খেতে লাঙল চালানোর পরিশ্রম অথবা মাঠের ফসল তোলার আনন্দ – সবেতেই সঙ্গী কবিতা। বলছি নদিয়ার করিমপুরের চাষি আজিবর রহমানের কথা। যিনি কবিতা আবৃত্তি করতে করতে চাষাবাদের জন্য রীতিমতো ভাইরাল। সেই কৃষককে এবার দেখা গেল কলকাতায়, বাম যুব সংগঠনের ‘ইনকিলাব’ সমাবেশে। রবিবার ধর্মতলায় ডিওয়াইএফআইয়ের ডাকে বিপুল জনসমাগমে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। শুধু যোগ দেওয়া নয়, মঞ্চে উঠে কৃষকের অধিকার হিসেবে ভাতের দাবিতে সোচ্চার হলেন। তাও কবিতার মধ্যে দিয়েই। তিনি শোনালেন ‘তৃতীয় বিশ্বের কবিতা’। আজিবরের স্বরচিত সেই কবিতার বার্তা এবং আবৃত্তি নতুন করে তাঁকে আবারও ভাইরাল করে তুলেছে।
নদিয়ার করিমপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম কিশোরপুরের বাসিন্দা আজিবর মণ্ডল। অভাবকে সঙ্গী করে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজেও ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু তা আর শেষ করতে পারেননি। বাড়ির ছোট্ট জমিতে শুরু করেন চাষবাস। কিন্তু তাঁর মনপ্রাণ জুড়ে তো শুধুই কবিতা। তাই চাষ করতে করতে কখনও নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, কখনও জীবনানন্দ দাশ, কখনও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কখনও আবার নতুন কবির কবিতা ভিড় করে তাঁর মনে, তা আবৃত্তি করেন আজিবর। এভাবেই তিনি এখন সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সর। লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার তাঁর।
আরও পড়ুন:
গত রবিবার ধর্মতলায় ডিওয়াইএফআই-এর সমাবেশে হাজির হন আজিবর রহমান। আর মঞ্চে উঠে উদাত্ত কণ্ঠে শুরু করেন আবৃত্তি – ‘আমাকে যদি স্বাধীনতার কথা জিজ্ঞেস করেন/ আমি প্রথমেই বলব – ভাত/ যদি জীবিকার কথা জিজ্ঞেস করেন, আমি আবারও বলব ভাত/ যদি মানুষ ও সভ্যতার কথা জিজ্ঞেস করেন, আমি আবারও বলব ভাত…।’ কবিতার শেষাংশের কথা এরকম – ‘ক্ষুধার জন্য যুদ্ধ হয়েছে ঢের/বুলেটের ধারে মেটেনি পেটের জ্বালা/যুদ্ধে বিজয়ী পতাকা জিতেছে ফের/কৃষকের সামনে তবু সেই একই ক্ষুধার থালা।’
কৃষিজীবী হওয়ায় আজিবর বেশ ভালোই জানেন ভাতের লড়াই কতটা কঠিন। চাষির নিজের ফলানো ফসল তাঁরই অধিকার সবচেয়ে কম, সে বিষয়ে সম্যক ধারণা রয়েছে আজিবরের। এও জানেন, কোন রাজনৈতিক দল কৃষকের লাঙলের অধিকার, জমির অধিকারের জন্য ঠিক কী অবদান রেখেছে। সেই রাজনৈতিক চেতনা থেকেই গত রবিবার ধর্মতলায় ডিওয়াইএফআই-এর সমাবেশে হাজির হন আজিবর রহমান। আর মঞ্চে উঠে উদাত্ত কণ্ঠে শুরু করেন আবৃত্তি – ‘আমাকে যদি স্বাধীনতার কথা জিজ্ঞেস করেন/ আমি প্রথমেই বলব – ভাত/ যদি জীবিকার কথা জিজ্ঞেস করেন, আমি আবারও বলব ভাত/ যদি মানুষ ও সভ্যতার কথা জিজ্ঞেস করেন, আমি আবারও বলব ভাত…।’
কবিতার শেষাংশের কথা এরকম – ‘ক্ষুধার জন্য যুদ্ধ হয়েছে ঢের/বুলেটের ধারে মেটেনি পেটের জ্বালা/যুদ্ধে বিজয়ী পতাকা জিতেছে ফের/কৃষকের সামনে তবু সেই একই ক্ষুধার থালা।’ শ্রেণিহীন সমাজের লক্ষ্যে নিরন্তর সংগ্রামের এই জ্বালাময়ী বার্তা দেওয়া আজিবরের কবিতা এখন নতুন করে ভাইরাল। অনেকের টাইমলাইনে তা শোনা যাচ্ছে। এটাই বোধহয় বাম যুব সংগঠনের সমাবেশের সাফল্য।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বার্লিনে লাল ঝড়! নজিরবিহীন সাফল্য অতি বামেদের, জার্মানিতে বাড়ছে ‘হিটলারপন্থী’ দলের দাপটও
-
আবাসের বাড়ির মালিকানা নিয়ে সংসারে জায়ে জায়ে চুলোচুলি! কে হবেন মালিক?
-
দলে মধ্যবিত্তই বেশি, নেতৃত্বে পিছিয়ে শ্রমিক-কৃষকরা, ‘সর্বহারা’দের খোঁজে সিপিএম
-
রুশ বন্ধুত্ব বজায় রেখেই যুদ্ধাবসানের পক্ষে, বড় কূটনৈতিক পরীক্ষার মুখে ভারত
-
ফোন আপডেট নিতেই গায়েব হাজার হাজার টাকা! অভিনব প্রতারণার শিকার বর্ধমানের যুবক