Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Murshidabad

গঙ্গা-পদ্মার গ্রাসে চলে যাবে ৪০ কিলোমিটার! ভাঙন ও ধসে আতঙ্কে ফরাক্কা থেকে লালগোলা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা সাধারণ ভাঙন নয়, এটা 'ল্যান্ড সাবসিডেন্স' বা ভূমি ধস।

শাহজাদ হোসেন
শাহজাদ হোসেন

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১৬:১৮

link
শাহজাদ হোসেন
শাহজাদ হোসেন

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১৬:১৮

options
link
গঙ্গা-পদ্মার গ্রাসে চলে যাবে ৪০ কিলোমিটার! ভাঙন ও ধসে আতঙ্কে ফরাক্কা থেকে লালগোলা zoom
ভাঙনের গ্রাসে আস্ত বাড়ি। ফাইল ছবি।
Advertisement

একদিকে গঙ্গার গ্রাস, অন্যদিকে মাটির তলায় ফাঁপা হয়ে যাওয়া জমি-এই দুইয়ের চাপে এখন জটিল পরিস্থিতি মালদহ-মুর্শিদাবাদের। ভাঙন আর ধস, সঙ্গে দুর্বল প্রতিরোধ-এই ত্রিমুখী সংকটে ফরাক্কা থেকে লালগোলা পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। কালিয়াচক ৩, মানিকচক, সামশেরগঞ্জ, ধুলিয়ান, লালগোলা, আখেরিগঞ্জ-এই গোটা বেল্টটাই এখন হটস্পট। পরিসংখ্যান চমকে দেওয়ার মতো। গত ৫ বছরে শুধু সামশেরগঞ্জেই গঙ্গায় তলিয়েছে ৮টি প্রাথমিক স্কুল, ৩টি মসজিদ ও প্রায় ৪০০০ বিঘা আমবাগান। কালিয়াচকের গোপালপুরে গত বর্ষায় এক রাতেই ২০০ মিটার তীর ভেঙে ৩০টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে যায়।

ভূ-বিজ্ঞানী সুজীব করের মতে, ফরাক্কায় মাটির নিচে বালি ও কাদার আলাদা স্তর আছে। বর্ষায় জল ঢুকে চাপ বাড়ে, শীতে অতিরিক্ত পাম্পে জল তুললে নিচের স্তর ফাঁপা হয়ে যায়, তখন উপর থেকে ধসে পড়ে। সঙ্গে ইঁদুরের গর্ত, পুরনো নদীখাত আর ভারী রেললাইনের চাপ।

ভাঙন কেন এত ভয়াবহ? সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, ফরাক্কা ব্যারাজের পর গঙ্গা তার স্বাভাবিক গতি হারিয়েছে। উজানে পলি জমে নদী অগভীর, তাই জল তীরে চাপ দিচ্ছে। ভাটিতে পলি-শূন্য। তার উপর অবাধ বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য। প্রতিদিন শত শত ট্রাক্টর বালি তুলে নেওয়ায় তীরের ভিত আলগা হয়ে যাচ্ছে। এতদিন ভাঙন ছিল তীরে। এবার আতঙ্ক ঢুকে পড়েছে স্থলভাগের ভিতরে। গত ৩১ আগস্ট নিউ ফরাক্কা জংশনের কাছে মাটি বসে রেললাইন ৩ ফুট দেবে যায়। পূর্ব রেল ৮টি ট্রেন বাতিল করতে বাধ্য হয়।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা সাধারণ ভাঙন নয়, এটা ‘ল্যান্ড সাবসিডেন্স’ বা ভূমি ধস। ভূ-বিজ্ঞানী সুজীব করের মতে, ফরাক্কায় মাটির নিচে বালি ও কাদার আলাদা স্তর আছে। বর্ষায় জল ঢুকে চাপ বাড়ে, শীতে অতিরিক্ত পাম্পে জল তুললে নিচের স্তর ফাঁপা হয়ে যায়, তখন উপর থেকে ধসে পড়ে। সঙ্গে ইঁদুরের গর্ত, পুরনো নদীখাত আর ভারী রেললাইনের চাপ।

ফাইল ছবি।

প্রতিরোধ কোথায়? একসময় ভাঙন রোধের দায়িত্ব ছিল ফরাক্কা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষের। এখন বেশিরভাগ কাজ রাজ্য সেচ দপ্তরের ঘাড়ে। ড্রেজিং বন্ধ হওয়ায় নদীর দুই পাড়ে বিশাল চর পড়েছে। রাজ্য ২০২৫-২৬ বাজেটে ‘নদী বন্ধন’ প্রকল্পে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। সামশেরগঞ্জের জন্য আলাদা ১০০ কোটির কাজ চলছে। কেন্দ্রের এফএমবিএপি প্রকল্পে রাজ্য ১০৫১ কোটির মধ্যে ১০৪৭ কোটি ব্যবহার করেছে বলে দাবি। আর ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ফরাক্কা থেকে লালগোলা পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানে ৩৬০০ কোটি টাকার প্রস্তাব কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর ব্যাগ, বালির বস্তা, বাঁশের পাইলিংয়ে কোটি টাকা খরচ হলেও এক বর্ষাতেই ৭০ শতাংশ ভেসে যায়। স্থায়ী সমাধানে চাই কংক্রিটের স্পার, ভেটিভার ঘাস আর নজরদারি। নাহলে আজ রেললাইন, কাল জাতীয় সড়ক, পরশু গোটা ফরাক্কাই ঝুঁকির মুখে পড়বে। 

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.