সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ক্ষমতার শীর্ষে রদবদল হয়েছে, বদলে গিয়েছেন আমেরিকার মুখ। কিন্তু মার্কিন দাদাগিরি বন্ধ হওয়ার কোনও লক্ষণ নেই। এবার পূর্বসূরি মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মতো ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিযোগ, সংবিধান বহির্ভূতভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক ও বিশৃঙ্খল’ বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। যদিও কোনও স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যা—ই হোক না কেন, তাতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ জরুরি কেন, ট্রাম্প তার উত্তর দেননি। শুধু ভেনেজুয়েলা নয়, একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়াকেও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। আমেরিকা বা তার কোনও জোটসঙ্গীর বিরুদ্ধে হামলা করলে উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উনকে ‘সত্যিকারের আফসোস’ করতে হবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
[ডোকলামের দখল পেতে চিনের হাতিয়ার ‘থ্রি ওয়ারফেয়ার স্ট্র্যাটেজি’]
ভেনেজুয়েলার সংসদে বিরোধীরা ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ। গত ৩০ জুলাই ভোটের পর নতুন ৫৪৫ জনকে নিয়ে সাংবিধানিক সভা তৈরি হয়েছে। সেখানে অধিকাংশই মাদুরো-সমর্থক। তারপর থেকেই রাজধানী কারাকাস ও অন্য শহরগুলিতে মাদুরো-বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। মাদুরোকে ‘একনায়ক’ আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও ভেনেজুয়েলার আইনসভা সর্বসম্মতভাবে ট্রাম্পের এই অগ্রাসী মনোভাবের কড়া নিন্দা করেছে। কোপ পড়েছে বর্তমান ও প্রাক্তন আরও কিছু আধিকারিকের উপর। আমেরিকার অভিযোগ, মাদুরো সরকার দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার খর্ব করছে। বিদেশসচিব রেক্স টিলারসেন, রাষ্ট্রসংঘে মার্কিন দূত নিক্কি হ্যালি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টারের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, “ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনেক উপায় রয়েছে। প্রয়োজনে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছি না। ভেনেজুয়েলা আমাদের প্রতিবেশী। গোটা বিশ্বের অনেক দূরদূরান্তে আমাদের সেনা রয়েছে। ওরা আমাদের হাতের নাগালে। ওখানে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, মারা যাচ্ছে। আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না।”

ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদরিনো ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘পাগলামি’ ও ‘চরম সন্ত্রাসবাদ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। উল্লেখ্য, ট্রাম্প একাধিকবার মাদুরোকে সংবিধান মেনে চলা, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করার কথা বলেছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মাদুরোর ফোনও ধরেননি ট্রাম্প। যদি ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃস্থাপিত হয়, তিনি তখনই মাদুরোর সঙ্গে কথা বলবেন। পেন্টাগনের মুখপাত্র এরিক পাহন জানান, ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেয়নি প্রতিরক্ষা দফতর। তবে তেমন নির্দেশ এলে তার জন্য সেনাবাহিনী তৈরি রয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প জানান, কিম জং উন ও তাঁর পরিবার বহুদিন ধরেই আমেরিকা ও তার সঙ্গীদের হুমকি দিচ্ছেন। সম্প্রতি গুয়াম দ্বীপে হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে গুয়াম, আমেরিকার কোনও এলাকা বা সঙ্গী রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে হামলা করলে উত্তর কোরিয়াকে পস্তাতে হবে। এমনকী, পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য অস্ত্রও তৈরি। ট্রাম্প বলেন, “আশা করি ওঁর শুভবুদ্ধির উদয় হবে। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান করা যাবে।”
[ডোকলাম ইস্যুতে এবার সরাসরি ভারতের পাশে দাঁড়াল আমেরিকা]
সর্বশেষ খবর
-
প্রস্রাবে রক্ত? ছোটখাটো রোগ ভেবে অবহেলা নয়, চুপিসারে বাড়তে পারে কিডনি ক্যানসার!
-
ভারত থেকে বিপুল আয় ট্রাম্পের সংস্থার, গুরুগ্রাম যেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের টাকার খনি!
-
শুরুতেই ডার্বি, ঘোষিত ডুরান্ডের পূর্ণাঙ্গ সূচি, মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের বাকি ম্যাচ কবে-কোথায়?
-
মেসিকে চিঠি লিখে আজ মাঠে আট বছরের খুদে সমর্থক, কীভাবে হল স্বপ্নপূরণ?
-
নাগরিকদের ‘দাস’ বানানোর চেষ্টা! সরকার বিরোধিতার জন্য নির্বাসিত করা অগণতান্ত্রিক, বলছে বম্বে হাই কোর্ট