Budbud hospital vandalized

চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগী মৃত্যু! হাসপাতালে দেদার ভাঙচুর, আতঙ্কে ছাদে প্রসূতি

পরিবারের দাবি, প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর ফের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তড়িঘড়ি তাঁকে আবার মানকর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

সনাতন গড়াই
সনাতন গড়াই

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১৪:৩০

options
link
চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগী মৃত্যু! হাসপাতালে দেদার ভাঙচুর, আতঙ্কে ছাদে প্রসূতি
বুদবুদের মানকর গ্রামীণ হাসপাতালের ওয়ার্ড তছনছ। নিজস্ব ছবি।

উলটে বেড, তছনছ ডাক্তার-নার্সদের টেবিল। ছত্রভঙ্গ ওষুধ-ইনজেকশন। চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে উত্তপ্ত বুদবুদের মানকর গ্রামীণ হাসপাতাল। রোগীর মৃত্যুর পরেই উত্তেজিত জনতা হাসপাতালে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, চিকিৎসকদের উপরেও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে আতঙ্কে রোগী, রোগীর আত্মীয়, পরিজন থেকে শুরু করে প্রসূতিরাও হাসপাতালের ছাদে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। জানা গেছে, বুদবুদ থানার অন্তর্গত মানকর বাগানপাড়ার বাসিন্দা বছর ৫৫-এর রবি বাউরী শনিবার রাতে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে মানকর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। পরিবারের দাবি, প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর ফের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তড়িঘড়ি তাঁকে আবার মানকর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপরেই চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা। অভিযোগ, হাসপাতাল চত্বরে শুরু হয় ব্যাপক বিক্ষোভ। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি চিকিৎসকদের উপরেও হামলার অভিযোগ ওঠে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

হাসপাতাল চত্বরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে কার্যত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই ছুটে যান হাসপাতালের ছাদে। এমনকি এক প্রসূতি মাও নিজের শিশুকে নিয়ে আতঙ্কে ছাদে আশ্রয় নেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রবিবার সকাল থেকেই নিরাপত্তার দাবিতে হাসপাতালের গেটের সামনে বিক্ষোভে বসেন চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালে কাজ করতে এসে যদি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়, তাহলে কীভাবে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব? যদিও বিক্ষোভ চললেও হাসপাতালের জরুরি পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

Advertisement

ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিক, প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক এবং বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য নরেশ কোনার। হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পাশাপাশি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, হাসপাতালের নিরাপত্তার দাবিতে চিকিৎসক ও নার্সরা বিক্ষোভে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে গিয়ে যদি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপরেই হামলার আশঙ্কা থাকে, তাহলে নিরাপদ পরিবেশে কাজ করা কঠিন। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার সপ্তসী কোণার অভিযোগ করে বলেন,”আমরা নিরাপত্তার অনিশ্চয়তায় ভুগছি। অন্যদিকে, গোটা ঘটনা নিয়ে বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য নরেশ কোনার বলেন,” রোগীর মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ভাঙচুর বা চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলা কোনওভাবেই সমস্যার সমাধান নয়। একইসঙ্গে রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে তদন্তে নেমেছে বুদবুদ থানার পুলিশ।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.