সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের কোথাও ডিটেনশন ক্যাম্প নেই। সারা দেশে বিক্ষোভের মুখে রবিবারই দিল্লিতে বিজেপির জনসভায় এমনই দাবি তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অথচ বিজেপিশাসিত কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে বেআইনি অভিবাসীদের জন্য খুলে গিয়েছে রাজ্যের প্রথম ডিটেনশন শিবির। বেঙ্গালুরু থেকে ৪০ কিমি দূরে নেলামাঙ্গলায় তৈরি হয়েছে এই ডিটেনশন ক্যাম্প।
রবিবার রামলীলা ময়দানের সভায় প্রস্তাবিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দেশে কোথাও কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প নেই। অথচ রাজ্যের সমাজকল্যাণ দপ্তরের কমিশনার আর এস পেদ্দাপ্পাইয়া জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যে সেই শিবির তৈরি হয়ে গিয়েছে। বেআইনি অভিবাসীদের রাখার জন্য ওই শিবির পুরোদস্তুর প্রস্তুত। চলছে শেষ পর্যায়ের কাজ। বেঙ্গালুরুর সোন্দেকোপ্পা গ্রামে উঁচু পাঁচিলে ঘেরা। পাঁচিলের উপর কাঁটাতারের বেড়া। ক্যাম্পের দুই প্রান্তে রয়েছে দু’টি সুরক্ষা টাওয়ার। ইংরেজি অক্ষর এল আকৃতির ডিটেনশন ক্যাম্পের ভিতর রয়েছে ২৪টি শয্যাবিশিষ্ট ছ’টি ঘর। একটি রান্নাঘর ও একাধিক শৌচালয়। নিরাপত্তারক্ষীদের থাকার বন্দোবস্ত। এখন স্টাফ কোয়ার্টারের কাজ চলছে। ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢোকার মুখেই রয়েছে পুলিশি পাহারা। ভিতরে রয়েছে আঁটসাঁট নিরাপত্তা।
[আরও পড়ুন: ‘প্রধানমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন’, NRC নিয়ে ঢোক গিললেন অমিত শাহ]
প্রথমে ঠিক হয়েছিল, জানুয়ারি মাসে শিবির খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু হঠাৎ দিনক্ষণ এগিয়ে আনা হয়। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে এই মর্মে নির্দেশ আসে। কয়েকদিন আগে চালু হলেও এখনও সেখানে কোনও বেআইনি অভিবাসীকে রাখা হয়নি। পেদ্দাপ্পাইয়া জানিয়েছেন, “দ্য ফরেন রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস বেআইনি অভিবাসীদের চিহ্নিত করে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাবে। এটা ওদের দায়িত্ব। আমরা শুধু পরিকাঠামো ও প্রয়োজনীয় কর্মীর ব্যবস্থা করেছি।” সরকারি নির্দেশে সমাজকল্যাণ দপ্তরের একটি ছাত্রাবাসকে ডিটেনশন সেন্টারে বদলে ফেলা হয়েছে।
২০১৮ সালের আগস্টে ১৫ জন অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার হয় কর্নাটকে। হাই কোর্ট তাদের রাখার বন্দোবস্ত করার নির্দেশ দেয় রাজ্য সরকারকে। তারপর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশের পর রাজ্য সরকার ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির তোড়জোড় শুরু করে। নভেম্বরে হাই কোর্টকে রিপোর্ট দিয়ে রাজ্যজুড়ে ৩৫টি অস্থায়ী ডিটেনশন ক্যাম্পের জায়গা চিহ্নিত করার কথাও জানায়। সরকারি সূত্রের খবর, বিভিন্ন দেশের ৮৬৬ জনের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্ট এবং অন্যান্য আইনে ৬১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
[আরও পড়ুন: গুরুত্ব পেল না রাজ্যের আপত্তি! কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় পাশ এনপিআর আপডেটের প্রস্তাব]
সর্বশেষ খবর
-
নাসিরুদ্দিন শাহ, জিম সর্ভের দ্বৈরথে কতটা জমল ‘মেড ইন ইন্ডিয়া: এ টাইটান স্টোরি’? পড়ুন রিভিউ
-
‘দেড় বছরের নাতনি রোজ মোদি-নাম জপে’, রাহুল-আথিয়াকন্যার ‘সিক্রেট’ ফাঁস দাদু সুনীল শেট্টির
-
‘বেকার গৌরব চা-সিগারেটের টাকাও নিত অন্তরার থেকে, খ্যাতি পেতেই বাড়ায় দূরত্ব’, গোপন তথ্য ফাঁস ‘বন্ধু’দের
-
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়েই আইরিশ দলে, টিম ইন্ডিয়াকে উড়িয়ে দেওয়া কে এই ‘ভারতীয়’ বোলার?
-
বসিরহাটে দ্রুত উপনির্বাচনের দাবি বিজেপির, শুরু প্রস্তুতিও