শুধু ‘রিলে’ নয় ‘রিয়েল’-এও দেবের ‘চ্যালেঞ্জ’ সুপারহিট। গত এপ্রিল মাসে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ জমানায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে টলিউডে নিষিদ্ধ তারকাদের কাজে ফেরাতে ৭২ ঘণ্টার ‘ডেডলাইন চ্যালেঞ্জ’ দিয়েছিলেন দেব। যার জেরে অনেকেরই বিরাগভাজন হতে হয় সাংসদ-অভিনেতাকে। কিন্তু ব্যক্তিগত বিষয়ের তোয়াক্কা না করে দেবের ‘ফোকাসে’ বরাবরই ঠাঁই পেয়েছে ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থ। আর ঠিক সেকারণেই সিস্টেমে থেকেও স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বুক ঠুকে লড়াই জারি রেখেছিলেন দেব (Dev)। রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে সাহস দেখিয়েছিলেন বিজেপি সমর্থক শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার। সেই তালিকায় মিঠুন চক্রবর্তী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়-সহ আনেকেই রয়েছেন। ‘দেশু ৭’ ছবিতে অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে (Anirban Bhattacharya) কাস্ট করার নেপথ্যেও কিন্তু কম কাঠখড় পোহাতে হয়নি সুপারস্টার সাংসদকে। সোমবার প্রচারঝলক প্রকাশের দিন লাইভে এসে সেসব কথাই তুলে ধরলেন দেব।
আরও পড়ুন:
“আমাদের দলের একজন বড় নেতা তখন যেভাবে দাপট দেখাচ্ছিল! আমার মনে হয়েছে- যাকে-তাকে তুমি ব্যান করতে পারো না। হিটলারও বেশি দিন…”

‘দেশু ৭’ ছবিতে প্রযোজনা, অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন দেব। তাই ‘জহুরি’র মতো অভিনেতা অনির্বাণের জন্য় লড়ে গিয়েছিলেন তিনি। দেবের কথায়, “ও তো আমাদের ফিল্ম পরিবারেরই এক সদস্য। তুমি কাজ পাচ্ছ না, তোমার যোগ্যতা নেই- সেটা আলাদা কথা, কিন্তু যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তোমাকে ব্যান করে রাখা হয়েছে- সেটা নিয়ে আমার অসুবিধে আছে। বুম্বাদাকেই তখন ট্যাগ করেছিলাম। কারণ উনি সিনিয়র। বুম্বাদা তখন বিষয়গুলো দেখছিলেন। আমাদের দলের একজন বড় নেতা তখন যেভাবে দাপট দেখাচ্ছিল! আমার মনে হয়েছে- যাকে-তাকে তুমি ব্যান করতে পারো না। হিটলারও বেশি দিন চলেনি। আমি শুভশ্রীকে বলেছিলাম- আমরা যদি একসঙ্গে ছবি করি, তাহলে অনির্বাণ থাকবে। তখন সবাই আমার বিরুদ্ধে। আমি সবরকম লড়়াইয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। ওই ‘চ্যালেঞ্জ নিবি না শালা’ মোডে আর কী!” উল্লেখ্য, অনির্বাণের জন্য স্বরূপের সঙ্গে সম্মুখ সমরেও যান দেব। সেকথাই তুলে ধরলেন সোমবারের লাইভে। সেই প্রেক্ষিতেই একাংশের অনুমান, ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ জমানাকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা টেনেছেন সাংসদ-অভিনেতা।
“অনেক বড় বড় প্রোডিউসাররা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল- ‘তুই কি অনির্বাণকে নিচ্ছিস? তাহলে আমরাও কাস্ট করব।’ আমি বলেছিলাম – ‘তোমরা কাস্ট করো, আমার জন্যে বসে আছো কেন?’ তার প্রেক্ষিতে আমায় জানানো হয়-…”

কথোপকথনের মাঝেই দেব ফিরে গেলেন ইন্ডাস্ট্রিতে ‘ব্যান কালচারে’র দিনগুলিতে। জানালেন, “অনির্বাণ আমাকে ফোন করেছিল একদিন। তখন ও আমাকে একটা কথা বলেছিল- ‘বেঁচে আছি ভাই।’ আমি বলেছিলাম – ‘ভাই তোকে মরতে দেব না। না পথে, না পেটে। আমাকে জাস্ট একমাস সময় দে।’ অনির্বাণ হচ্ছে সুপার ট্যালেন্টেড। ও আমাদের ছবির সম্পদ। বুঝতে হবে, কেরিয়ারের মধ্যগগনে একটা মানুষের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বসিয়ে রাখে, সেটা উচিত নয়। সেসময়ে অনেক বড় বড় প্রোডিউসাররা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল- ‘তুই কি অনির্বাণকে নিচ্ছিস? তাহলে আমরাও কাস্ট করব।’ আমি বলেছিলাম – ‘তোমরা কাস্ট করো, আমার জন্যে বসে আছো কেন?’ তার প্রেক্ষিতে আমায় জানানো হয়- ‘আমাদের সিরিয়ালের কাজ আছে, বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ ‘দেশু ৭’ ছবিতে অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে পরিচালনার অভিজ্ঞতা কেমন? এপ্রসঙ্গে দেবে মন্তব্য, “আমি খুব খুশি অনির্বাণের সঙ্গে কাজ করত পেরে। এটা দেশুর সিনেমা হতে পারে, কিন্তু এর আগে কেউ ওকে এভাবে ছবিতে তুলে ধরেনি। সবথেকে বড় কথা, ওকে যে চরিত্র যেভাবে দেওয়া হোক, অনির্বাণ সেটা অনায়াসে করে দিতে পারে। আমার কাছে এই প্রজন্মের সেরা অভিনেতা অনির্বাণ।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
একবারেই কর্মীদের ৭ বছরের বকেয়া ডিএ মেটাবে সরকার, বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের
-
স্থানীয়দের কাঁধে চেপে এলাকা পরিক্রমা, বাংলার এই দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জনেও রয়েছে বিশেষ চমক
-
দক্ষিণেশ্বর থেকে ফেরার পথে অঘটন, ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু পুণ্যার্থীর
-
‘ইন্ডিয়া’র ইলিশ খাব না! ভারত থেকে রুপোলি শস্য আমদানি নিষিদ্ধ করল বাংলাদেশ সরকার
-
অভিষেকের রোষানলে বরখাস্ত! পুলিশের সেই গাড়িচালকের চাকরি ফেরাল হাই কোর্ট