সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সিরিয়া থেকে শীঘ্রই সেনা প্রত্যাহার করা হবে বলে জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, আমেরিকা যুদ্ধের জন্য পশ্চিম এশিয়ায় সাত লক্ষ কোটি ডলার অপচয় করেছে। এর বেশির ভাগটাই নষ্ট হয়েছে সিরিয়ার যুদ্ধে।
ওহায়ো-তে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে ট্রাম্প এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘ইসলামিক স্টেটকে মুছে দিতে আমেরিকা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল। ওদের নরক দর্শন করিয়ে দিয়েছে মার্কিন সেনারা। ওরা যাতে আর সংগঠিত হয়ে মাথা তুলতে না পারে তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। খিলাফতের দখলে থাকা প্রায় সব জমি উদ্ধার করেছে আমরা। এবার সময় এসেছে সিরিয়া থেকে চলে আসার। সিরিয়া থেকে শীঘ্রই আমাদের সব সেনাকে ফিরিয়ে আনা হবে।’
[সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে হাতিয়ার ধর্ষণ, নারকীয় অত্যাচারের শিকার মহিলারা]
যেভাবে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছিল সেভাবেই সিরিয়া থেকেও মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। প্রায় অনুশোচনার সুরে ট্রাম্প বলেছেন, ‘যুদ্ধ করতে গিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় সাত লক্ষ কোটি ডলার অপচয় করা হয়েছে। এর বদলে ক্ষতি ছাড়া কিছুই পায়নি আমেরিকা।’
ট্রাম্পের আক্ষেপ, ‘আমরা কত বোকা। আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেলের ভাণ্ডার গড়ে তুলতে পারিনি। অথচ কতবার কত বছর ধরে আমি বলে আসছি, জ্বালানি তেলের সঞ্চয় বাড়াতে। সেটা হলে আমাদের এই বিপুল অর্থের অপচয় হত না। আমাদের সেনাবাহিনী অনেক আগেই সিরিয়ার যুদ্ধে বাজিমাত করতে পারত। কিন্তু আমাদের এত রক্তক্ষয় ও যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হওয়ার কারণ কী জানেন? কারণ ইসলামিক স্টেট (আইসিসি) নিজেদের জন্য পর্যাপ্ত তেলের ভাণ্ডার গড়ে তুলেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘তেল খনিগুলি দখল করে তেল পাচার করে, তেল বিক্রি করে ওরা নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার বাড়িয়েছিল। মোটা টাকায় প্রচুর জেহাদি নিয়োগ করতে পেরেছিল। সময়ে সচেতন হলে এগুলো আমরা আগেই রুখতে পারতাম। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ায় তেল ভাণ্ডারের দখল নিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এটা করতে পারলে আইএসের মতো সাপের জন্মই হত না।’
ট্রাম্পের বক্তব্য সমর্থন করে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব ডানা হোয়াইট বলেছেন, ‘সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে আমরা এটাও নিশ্চিত করতে চাই, বিশ্বের আর কোথাও যেন কোনও দিন খিলাফত ও ইসলামিক স্টেট মাথা তুলতে না পারে। ওদের ধ্বংস নিশ্চিত করতে হবে। যেখানেই ওদের দেখা যাবে সেখানেই ওদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে হাজির হবে মার্কিন সেনা। ভুলে গেলে চলবে না ওরা কিন্তু তলায় তলায় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। ওরা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।’ তিনি সাফ জানান, আমেরিকা সেনা প্রত্যাহার করলেও সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সবরকমভাবে সাহায্য করে যাবে। এই বাহিনী আইএস ও সিরিয়ার সরকারি সেনাদের বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যাবে।
[সিরিয়ায় রুশ বিমান ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯]
এই অবস্থায় মার্কিন বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র হিদার নর্তে বলেছেন, সিরিয়ায় হিংসা বাড়াচ্ছে রাশিয়া ও ইরান। বাশার আল আসাদের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত স্বৈরাচারীকে মদত দিয়ে পরিস্থিতি তারাই জটিল করছে। আসাদ ক্ষমতাচ্যুত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে আমেরিকার সমর্থনপুষ্ট সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স। কারণ পূর্ব ঘাউতা ও সিরিয়ার বহু এলাকায় দশ থেকে পনেরো হাজার নিরপরাধ মানুষ রাশিয়ার বিমান হানায় নিহত হয়েছেন। কয়েক হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে রাসায়ানিক বিষ গ্যাসের প্রভাবে। এজন্য দায়ী আসাদই। এদের সঙ্গে আপস করবে না আমেরিকা।
সর্বশেষ খবর
-
১২৫ ফুট মূর্তির শিলান্যাস-সহ একাধিক কর্মসূচি, শ্যামাপ্রসাদ জন্মজয়ন্তী পালনে শহরে শাহ
-
‘শুধু আমেরিকা কেন, ভারতও আমাদের ভালো বন্ধু’, ভ্যান্সের দাবি উড়িয়ে বার্তা নেতানিয়াহুর
-
বাংলা ছবিতে হাতেখড়ি ‘ব্রাউন’-এর চিত্রনাট্যকার ময়ূখের, টলি সেলেবেই রাখছেন ভরসা
-
কলকাতার পুর আসন ২০০! পুনর্বিন্যাসের পর বাড়বে বুথ, খসড়া তৈরিতে ব্যস্ত পুরসভা
-
সিআরের জন্য কাপ-প্রার্থনা, নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে মহিষাদলের রোনাল্ডো-গ্রাম