১০ বছর পর মার্কিন মুলুক থেকে ফেরত এল ছেলে, পেল মায়ের কঙ্কাল!

একাকীত্ব নিয়েই মৃত্যুর কোলে মা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৭, ২০১৭, ১০:৫৪

options
link
১০ বছর পর মার্কিন মুলুক থেকে ফেরত এল ছেলে, পেল মায়ের কঙ্কাল!

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বড্ড দেরি করে ফেলেছিলেন তিনি। আর সেটা বুঝলেন এক বছর ৪ মাস পরে। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসের পর থেকে মায়ের সাথে কথা বলা সময় পাননি আমেরিকা প্রবাসী ঋতুরাজ সাহনি। ফিরে হয়তো মনে পড়েছিল মায়ের কথা। তাই মুম্বইয়ের ওশিওয়াড়ার ফ্ল্যাটে মাকে দেখতে গিয়েছিলেন ঋতুরাজ। কিন্তু বার বার কলিং বেল বাজিয়েও, কোনও সাড়া মেলেনি। পরে বিকল্প চাবির ব্যবস্থা করে ফ্ল্যাটের ভিতর ঢোকেন তিনি। তারপর যা চোখে পড়ল, তা স্বপ্নেও হয়তো কল্পনা করতে পারেননি তিনি। তিনি দেখেন পড়ে আছে মায়ের কঙ্কাল।

Advertisement

[গিজা পিরামিডের মধ্যে গোপন কক্ষ, লুকিয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি?]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

আতঙ্কিত ঋতুরাজ খবর দেন পুলিশে। পুলিশ এসে ঘটনার তদন্তে নেমে প্রাথমিকভাবে জানায়, দেহ উদ্ধারের দিন থেকে, সপ্তাহ খানেক আগেই মারা গিয়েছেন ওই ৬৩ বছরের মহিলা। তবে পোস্ট মর্টেমের রিপোর্ট পেলে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।তবে মহিলার মৃত্যুর পর দেহের পচা গলা গন্ধ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। ফলে রহস্য দানা বাঁধছেই। এদিকে, আপাতত পুলিশ মনে করছে, স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ওই মহিলার। কারণ আপাতভাবে মহিলার দেহে কোনও ক্ষত চিহ্ন নেই।

Advertisement

[টানটান গোয়েন্দা গল্পকেও হার মানাবে কলকাতা পুলিশের ‘রহস্য রবিবার’]

ফ্ল্যাটটিতে একাই থাকতেন ঋতুরাজের মা। শেষের কয়েক বছর তিনি রীতিমতো মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। ১৯৯৭ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে শুরু করেন ঋতুরাজ। ছেলে ও মায়ের শেষবার কথোপকথন হয় ফোনে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে। তখনই নাকি ওই মহিলা ছেলেকে জানিয়েছিলেন তাঁর ওই ফ্ল্যাটটিতে বড্ড একা লাগে। তাঁকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে দেওয়ার জন্যও ছেলেকে বলতে থাকেন ওই মহিলা। তবে তারপর আর ছেলের সাথে যোগাযোগ হয়নি।

[মনুয়া কাণ্ডের ছায়া, প্রেমিকের সাহায্যে স্বামীকে খুনে ধৃত স্ত্রী-সহ ]

ওশিওয়াড়া থানার সিনিয়র ইন্সপেক্টর সুভাষ খানভিলকর বলেছেন, ২০১৩ সালে আশা সাহানি নামে ৬৩ বছর বয়সি ওই মহিলার স্বামীর মৃত্যু হয়। এরপর থেকে তিনি এই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। তাঁর ছেলে ১৯৯৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান। গত বছরের এপ্রিলে মা-ছেলের শেষবার কথা হয়। সেইসময় আশাদেবী তাঁর একাকীত্বের কথা ছেলেকে জানান। এমনকি বৃদ্ধাশ্রমে চলে যাওয়ার আরজিও জানান তিনি।

[ফেসবুকে ছাত্রীর ভুয়ো প্রোফাইল বানিয়ে কুরুচিকর পোস্ট, পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ]

খানভিলকর আরও বলেছেন, ওই আবাসনের ১০ তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন আশাদেবী। সেই তলায় মাত্র দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। দুটিই তাঁদের। অন্যান্য তলার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, কোনও পচনের গন্ধ পান নি তাঁরা।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.