনীতিতে অত্যন্ত বিরল ঘটনা৷ তার উপর আগামী নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন৷ ফলে যুযুধান দুই দল একত্রে চলতি বছরে আর কোনও রাষ্ট্রনেতাকে অভ্যর্থনা জানাবেন, এমন ঘটনা দেখার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে৷ এর আগে বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পরই অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যেত৷ এবার কংগ্রেসের নেতৃত্ব তার পরেও চারটি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে৷ আপাতত ঠিক হয়েছে, দিনের শুরুতে স্পিকার রায়ান, বিরোধী দলনেত্রী ন্যান্সি পেলোসি, সেনেটের দুই দলের নেতা মিচ ম্যাকনেল ও হ্যারি রিডের সঙ্গে মোদির বৈঠক হবে৷ এরপর যৌথ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ৷ ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠান নিয়ে ইতিমধ্যেই মার্কিন সেনেটর ও কংগ্রেসম্যানদের মধ্যে প্রভূত উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে৷ এর আগে ২০০৫-এর ১৯ জুলাই মনমোহন সিং মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন৷ সেই সুযোগ পেয়েছিলেন রাজীব গান্ধী, পি ভি নরসিমা রাও ও অটলবিহারী বাজপেয়ীও৷

ভাষণ শেষে মোদির সম্মানে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজেও গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেস সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন৷ এর আগে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে মার্কিন কংগ্রেসে মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠিত হয়নি৷ তারপর হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ও সেনেটের ভারতীয় ককাসের উদ্যোগে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান৷ এর আগে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ককাস বাজপেয়ীকে এই রকম সংবর্ধনা জানিয়েছিল ঠিকই৷ কিন্তু তাতে কংগ্রেসের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটি শামিল ছিল না৷ ক্যাপিটল হিলের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এদিনের অনুষ্ঠানসূচি থেকেই তা স্পষ্ট৷ শুধু তাই নয়, প্রায় গোটা একটি দিন প্রধানমন্ত্রী মোদি যেভাবে মার্কিন কংগ্রেসে কাটাতে রাজি হয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারও স্বীকৃতি বলা যেতে পারে৷

তারই মধ্যে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতের সঙ্গে সামরিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছে আমেরিকা৷ তাই ভারতকে ন্যাটো-সঙ্গীর মতোই মর্যাদা দিতে আইনও সংশোধন করেছে৷ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ-এর পাশাপাশি মার্কিন সেনেটেও এই ধরনের বিল অনুমোদনের অপেক্ষায়৷ দু’টি বিল এরপর একত্রে যাবে প্রেসিডেন্ট ওবামার কাছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য৷ ওবামা সম্মতি দিলে শুধুমাত্র ভারত-মার্কিন সামরিক ও বাণিজ্যিক আদানপ্রদান দেখভাল করতে পেন্টাগনে বিশেষ দফতর চালু হতে পারে বলে জানা গিয়েছে৷

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ