সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: আর চার দেওয়ালের এনক্লোজারে বন্দিদশা নয়। তিরিশটি চিতল হরিণকে ‘মুক্ত’ করল বনদপ্তর। জঙ্গলে ছেড়ে তাদেরকে ‘স্বাধীনতার’ আনন্দ দিল। শহর পুরুলিয়ার উপকন্ঠে সুরুলিয়া মিনি চিড়িয়াখানায় থাকা ৫১টি হরিণের মধ্যে ৩০টি হরিণকে এই প্রথম রবিবার বান্দোয়ানের যমুনা বনাঞ্চলের কুইলাপাল বিটের নতুনডি জঙ্গলে ছাড়া হয়। এদিন সুরুলিয়া থেকে একটি লরিতে করে এই জঙ্গলে নিয়ে আসে বনদপ্তর। তারপর লরির ডালা খুলতেই এক একটি করে হরিণ তাদের চোখের সামনে বিশাল সবুজ অরন্য দেখে খানিকটা অবাক হয়ে যায়। এরপর মুক্তির আনন্দে গহন জঙ্গলে মিশে যায় হরিণের দল। বন্যপ্রাণের ‘স্বাধীনতা’র এমন আনন্দের ছবি ক্যামেরায় ধরে রাখে বনদপ্তর।
সুরুলিয়ার মিনি চিড়িয়াখানায় দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে চিতল হরিণ। সম্প্রতি তাদের ব্যাপকভাবে বংশবিস্তার হওয়ায় সেখানে তাদের রাখার পরিকাঠামোর সমস্যা ছিল। তাই বেশ কিছুদিন ধরেই চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে জঙ্গলে ছাডার পরিকল্পনা নেয়। কিন্তু এই কাজ তো আর সহজ নয়। সেন্ট্রাল জু অথরিটির গাইডলাইন থেকে শুরু করে চিফ ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন রবিকান্ত সিনহার অনুমতি মেলার পরই এদিন তাদেরকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। যে তিরিশটি হরিণকে ছাড়া হয় তার মধ্যে তেরোটি পুরুষ, পনেরোটি মাদী ও দুটি শাবক। এদিন প্রায় দু’ঘন্টার সফর করে লরিতে সুরুলিয়া থেকে এই জঙ্গলে পা রাখে। লরির চারপাশ খড় দিয়ে বেঁধে তাদেরকে দীর্ঘ ১০০ কিমি পথ নিয়ে আসা হয়। ফলে শরীরে তাদের ধকল থাকলেও লরি থেকে নেমে দু’চোখে সবুজ উপত্যকা দেখে সেদিকেই দৌঁড় লাগায় হরিণের দল। এদিন সুরুলিয়া থেকে হরিণগুলিকে লরিতে তোলার সময় একটি হরিণ খানিকটা ভয় পেয়ে ঝাঁপ দেয়। তাই তাকে শুশ্রুষা করে এখানে নিয়ে আসা হয়। সেই হরিণটিও বাকিগুলির সঙ্গে জঙ্গলে মিশে যায়। এই সুরুলিয়ার চিড়িয়াখানার দায়িত্বে থাকা তথা কংসাবতী উত্তর বনবিভাগের ডিএফও অমৃতা দত্ত বলেন, “শুধু চিড়িয়াখানায় বিপুল সংখ্যক হরিণের বাসস্থানের অভাব নয়। জঙ্গলকে আরও সমৃদ্ধ করতেই আমরা এই কাজ করলাম।”
[অভিনব উদ্যোগ, সংসারে শান্তি বজায় রাখতে শাশুড়ি-বউমা সমাবেশ]
অতীতেও অযোধ্যা পাহাড়ে হরিণ ছেড়েছিল বনদপ্তর। তবে সুরুলিয়া মিনি চিড়িয়াখানা থেকে পুরুলিয়ার জঙ্গলে হরিণ ছাড়া এই প্রথম। যে নতুনডির জঙ্গলে এই হরিণগুলিকে ছাড়া হয় সেই জঙ্গল দক্ষিণ বাঁকুড়ার বারো মাইল জঙ্গলের সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে এই জঙ্গল যেমন ঘন তেমনই এই জঙ্গলে একাধিক জলাশয়ও রয়েছে। যাতে এই বন্যপ্রাণগুলির কোন সমস্যা না হয়। কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগের ডিএফও অসিতাভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই হরিণগুলির ওপর কিছুদিন আমরা নজরদারিও চালাব। কারণ, এরা দীর্ঘদিন চিড়িয়াখানায় থাকায় মানুষের কাছাকাছি যেতে অভ্যস্ত। প্রয়োজনে জঙ্গলে গিয়ে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।”
[কারও কোনও ‘ভবিষ্যত’ নেই! চমকে যাওয়ার মতো ইঙ্গিত বিজ্ঞানের নয়া গবেষণায়]
ছবি: অমিত সিং দেও
সর্বশেষ খবর
-
দলে মধ্যবিত্তই বেশি, নেতৃত্বে পিছিয়ে শ্রমিক-কৃষকরা, ‘সর্বহারা’দের খোঁজে সিপিএম
-
রুশ বন্ধুত্ব বজায় রেখেই যুদ্ধাবসানের পক্ষে, বড় কূটনৈতিক পরীক্ষার মুখে ভারত
-
ফোন আপডেট নিতেই গায়েব হাজার হাজার টাকা! অভিনব প্রতারণার শিকার বর্ধমানের যুবক
-
‘স্বাধীনতা-জীবিকা’র সমার্থক ‘ভাত’, বাম যুবদের মঞ্চে কৃষক-কবি আজিবরের কবিতা ভাইরাল
-
বাণিজ্য যুদ্ধ অতীত! এক দশক পর ফের আমেরিকা সফরে জিনপিং