মায়ের সঙ্গে নদী পার হওয়ার সময় খরস্রোতা তিস্তায় ভেসে যায় হস্তী শাবক। প্রবল স্রোতে প্রায় ডুবে গিয়েছিল ছোট্ট ওই শাবক। এদিকে সন্তানকে হারিয়ে রীতিমতো তখন আর্তনাদ করছে মা। জলের টানে ৩ কিমি ভেসে গিয়েছিল মাত্র ১৩ দিন বয়সের ওই শাবক। শেষপর্যন্ত মৃত্যুকে জয় করল ওই খুদে। নিজের জীবন বিপন্ন করে উত্তাল তিস্তায় ৩ কিমি নৌকা চালিয়ে গিয়েছিলেন দুই মৎস্যজীবী। তিস্তা থেকে শাবককে তোলা হয় ছোট ওই নৌকায়। মায়ের কোলে ফিরে গিয়েছে ওই দুধের শিশু। সন্তানকে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা মা হাতি।
আরও পড়ুন:
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সকালে উত্তরবঙ্গের গজলডোবার তিস্তায়। জানা গিয়েছে, নদীর আপার স্টিম দিয়ে মা হাতির সঙ্গে নদী পার হচ্ছিল ওই খুদে। সেসময় জলের স্রোতে ভেসে যায় ছানাটি। মা হাতিটি চেষ্টা করেও সন্তানকে উদ্ধার করতে পারেনি। সেসময় তিস্তা সেতুর লকগেট খোলা থাকায় সেতুর নিচ দিয়ে ভেসে শাবকটি কাঠামবাড়ি এলাকায় চলে আসে। প্রবল স্রোতে রীতিমতো নাকাচি-চোবানি খাচ্ছে ওই শিশু। তিস্তার ঢেউয়ে কখনও সে ডুবে যাচ্ছে। আবার প্রাণপণে শুঁড় তুলে কোনওরকমে বাঁচার চেষ্টা চালাচ্ছে।

হস্তী শাবক তিস্তায় ভেসে যাচ্ছে, ওই ঘটনা দেখতে পেয়েছিলেন জনা কয়েক মৎস্যজীবী। প্রাণের বাজি রেখে তাঁরাই ওই শাবকটিকে মৃত্যুমুখ থেকে উদ্ধার করেন। সেসময় তিস্তার ১২ নম্বর এলাকায় মৎস্যজীবীরা মাছ ধরছিলেন। দেখেন তিস্তার গভীর জলে ভেসে যাচ্ছে একটি হস্তী শাবক। তড়িঘড়ি জীবনের ঝুকি নিয়ে নৌকা নিয়ে শাবকের কাছে ছুটে যান বাবলু দাস, মিঠু দাস, গোপাল দাস, বাপি দাস বিশ্বনাথ দাস। তাঁরা সকলেই উত্তরবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের সদস্য। তাঁদের বক্তব্য, “১৩ দিনের এই শাবকটি জলে হাবুডুবু খাচ্ছিল। আমরা অনেক চেষ্টায় নৌকায় তুলে ডাঙায় নিয়ে আসি৷ এরপর মায়ের খোঁজে চিৎকার শুরু করে শাবকটি। এরপর বন দপ্তরের চেষ্টায় ক্রান্তি ব্লকের কাঠামবাড়ি বনদপ্তরের রেঞ্জে নিয়ে আসি।”

কাঠামবাড়ি বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে পাঞ্জাব বাঁধ সংলগ্ন তিস্তা নদীর ১২ নম্বর পারের কাছে কয়েকজন মৎস্যজীবীর নজরে পড়ে শাবকটি। এরপর মৎস্যজীবীরা নৌকায় করে শাবকটিকে উদ্ধার করে কাঠামবাড়ি রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে আপালচাঁদ বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার-সহ বনকর্মীরা দ্রুত শাবকটিকে উদ্ধার করে গজলডোবা তিস্তা ব্যারেজ পার করে শুকনো জায়গায় নিয়ে যান। সেখানেই মা হাতিটি আশ্রয় নিয়েছিল বলে বন দপ্তর সূত্রে জানা যায়। দীর্ঘ প্রায় দু’ঘণ্টার চেষ্টার পর অবশেষে মা হাতির সঙ্গে শাবকটির মিলন ঘটাতে সক্ষম হন বনকর্মীরা।
মাকে দেখে শিশুটি ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করে। অন্যদিকে, সন্তানকে দেখে মাও আত্মহারা। শাবককে কাছে টেনে নিজের কাছে জাপটে ধরে হাতিটি। মা-সন্তানের মিলন মুহূর্ত দেখে চোখে জল দেখা গিয়েছে মৎস্যজীবী, বনকর্মীদের। যেভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই শাবককে মৎস্যজীবীরা উদ্ধার করেছেন, সেটি প্রশংসাযোগ্য। এমনই বলছেন বনকর্মীরা। জানা গিয়েছে, বৈকন্ঠপুর জঙ্গলের দিক থেকে তিস্তা নদী পেরিয়ে মা ও শাবক সরস্বতীপুর চা বাগানের জঙ্গলের দিকে যাবার সময় এই বিপত্তি ঘটে। শেষমেষ মা ও শাবক দুজনেই সুস্থ অবস্থায় জঙ্গলে ফিরে গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
জিমন্যাস্টিক্সে ফাইনালে প্রণতি নায়েক, অব্যবস্থার শিকার, একার লড়াইয়েও চমক বঙ্গকন্যার
-
সাংসদ যেন কৃষক! নিজের বাড়িতে করম পুজোয় মাতলেন জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো
-
‘বন্ধুত্বে’র প্রতিদান! মুকুন্দপুরে মমতাপন্থীদের ‘আক্রান্ত’ হওয়ার প্রতিবাদ কংগ্রেসের, সুগম জোটের পথ?
-
চৈতন্য ও সুলক্ষণা, ২ হস্তিশাবকের নামকরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী, কেন এই নাম? জানালেন নিজেই
-
এবিভিপি-টিএমসিপি সংঘর্ষের জের! ১ মাস বন্ধ বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল! বেরিয়ে গেলেন ছাত্ররা