সিবিআইকে একসময় খাঁচাবন্দি তোতাপাখি বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। বহুবার শীর্ষ আদালতের বহু রায়ে সিবিআইকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়েছে। এবার ২১ বছরের পুরনো একটি মামলায় ফের শীর্ষ আদালতে সিবিআই নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করল। সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, “সিবিআই যদি অতি দ্রুততার সঙ্গে কাজ করে তাহলে সেটা সন্দেহের উদ্রেক করে।”
মূল মামলাটি ২০০৫ সালের। রেলের এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ২০০৫ সালের ৪ আগস্ট ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেদিনই দুপুর দুটো থেকে সাড়ে চারটের মধ্যে ওই আধিকারিককে হাতেনাতে ধরার জন্য ফাঁদ পাতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই ফাঁদ পেতেও অবশ্য সরাসরি ওই আধিকারিককে টাকা-সহ ধরতে পারেনি সিবিআই। বরং তাঁর হয়ে অন্য এক কর্তা টাকা নিয়েছেন বলে দাবি করা হয় সিবিআইয়ের তরফে।
আরও পড়ুন:
সেই মামলায় অভিযুক্তকে মুক্তি দিয়ে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি এন কে সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ বলল, “কখনও কখনও এজেন্সি এত দ্রুত কাজ করলে সংশয় তৈরি হয়। এক্ষেত্রে যেমন মামলা দায়ের হওয়ার আগে থেকেই সিবিআই ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে ফাঁদ পাতা শুরু করে। সেটা খানিকটা অবাক করার মতো। সন্দেহ হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমরা বলছি না, কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধে ঘুষ ধরার জন্য ফাঁদ পাতা অপরাধ। তবে এত দ্রুততা সন্দেহের জন্ম দেয়।” শীর্ষ আদালত সাফ বলে দিচ্ছে, কোনও সরকারি আধিকারিককে ঘুষের অভিযোগে অভিযুক্ত করতে হলে তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ প্রয়োজন হয়।
২০১৩ সালে কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় প্রথমবার সিবিআইকে ‘খাঁচাবন্দি তোতাপাখি’ বলে কটাক্ষ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেটা ছিল কংগ্রেস জমানা। ১১ বছর পর ২০২৪ সালে ফের সিবিআইকে তোতাপাখি বলে শীর্ষ আদালত। কেন্দ্রে তখন বিজেপি সরকার। অর্থাৎ শাসক বদলালেও নিজেদের ওই ‘তোতাপাখি’ তকমাটা এখনও সরাতে পারেনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ফের সিবিআইয়ের কাজকর্ম নিয়ে সংশয় প্রকাশ করল শীর্ষ আদালত।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পালাবদলের বাংলায় বাড়ছে কাজের চাপ, ছোট হচ্ছে কেশব ভবন! নিউটাউনে নয়া দপ্তর আরএসএসের
-
বেলুড়ে উডল্যান্ডস, চিকিৎসা থেকে ওষুধ, হাতের নাগালে স্বাস্থ্য পরিষেবা
-
রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে আরও বিপাকে হুমায়ুন, এক রাতে গ্রেপ্তার দলের ৪ নেতা
-
অর্ধকালী ও অর্ধদুর্গা রূপে দেবী আরাধনা, বাংলার বনেদি বাড়ির এই পুজোর চমক ‘শত্রুবলি’
-
শৈশবেই বিয়ে অথবা বেশ্যাবৃত্তি! গুজরাটের এই গ্রামে মেয়েদের জীবন আজও ‘নরকসম’