Howrah

বয়সে বড় প্রেমিকা, ছেলের পরিবার বিয়েতে আপত্তি তুলতেই হাওড়ার সিনেমা হলে ‘আত্মঘাতী’ যুগল

যুগল একটি গেঞ্জি কারখানায় কাজ করতেন। সেখানেই তাঁদের পরিচয়। ক্রমে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা ও প্রেম। তাঁরা বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সেই কথা জানান শুভজিৎ। প্রেমিকা তরুণের থেকে বয়সে অনেক বড় হওয়ায় বিয়েতে আপত্তি জানান শুভজিতের পরিবারের সদস্যরা।

অরিজিৎ গুপ্ত
অরিজিৎ গুপ্ত

শেষ আপডেট: মার্চ ৬, ২০২৬, ১৬:০৭

options
link
বয়সে বড় প্রেমিকা, ছেলের পরিবার বিয়েতে আপত্তি তুলতেই হাওড়ার সিনেমা হলে ‘আত্মঘাতী’ যুগল
প্রতীকী ছবি।

প্রেমিকার বয়স বেশি। বিয়েতে আপত্তি জানায় পরিবার। তাতেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন যুগল। বুধবার সন্ধ্যায় সিনেমা হলে বসে কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী যুগল। ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার (Howrah) আন্দুলে একটি সিনেমা হলে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। কীটনাশক খাওয়ার জন্য তাঁরা কেন সিনেমা হলকেই বেছে নিল? তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তরুণীর নাম চৈতালি নস্কর (২৫)। তরুণের নাম শুভজিৎ সাঁতরা (১৮)। তাঁরা দু’জনেই ডোমজুড়ের লক্ষ্মনপুরের বাসিন্দা। যুগল একটি গেঞ্জি কারখানায় কাজ করতেন। সেখানেই তাঁদের পরিচয়। ক্রমে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা ও প্রেম। তাঁরা বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সেই কথা জানান শুভজিৎ। কিন্তু বিয়ের বয়স না হওয়ায়, ও প্রেমিকা তরুণের থেকে বয়সে অনেক বড় হওয়ায় বিয়েতে আপত্তি জানান শুভজিতের পরিবারের সদস্যরা।

Advertisement

তাতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন যুগল। বুধবার ঘুরতে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরন। আন্দুলের একটি সিনেমা হলে যান তাঁরা। সিনেমা শেষে সবাই বেরিয়ে এলেও, যুগল না আসায় সন্দেহ হয় সিনেমা হল কর্তৃপক্ষের। গিয়ে দেখেন আশঙ্কাজনক অবস্থায় পড়ে রয়েছেন তাঁরা। উদ্ধার করে কলকাতার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তাঁরা। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে চৈতালির মৃত্যু হয়। পরে কলকাতার একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় শুভজিতের।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডোমজুড়ের লক্ষ্মণপুরের বাসিন্দা ওই যুগল বুধবার সন্ধ্যায় সাঁকরাইলের আন্দুলের একটি সিনেমাহলে ব্যক্তিগত কেবিনে বসে সিনেমা দেখার সময়েই কীটনাশক খায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই সিনেমা হলে বসে একসঙ্গে বিষ খায় দু’জনে। কিন্তু আত্মহত্যার জন্য কেন তাঁরা সিনেমা হলকে বেছে নিলো তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই প্রসঙ্গে হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, “ওই তরুণ-তরুণীর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল সে কথা মেনে নিয়েছে ২ জনের পরিবার। কিন্তু তার জন্য কেন তাঁরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিল কিংবা কেনই বা সিনেমা হলে গিয়ে বিষ খেল তা সবটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।”

এ দিকে মৃত চৈতালি নস্করের বউদি তনিমা নস্কর বৃহস্পতিবার জানান, “শুভজিৎ ও চৈতালি একটা গেঞ্জির কারখানায় কাজ করত। সেখানেই ২ জনের মধ্যে আলাপ ও প্রেম। সম্প্রতি ২ জন বিয়ে করবে বলে স্থির করে। কিন্তু ছেলেটি বয়সে ছোট হওয়ায় ওর বাড়ির লোকেরা বিয়েতে আপত্তি করে। ২ জনে বিয়ে করতে পারবে না ভেবে মানসিক অবসাদ ভুগছিল। বুধবার ২ জনে চামরাইল যাওয়ার নাম করে বাড়ি বেরয়। জানতে পারি আন্দুলের একটি সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখার সময় কীটনাশক খায়।” পাশাপাশি তনিমাদেবী আরও বলেন, ‘‘চৈতালি ছেলেটিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এটা আমাদের বাড়ির লোক জানতো না। ওদের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এটা আমরা জানতাম।” ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.