২ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

প্রাণ বাঁচাল দাঁতের ব্যথা! ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন মহিলা

Published by: Tanujit Das |    Posted: April 22, 2019 9:56 am|    Updated: April 22, 2019 10:06 am

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সেন্ট অ্যানড্রুজ গির্জায় ইস্টারের প্রার্থনা সেরে সিনেমন গ্রান্ড হোটেলে ব্রেকফাস্ট করার কথা ছিল তাঁর৷ কিন্তু সমস্ত পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছিল প্রচণ্ড দাঁতের ব্যথা৷ প্রথমে মন খারাপ হয়ে গেলেও, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গিয়েছিল তাঁর মনের অবস্থা৷ টিভিতে সিনেমন গ্রান্ডের ভয়াবহ দৃশ্য দেখে হাত-পা কেঁপে উঠেছিল তাঁর৷ ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘যা হয়েছে ভালর জন্যই হয়েছে’৷ ব্রেকফাস্টের পরিকল্পনা না পালটালে তাঁর কী অবস্থা হত, তা ভেবে এখনও শিউরে উঠছেন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য ব্রাই রেমন্ড৷ ভাগ্যের ফেরে যেভাবে বেঁচে গিয়েছেন তিনি এবং তাঁর পরিবার, রবিবার ভয়াবহ বিস্ফোরণের পরেই এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ভাব ব্যক্ত করলেন তিনি৷

[আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণে ৫ ভারতীয়ের মৃত্যু নিশ্চিত করল দূতাবাস ]

রেমন্ড জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে খ্রিস্টমাসে সন্তানদের সঙ্গে ভাল করে আনন্দ করা হয়ে ওঠেনি৷ তাই ইস্টারে সেই স্বাদ মিটিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল৷ সেমতো প্ল্যানিং-ও সেরে ফেলেছিলেন তিনি৷ সেন্ট অ্যানড্রুজ অ্যান্ড স্কটসে ইস্টারের প্রার্থনা সেরে সিনেমন গ্রান্ড হোটেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জমিয়ে ব্রেকফাস্ট করার ইচ্ছা ছিল তাঁর৷ কিন্তু মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় দাঁতের ব্যথা৷ ভোর পাঁচটাও উঠে দাঁতের ব্যথা কমাতে পেন কিলার খেয়ে একটু জিরিয়ে নেন ব্রাই রেমন্ড৷ কিন্তু ঘুম ভাঙতেই টিভি খুলে যা দেখলেন, তাতে চোখ ছানাবড়া হয়ে গিয়েছিল তাঁর৷ তিনি দেখেন ধারাবাহিক বিস্ফোরণে তখন হাহাকার পরে গিয়েছে দেশে৷ শ’য়ে শ’য়ে মানুষ এদিক-ওদিক ছুঁটে বেরাচ্ছেন৷ চারপাশে কান্নার রোল৷ স্বজনহারার চিৎকারে কানপাতা দায় হয়ে উঠেছে৷ বেশ কিছুক্ষণ হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল তাঁর৷ কারণ যে সিনেমন গ্রান্ডে পরিবারকে নিয়ে ব্রেকফাস্টে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর, বিস্ফোরণে উড়ে গিয়েছে সেই হোটেলটির একটি বড় অংশ৷

[আরও পড়ুন:   বিস্ফোরণের পর হাহাকার শ্রীলঙ্কায়, ধস পর্যটন ব্যবসায় ]

রেমন্ড জানান, টিভিতে ভয়াবহতার দৃশ্য দেখতে দেখতে তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল গৃহযুদ্ধের সময়কার শ্রীলঙ্কার দৃশ্য৷ যখন তিনি ও তাঁর স্বামী, আলাদা আলাদা গাড়িতে অফিস যেতেন৷ কারণ তাঁদের মনে আশঙ্কা থাকত, আদৌ প্রাণ নিয়ে সন্তানদের কাছে ফিরতে পারবেন তো? তিনি আরও জানান, রবিবার সারাদিন বিভিন্ন খবরের চ্যানেলেই চোখ ছিল৷ আর এরই মধ্যে ভগবানের কাছে একটাই প্রশ্ন করছিলেন, ‘কেন আমরা? কেন আমার এই সুন্দর দেশটা?’ এখানেই শেষ নয় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সমস্ত শ্রীলঙ্কার মানুষকে একজোট হতেও আহ্বান জানান রেমন্ড৷ বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের কোনও জাতি-ধর্ম হয় না৷ সন্ত্রাসবাদ সিংহলি-তামিল-মুসলিম-বৌদ্ধ-হিন্দু-খ্রিস্টান হয় না৷ সন্ত্রাসবাদের জাতি-ধর্ম সন্ত্রাসবাদ নিজেই৷’

ব্রাই রেমন্ডের মতোই, ওইদিন সিনেমন গ্রান্ডে বিস্ফোরণে আগেই হোটেল ত্যাগ করেন তামিল অভিনেত্রী রাধিকা শরথকুমার৷ কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচে গিয়ে টুইটারে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন তিনি৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement