অরিজিৎ গুপ্ত: করোনার আবহে শহরের অন্য পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয় তার জন্য এবার বিশেষ নজর দিচ্ছে হাওড়া পুরসভা। বিশেষত ডেঙ্গুর এই মরশুমে শহরে কারও ডেঙ্গু হচ্ছে কি না, খোঁজখবর নিচ্ছেন পুর স্বাস্থ্যকর্মীরা। করোনা হচ্ছে কি না তা জানার পাশাপাশি ডেঙ্গুর খবরও নিচ্ছেন তাঁরা। করোনার আবহে যাতে নতুন করে ডেঙ্গু না ছড়ায় তার জন্য খোঁজ নেওয়া হচ্ছে অপরিষ্কার নিকাশি নালা ও পরিত্যক্ত জায়গার জমা জলের। যেখানে ডেঙ্গুর মশা জন্মায়, সেরকম জায়গা পরিষ্কারের কাজ ইতিপূর্বেই শুরু করে দিয়েছে পুরসভা। ডেঙ্গু ছাড়াও অন্যান্য নাগরিক সমস্যা সমাধানের জন্যও খোলা হয়েছে পৃথক কন্ট্রোল রুম।
হাওড়া পুরসভা সূত্রে খবর, করোনার আবহে সংক্রামিত এলাকায় বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন পুর স্বাস্থ্যকর্মীরা। বাসিন্দাদের কারও জ্বর হয়েছে কি না তা জানতেই খোঁজখবর নিচ্ছেন তাঁরা। মূলত করোনায় আক্রান্ত কি না তাই তাঁরা জানার চেষ্টা করছেন। এই স্বাস্থ্যকর্মীরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেঙ্গু হয়েছে কি না সেই খোঁজও নিচ্ছেন। একই সঙ্গে জমা জলে যাতে কোনওভাবেই ডেঙ্গুর মশা বাসা বাঁধতে না পারে সে জন্য শহরের ৫৭টি জায়গায় নিকাশি নালা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে পুরসভা। পুরসভার ১১৯৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনার সংক্রামিত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বর হয়েছে কি না সেই খোঁজ নিচ্ছেন। করোনা কিংবা ডেঙ্গু হয়েছে কি না সেই দু’টিই পর্যবেক্ষণে রাখছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
[আরও পড়ুন: RPF জওয়ানের চিকিৎসার জেরে হাসপাতালের সামনে ব্যারিকেড, পুলিশের ভূমিকায় বিরক্ত রেল]
এদিকে করোনায় রেড জেলা হিসেবে চিহ্নিত হাওড়ায় সংক্রামিত এলাকা জীবাণুমুক্ত করার কাজ করছে পুরসভা। পুরসভার গাড়ি গিয়ে রাসায়নিক স্প্রে করে জীবাণুমুক্ত করার কাজ করছে নিত্যদিন। দীর্ঘদিন জ্বর, সর্দি-কাশি নিয়ে ভোগা সন্দেহজনক বাসিন্দাদের লালারসের নমুনাও সংগ্রহ করছেন পুর স্বাস্থ্যকর্মীরা। সেগুলি তাঁরা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছেন। তারপর তা পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শহরের সংক্রামিত এলাকায় পুরসভার তরফে ৩৫টি থার্মাল গান দিয়ে বাসিন্দাদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে।
এছাড়া করোনার জন্য হাওড়া পুরসভায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। এলাকায় করোনা সন্দেহে কেউ ধরা পড়লেই বাসিন্দারা পুরসভার কন্ট্রোল রুমে ফোন করছেন। এমনকী গৃহবন্দি বাসিন্দারা খাদ্যসামগ্রী হোম ডেলিভারির জন্যও ফোন করছেন এই কন্ট্রোল রুমে। বাসিন্দাদের সমস্যা ও চাহিদা মেটাতে ছুটে যাচ্ছেন পুরসভার কর্মীরা। হাওড়া পুরসভায় নতুন দায়িত্ব নেওয়া কমিশনার ধবল জৈন জানালেন, কোভিড ছাড়াও পুরসভার অন্যান্য পরিষেবায় যাতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে তা নজরে রাখা হচ্ছে। সেরকমই ডেঙ্গু মোকাবিলাতেও যাতে পুর পরিষেবা অন্যান্যবারের মতো স্বাভাবিক থাকে তা দেখা হচ্ছে।
[আরও পড়ুন: প্রাপ্যের তুলনায় মিলছে কম খাদ্যসামগ্রী! রেশন ডিলারকে ঘিরে বিক্ষোভ উন্মত্ত জনতার]
সর্বশেষ খবর
-
দু’দিনের চিরুনি তল্লাশির পরও অধরা আকাশ, রোলাহাটুর আগ্নেয়াস্ত্রই এখন গোয়েন্দাদের ‘ক্লু’
-
বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যে দু’নম্বরে উঠে এল আমেরিকা, শীর্ষে চিন, ‘সম্পর্কের শৈত্যে’ কোথায় ভারত?
-
‘যতদিন সনাতনী পতাকা উড়বে, কেউ ভারতের ক্ষতি করতে পারবে না’, হুঙ্কার যোগীর
-
রাতে রাস্তায় বাস থাকলেই জরিমানা! তবে বাসমালিকদের স্বস্তি দিতে নয়া সিদ্ধান্ত অর্জুনের
-
পরপর বোমা ফেলল রাশিয়া, এবার যুদ্ধের আগুন ন্যাটোভুক্ত দেশে! জবাব দেবে সামরিক জোট?