সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দেখতে দেখতে বছর পার। আম্মাহীন হয়েছে দ্রাবিড়ভূমি। তামিল রাজনীতির লৌহমানবী জয়ললিতার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী বেশ ঘটা করেই পালিত হচ্ছে রাজ্যে। শুধু সেই রাজ্যেই নয়। আম্মার জনপ্রিয়তা তো গোটা দাক্ষিণাত্যে। সেই জয়ললিতার জন্য স্মৃতিমেদুর আট থেকে আশি। কিন্তু গত একবছরে তামিল রাজনীতিতে বিস্তর নাটকীয় পটপরিবর্তন হয়েছে। বহু সম্পর্ক যেমন ভেঙেছে, তেমনই গড়েছেও। বহু নক্ষত্রের পতন আবার তারকার উত্থান। সবকিছুরই সাক্ষী থেকেছেন দক্ষিণের এই রাজ্যের মানুষ। তাঁর মৃত্যু নিয়ে এখনও রহস্যের গন্ধ পান অনেকে। আবার অনেকেই তাঁর মৃত্যুর ফায়দা লুটেছেন ঘোলা জলে মাছ ধরে। এমন বেশ কিছু ব্যক্তিত্বের উত্থান-পতনের খতিয়ান রইলো এই প্রতিবেদনে। গত একবছরে অনেকটাই বদলেছে এঁদের জীবন।

শশীকলা নটরাজন- তিন দশকের ছায়াসঙ্গী। অকৃতদার আম্মার যাবতীয় সবকিছুর উপর অধিকার ছিল তাঁরই। এমনটাই দাবি করেছিলেন শশীকলা। এআইএডিএমকে-র তরফ থেকেও শীর্ষ নেতৃত্ব মেনে নিয়েছিল সে উত্তরাধিকার। তাই দলীয় সিদ্ধান্ত মেনেই আম্মার গদিতে বসেছিলেন শশীকলা। তারপর সর্বসম্মতভাবে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত। চিত্রনাট্য মেনেই চলছিল সবকিছু। কিন্তু বাদ সাধল আদালত। সম্পত্তি মামলায় হেরে গিয়ে বিপাকে পড়া। তারপর ৪ বছরের কারাদণ্ড তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নে জল ঢেলে দেয়। ভূপতিত হন শশীকলা।

টি টি দিনাকরণ- শশীকলা জেলে যেতেই আচমকা তাঁর আবির্ভাব। ভাইপোর ছড়ি ঘোরানো শুরু। দলের নেতৃত্বের রাশ নিজের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। শশীকলার গদিতে বসতে কোনও কসুর রাখেননি। তারপর জয়ললিতার বিধানসভা কেন্দ্র আর কে নগর থেকে নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু চালে ভুল হয়ে যায় কিঞ্চিৎ। শীর্ষ নেতাদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে দল থেকে তো সাইডলাইন হলেনই, তার সঙ্গে আদালতের রায়ে নির্বাচনী চিহ্ন জোড়া-পাতাও হাতছাড়া হয়। এখন নতুন করে রণকৌশল সাজাচ্ছেন দিনাকরণ।

এদাপাদ্দি কে পালানিস্বামী- ঘোলা জলে মাছ ধরতে গিয়ে যদি কেউ লাভবান হয়ে থাকেন তবে ইনি সেই। শশীকলা জেলে যেতেই গলি থেকে রাজপথে উত্তরণ হয় তাঁর। একদা বিশ্বস্ত পালানির উপরই ভরসা রাখে দল। তখন দলনেতার ক্রাইসিস। হাল ধরবে কে? পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উত্থান তাঁর। সর্বসম্মতভাবে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত। কিন্তু তাতেও জল ঢালার চেষ্টা শশীকলার পরিবর্ত দিনাকরণ শিবিরের। শশীকলার চক্ষুশূল পন্নিরসেলভম শিবিরের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে ক্ষমতায় টিকে থাকা। একইসঙ্গে জোড়া পাতা চিহ্নও পকেটে রাখা। গত একবছরে শূন্য থেকে উচ্চতার শিখরে উত্তরণ মানে পালানিস্বামীর নামই বলতে হয়।

ও পন্নিরসেলভম- আর একটু হলেই ট্র্যাজিক রাজার পরিণতি হচ্ছিল তাঁর। আম্মার চরণ পদকমলে অবস্থান ছিল তাঁর। জয়ললিতার মৃত্যুর পর কার্যনির্বাহী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। কিন্তু শশীকলা পিঠে ছোড়া মারতে পারেন সেই আশঙ্কা ছিলই। শেষে ক্ষমতাও ছাড়তে হয় তাঁকে। কিন্তু শশীকলার জেলযাত্রা সাপে বর হয় তাঁর। পালানিস্বামীর কৃপায় ফের পাদপ্রদীপে চলে আসা এবং উপমুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন তিনি। বলা যায়, জয়ার মৃত্যুর পর গত একবছরে প্রথমে উত্থান, তারপর হারিয়ে যাওয়া আবার নবরূপে উত্থান তাঁর।

জে দীপা- জয়ললিতার জমানায় তাঁর কোনও অস্তিত্বই ছিল না। কিন্তু আম্মার মৃত্যুর পরই ঘোলা জলে মাছ ধরতে চলে আসেন তাঁর ভাইঝি। জয়ার সম্পত্তির উত্তরাধিকার দাবি করে মামলা-মোকদ্দমার পথে হাঁটেন। কিন্তু শশীকলার ছলা-কলার কাছে কার্যত হার স্বীকার করে ফের উধাও হয়ে গিয়েছেন। গত একবছরে উত্থান হতে হতেও হল না তাঁর।

কমল হাসান- রজনীকান্তের পর তামিল ইন্ডাস্ট্রির মহিরুহ বলা চলে তাঁকে। এহেন ব্যক্তি রাজনীতিতে মাথা গলাবেন না তা কখনও হয়? তাও আবার দ্রাবিরভূমিতে, যেখানে চলচ্চিত্রমহল এবং মূলধারার রাজনীতি একসূত্রে গাঁথা। প্রথা অনুযায়ী রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ। তামিল সম্প্রদায়ের হয়ে বিতর্ক-আলোচনায় অংশগ্রহণ। কিন্তু নির্বাচনী রাজনীতিতে আছেন কি? সেক্ষেত্রে ধরি মাছ না ছুঁই পানি অবস্থান তাঁর। কোনও দলে যোগ দেবেন নাকি চিরঞ্জিবীর মতো নিজের দল গড়বেন, তাও খোলসা করছেন না। কিন্তু তিনি আছেন। মানুষের কন্ঠ হয়ে। আম্মার মৃত্যুর একবছর পর তামিলনাড়ুতে সংবাদের শিরোনামে তিনি। একে উত্থান ছাড়া আর কি বলা যায়?

বিশাল- রজনীকান্ত, কমল হাসানদের তুলনায় নবীন। তো কী? চল্লিশেই দক্ষিণ ভারতীয় শিল্পীদের সংগঠন নাদিগার সঙ্গমের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। বলা যায়, রাজনীতিতে আসব আসব করছেন। জাল্লিকাট্টু আন্দোলনের সময় ধরনা-বিক্ষোভ সমাবেশে বসেন। ফ্যান ফলোয়ার মারাত্মক। তাই জননেতা হওয়ার সব গুণই বর্তমান। জয়ললিতার মৃত্যুর পর একবছরে মধ্যমবর্গীয় থেকে উচ্চতার শিখরে উন্নীত হয়েছেন।
সর্বশেষ খবর
-
দলে মধ্যবিত্তই বেশি, নেতৃত্বে পিছিয়ে শ্রমিক-কৃষকরা, ‘সর্বহারা’দের খোঁজে সিপিএম
-
রুশ বন্ধুত্ব বজায় রেখেই যুদ্ধাবসানের পক্ষে, বড় কূটনৈতিক পরীক্ষার মুখে ভারত
-
ফোন আপডেট নিতেই গায়েব হাজার হাজার টাকা! অভিনব প্রতারণার শিকার বর্ধমানের যুবক
-
‘স্বাধীনতা-জীবিকা’র সমার্থক ‘ভাত’, বাম যুবদের মঞ্চে কৃষক-কবি আজিবরের কবিতা ভাইরাল
-
বাণিজ্য যুদ্ধ অতীত! এক দশক পর ফের আমেরিকা সফরে জিনপিং