প্রতীক হিসাবে ‘খাম’ বড় গোলমেলে। বলছেন প্রতীকবিদরাই। বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে শব্দটি ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে।
প্রতীকবিদরা গবেষণা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, গুহার মধ্যে আবিষ্কৃত অন্তত ২৬ হাজার বছরের প্রাচীন মানুষের হাতের ছাপ– পৃথিবীর বুকে প্রথম প্রতীক চিহ্ন। মানুষ তখনও আবিষ্কার করেনি বর্ণ ও ভাষা। তার মনের ভাবপ্রকাশের একমাত্র উপায় ছিল ছবি। সে গুহার গায়ে নানা চিহ্ন বা ছবি এঁকে ভাব প্রকাশ করত– যা সে অন্য মানুষকে বোঝাতে চায়। হাতের চিহ্ন তাই আদিমতম প্রতীক।
বিখ্যাত প্রতীকপণ্ডিত টাশেন তাঁর প্রতীক বর্ণনা ও ব্যাখ্যার বই– ‘দ্য বুক অফ সিম্বলস’-এর প্রচ্ছদে ছেপেছেন এমন নিখুঁত ও সুদর্শন একটি মানুষের হাতের ছাপ, যেটিকে মানুষের আদিমতম হস্তচিহ্ন ভাবতে সমস্যা হয়। এই চমৎকার হাতটি আধুনিক যুগের কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতীক হতেই পারে। হেনরি আলেকজান্ডার ওয়েজউড ব্যাখ্যা করেছেন পৃথিবীর কিছু বিখ্যাত প্রতীক, যার বেশিরভাগই প্রকাশ করে প্রতাপ, আধিপত্য, দাপট, অধিকার।
একদা এসব ক্ষমতার প্রতীক এ যুগে ফুটো বেলুনের মতো। যেমন: এক সময়ের ইজিপ্টের পৃথিবীবিখ্যাত সুন্দরী রানি ক্লিওপেট্রার মুকুটে ফণাতোলা কোবরা, আর হাতে দেবী আইসিসের ম্যাজিক নট, যা অলৌকিক, অপরাজেয় ক্ষমতার প্রতীক। জুলিয়াস সিজারের মাথায় লরেলবৃত্ত, যা ঘোষণা করছে তিনি অমর অক্ষয়। যেমন: অ্যাডলফ হিটলারের স্বস্তিকা। বলেছিলেন, এই স্বস্তিকা নিজে ডিজাইন করেছিলেন জার্মান ইম্পেরিয়াল ফ্ল্যাগের তিনটে রং ব্যবহার করে। যদিও সবাই জানত, এই স্বস্তিকা তিনি স্রেফ কোনও শিল্পীকে দিয়ে নকল করিয়েছিলেন হিন্দু আর বৌদ্ধ স্বস্তিকা থেকে। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেনি। হিন্দু আর বৌদ্ধ স্বস্তিকা শান্তির প্রতীক। হিটলারের স্বস্তিকা লক্ষ লক্ষ ইহুদিকে গ্যাসচেম্বারে হত্যা করে হলোকস্টের নিষ্ঠুরতা আর পাপের প্রতীক। হিটলার বলেছেন, ১৯২০ সালে স্বস্তিকা প্রতীকটি তিনিই তৈরি করেছেন ইউরোপকে ইহুদিশূন্য গৌরবর্ণ খঁাটি ‘আর্য রাজ্য’ করে তুলতে, যার মাথায় থাকবে শুধু তাঁর হুংকার!
কিছু প্রতীকবিদের মতে– প্রতীক হিসাবে ‘খাম’ বেশ গোলমেলে। একদিকে ‘খাম’ বোঝায় বার্তা, যোগাযোগ, চিঠি। অন্যদিকে, কিন্তু খামের ইংরেজি ‘এনভেলপ’। অর্থাৎ ঢেকে ফেলো, লুকিয়ে ফেলো, গোপন রাখো। কুয়াশা ঢেকে দেয় সবকিছু, ‘ফগ এনভেলপ্স এভরিথিং’। আর বাংলায়, কাজটা করলে খাম পাবে। এর মানে নিশ্চয়ই প্রত্যুৎপন্নমতি বাঙালিকে বলে দিতে হবে না!
প্রতীকের ইতিহাস সুখের নয়। অধিকাংশ প্রতীক যুগের সঙ্গে রং বদলায়। এখন যে-প্রতীক মানানসই, কিছু দিন পরেই সেই প্রতীক হয়ে উঠতে পারে অসহনীয় বেমানান, বা মূর্তিমান বিদ্রুপ। তাই প্রতীক থেকে দূরে থাকা-ই ভাল। যেমন ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। যেমন ছিলেন সত্যজিৎ। এবং অবশ্যই উত্তমকুমার। প্রতীকী হওয়ার ডাক তঁার কাছে আসেনি, তা তো নয়! কিন্তু প্রতীকের ছায়ায় তিনি দাঁড়াননি। রাজ্যের ভোটযুদ্ধ ঘিরে প্রতীক-বিতর্ক এখন উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। মানুষ হাত সেকছে, স্বাভাবিক।
সর্বশেষ খবর
-
মা-বাবার সুরক্ষার স্বার্থে পরিবারে নতুন সদস্য, কত লাখি গাড়ি উপহার দেবের?
-
বয়সকালে হাড় ভাঙার ঝুঁকি কতটা? কলকাতা মেডিক্যালে জানা যাবে বিনামূল্যেই
-
অস্তাচলে লাল সূর্য! বারাণসীতে এনকাউন্টারে খতম মাও কমান্ডার ব্রিজেশ
-
‘এজেন্সি অতি দ্রুততার সঙ্গে কাজ করলে সন্দেহ হয়’, ফের সিবিআই নিয়ে ‘সংশয়’ প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের
-
ছেচল্লিশেই থামল কলম-কণ্ঠ, প্রয়াত দিল্লির সাংবাদিক পায়েল মেহতা, শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর