ছাত্র আন্দোলনে বিরোধী দলগুলির প্রবেশ। প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে রাহুল গান্ধীর ধরনা। দেশজুড়ে আলোড়ন। কিন্তু তাতে কি আদৌ লাভ হল? প্রশ্ন উঠে গেল বিরোধী শিবিরের অন্দরেই। সূত্রের খবর, বিরোধীদের একটা বড় অংশ মনে করছে অহেতুক রাজনীতির প্রবেশে খামোখা ছাত্র আন্দোলন কলুষিত হচ্ছে। তাছাড়া সংগঠিতভাবে বিরোধীরা আসরে নামায়, সেটা দমন করতে সুবিধা হচ্ছে সরকারেরই।
আরও পড়ুন:
প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা, শিক্ষাব্যবস্থায় দায়বদ্ধতা সুনিশ্চিত করার মতো একাধিক ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP Protest Delhi)। অনশন করেছেন সোনম ওয়াংচুক। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদের ওই আন্দোলন থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিল দেশের মূলধারার বিরোধী দলগুলি। ইতিউতি বিরোধী দলের নেতারা বিক্ষোভস্থলে গিয়েছেন, কেউ নিজের উদ্যোগে, কেউ দলের নির্দেশে। কিন্তু সার্বিকভাবে প্রায় সব দলই আরশোলাদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছিল দীর্ঘদিন। পরিস্থিতি বদলায় গত সপ্তাহের শেষের দিকে। সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ বিক্ষোভস্থল থেকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে গেলে একযোগে আসরে নেমে পড়ে বিরোধীরা। সোমবার ছাত্রদের সংসদ অভিযানে পুলিশ লাঠিচার্জ করার পর বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী নিজে পথে নেমে যান। সোজা গিয়ে ধরনায় বসে পড়েন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে।

বিরোধী শিবিরের একটা বড় অংশ মনে করছে, রাহুলের ওই ধরনা এবং তারপর দিল্লি পুলিশ যেভাবে তাঁকে টেনে হেঁচড়ে তুলে নিয়ে গিয়েছে, তাতে হয়তো কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতা কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু সার্বিকভাবে আন্দোলনের ক্ষতি হয়েছে। এতদিন পড়ুয়ারা দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণির সমর্থন পাচ্ছিলেন, জনরোষের বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছিল তাঁদের আন্দোলনে। অরাজনৈতিক আন্দোলন হওয়ায় কিছুটা চাপে ছিল সরকারও। এবার বিক্ষোভে রাজনীতির রং লেগে যাওয়ায় সরকার পুরো আন্দোলনকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দেগে দিতে পারছে। তাছাড়া বিজেপির বিরাট আইটি সেল সার্বিক আন্দোলনকে সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র, ডিপ স্টেটের বৃহত্তর অরাজকতার ছক, বিদেশি ফান্ডিংয়ের ফল হিসাবে দেগে দিতে পারছে রাজনীতির অনুপ্রবেশের ফলেই। তাছাড়া যেভাবে কংগ্রেস কার্যত একাই এই আন্দোলনের ‘ফসল’ ঘরে তোলার চেষ্টা করছে তাতেও অসন্তুষ্ট বিরোধীদের একাংশ।
কিন্তু এই পরিস্থিতিতে ককরোচদের সঙ্গ ছাড়াটাও সমীচীন নয়। তাই আগামী দিনে আন্দোলন কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে বিরোধী শিবিরের আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, বিরোধী শিবির চাইছে আগামী দিনে যা-ই সিদ্ধান্ত হোক, সেটা সম্মিলিতভাবে নেওয়া হবে। ককরোচদের আন্দলনে সরাসরি যোগ দেওয়া হবে নাকি অন্য কোনওভাবে পাশে দাঁড়ানো হবে, সবটাই আলোচনা করছে বিরোধী শিবির। তবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী দিনে যা-ই হোক, সেটা হবে সম্মিলিতভাবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘মফঃস্বলের ছেলের দেশ জয়’, লালবাগচার পায়ে জাতীয় পুরস্কার ঠেকিয়ে আশীর্বাদধন্য কার্তিক আরিয়ান
-
নেই স্মার্টফোন, তবু প্রতি মাসে বইতে হচ্ছে ইন্টারনেটের খরচ! এয়ারটেল-ভিকে কড়া নির্দেশ কেন্দ্রের
-
ঝাড়গ্রামে হরিণের রহস্যমৃত্যু! চোরাশিকারিদের থাবা? তদন্তে বনদপ্তর
-
পুজোর আগে ঘন মজবুত চুল চান? প্রসাধনী নয়, স্রেফ জমিয়ে খান এই বিশেষ লাড্ডু
-
দু’মাস বেতনহীন কলকাতা পুরসভা! টাকা পাচ্ছেন না ১০০ দিনের কাজের ১৫ হাজার পুরকর্মী