Safari Park at Jhargram

ঝাড়গ্রামে হাজার একর জমিতে সাফারি পার্ক, শিলিগুড়ি থেকে আসবে রয়্যাল বেঙ্গল ও চিতাবাঘ

কলকাতা বা তার পার্শ্ববর্তী জেলার পর্যটকদের খোলা জঙ্গলে বাঘ দেখার রোমাঞ্চ উপভোগ করতে আর দূর-দূরান্তে ছুটতে হবে না।

সুনীপা চক্রবর্তী
সুনীপা চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: জুলাই ২৩, ২০২৬, ১২:৫৪

options
link
ঝাড়গ্রামে হাজার একর জমিতে সাফারি পার্ক, শিলিগুড়ি থেকে আসবে রয়্যাল বেঙ্গল ও চিতাবাঘ
ঝাড়গ্রামে হাজার একর জমিতে সাফারি পার্ক, শিলিগুড়ি থেকে আসবে রয়্যাল বেঙ্গল ও চিতাবাঘ

উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারির অনুকরণে দক্ষিণবঙ্গের ঝাড়গ্রামে (Jhargram) প্রায় ১০০০ একর জমিতে মুক্ত সাফারি পার্ক গড়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ। রাজ্যের বনমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর জঙ্গলমহলের এই মেগা প্রকল্প নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। এবার প্রস্তাবিত ওই সাফারি পার্কের মূল আকর্ষণ হিসাবে শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি থেকে পাঁচটি রয়‍্যাল বেঙ্গল টাইগার এবং চিতাবাঘ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

Advertisement

রাজ্য জু অথরিটি ইতিমধ্যেই বেঙ্গল সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট পাঁচটি বাঘ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সেইসঙ্গে সেন্ট্রাল জু অথরিটির কাছেও ছাড়পত্রের আবেদন জানানো হয়েছে। শুধু বাঘ বা চিতাবাঘই নয়, পার্কটির সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরবর্তী ধাপে বেঙ্গল সাফারি থেকেই সুদৃশ্য-হগ ডিয়ার সহ স্পটেড ডিয়ার ঝাড়গ্রামে স্থানান্তরিত করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। সফল প্রজননের সৌজন্যে সাফারি পার্কে বাঘের সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে ১৪-তে পৌঁছেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্কের সঙ্গে বন্যপ্রাণী বিনিময় কর্মসূচিতে বেঙ্গল সাফারি এক অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

Advertisement

এর আগে ২০২২ সালে ‘স্নেহাশিস’ নামের একটি রয়‍্যাল বেঙ্গল টাইগারকে আলিপুর চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে দুটি বাঘ স্থানান্তরিত করা হয় ত্রিপুরার সিপাহিজালা চিড়িয়াখানায়। এমনকি চলতি মাসেই প্রাণী বিনিময়ের আওতায় একটি বাঘ দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিকাল পার্কে পাঠানো হয়েছে, যার পরিবর্তে বেঙ্গল সাফারিতে আনা হয়েছে একটি বিরল সাইবেরিয়ান রয়‍্যাল বেঙ্গল টাইগার। বেঙ্গল সাফারির এই উদ্বৃত্ত বন্যপ্রাণকে কাজে লাগিয়েই ঝাড়গ্রামের নতুন পার্কটিকে দ্রুত সমৃদ্ধ করে তোলা হচ্ছে। এই নতুন উদ্যোগ প্রসঙ্গে রাজ্যের বনমন্ত্রী বলেন, “এই প্রকল্পের মাধ্যমে কেবল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাই সুনিশ্চিত হবেই না। বরং জঙ্গলমহল তথা দক্ষিণবঙ্গের স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পে এক জোয়ার আসবে। কলকাতা বা তার পার্শ্ববর্তী জেলার পর্যটকদের খোলা জঙ্গলে বাঘ দেখার রোমাঞ্চ উপভোগ করতে আর দূর-দূরান্তে ছুটতে হবে না। বেঙ্গল সাফারি থেকে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি বাঘ পাঠানো হবে। পরে ধাপে ধাপে অন্যান্য নতুন বন্যপ্রাণও সেখানে যুক্ত করা হবে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.