চলতি বছরেই অনাদায়ী ঋণের নয়া রেকর্ড, বাজারে পড়ে ৯.৫৩ লক্ষ কোটি টাকা

মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা, চিন্তায় ব্যাঙ্কগুলি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১২, ২০১৭, ০৫:০৮

options
link
চলতি বছরেই অনাদায়ী ঋণের নয়া রেকর্ড, বাজারে পড়ে ৯.৫৩ লক্ষ কোটি টাকা

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নতুন রেকর্ড হল অনাদায়ী ঋণের ক্ষেত্রে। চলতি বছরে জুন মাসের শেষে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ৯.৫৩ লক্ষ কোটি টাকা। এই পরিসংখ্যান থেকে এটা স্পষ্ট যে, অনাদায়ী ঋণ আদায় বা নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে সরকার কার্যত ব্যর্থ। এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে অনাদায়ী ঋণই সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় সমস্যা। তথ্য জানার অধিকার আইনে করা এক প্রশ্নের উত্তরে এই তথ্য জানা গিয়েছে।
গত বছর নোট বাতিলের পর জিডিপি বৃদ্ধির হার কমেছে। ধাক্কা খেয়েছে শিল্পোৎপাদন। সেভাবে নতুন কোনও শিল্প গড়ে ওঠেনি। ফলে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়নি। বরং নোট বাতিলের জেরে কিছু মানুষ কাজ খুইয়েছেন। এ সবের জেরে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনায় সরব বিরোধীরা। কথায় বলে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই পরিসংখ্যান একদিকে যেমন সরকারের বিড়ম্বনা বাড়াবে তেমনই বিরোধীদের জোগাবে সমালোচনার এক নতুন অস্ত্র।

Advertisement

[দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধি পাওয়া দেশের তকমা হারাচ্ছে ভারত, IMF-এর রিপোর্ট]

কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, বিভিন্ন ব্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে। বাজারে পড়ে থাকা এই বিপুল পরিমাণ টাকা কীভাবে আদায় হবে সেটাই এখন ব্যাঙ্কগুলির প্রধান চিন্তা। চলতি বছরে ৩০ জুন বা বছরের প্রথম ছয় মাসে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৪.৫ শতাংশ। এ দেশে বিভিন্ন সংস্থার মূলধনের প্রধান উৎসই হল ব্যাঙ্ক। ব্যাঙ্কগুলি প্রদত্ত ঋণের টাকা আদায় করতে না পেরে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। যার ফলে নতুন করে বিভিন্ন মাঝারি ও ক্ষুদ্র সংস্থা চেয়েও ঋণ পাচ্ছে না। ফলে তারা নতুন ব্যবসা শুরু বা পুরনো ব্যবসার সম্প্রসারণ করতে পারছে না। ফলশ্রুতিতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান মার খাচ্ছে। কমছে বৃদ্ধির হার। এই পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বের হওয়া যায় সে বিষয়ে মোদি সরকার এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বিভিন্ন পদক্ষেপ করলেও তেমন আশাপ্রদ কোনও ফল মেলেনি। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই পরিসংখ্যান সে কথাই বলছে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

আরবিআইয়ের দাবি, এই মুহূর্তে ব্যাঙ্কগুলির যে টাকা অনাদায়ী পড়ে রয়েছে সেই টাকা উদ্ধার হলে কমপক্ষে ৮টি রাজে্যর গরিব কৃষকদের ঋণ মকুব করা সম্ভব হত। এখানেই শেষ নয়, ৮ রাজ্যের গরিব কৃষকদের ঋণ মকুব করার পরেও ব্যাঙ্কগুলির হাতে ৩২ শতাংশ টাকা উদ্বৃত্ত হত। পরিসংখ্যান বলছে, এই মুহূর্তে স্টেট ব্যাঙ্কের সবচেয়ে বেশি ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি অনাদায়ী অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যা মোট অনাদায়ী ঋণের ২৭ শতাংশ। অনাদায়ী ঋণের পরিমাণের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক। পিএনবি-র অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই দুই ব্যাঙ্কের মোট অনাদায়ী ঋণের প্রায় ৪০ শতাংশ।

Advertisement

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.