ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ‘ইউপিআই’। নগদ টাকার ঝক্কি কমিয়ে, ব্যাঙ্কে না গিয়েও মুহূর্তের মধ্যে লেনদেনের সুযোগ তৈরির এই ব্যবস্থা শহর থেকে গ্রাম- সর্বত্র সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনকে অনেক সহজ করেছে। ছোট দোকান, বাজার, পরিবহণ, পরিষেবা সমস্ত ক্ষেত্রেই ‘ইউপিআই’ এমন এক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, যাকে এখন অগ্রাহ্য করার কথা ভাবাটাই কঠিন। ফলে ‘ইউপিয়াই’ ব্যবহারে মাশুলের প্রশ্ন উঠলে তার প্রথম বিচার্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের উপর তার কী প্রভাব পড়বে। ২ হাজার টাকার বেশি পণ্য বা পরিষেবা কেনার ক্ষেত্রে ইউপিআই’-এর মাধ্যমে
ব্যবসায়ীকে অর্থপ্রদানের উপর ০.৪ শতাংশ ‘এমডিআর’ নির্ধারণের সিদ্ধান্তটি সেই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ।
হাজার টাকা বা তার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মাশুল ৩০০ টাকা নির্ধারণ হয়েছে। তবে এই মাশুল সরাসরি গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়ার কথা নয়, এবং বাক্তি থেকে ব্যক্তির ইউপিআই লেনদেনও এর আওতার বাইরে। অর্থাৎ নীতিগতভাবে প্রতিদিনের ছোটখাট কেনাকাটা, যা সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি করে, তার উপর নতুন আর্থিক চাপ না দেওয়ার একটি সুরক্ষাকবচ রাখা হয়েছে। ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনেও মাশুল না থাকার বিষয়টি তাই গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
বিশ্বজুড়ে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রেও ভারতের ‘ইউপিআই’ একটি বড় অংশ দখল করেছে।
আরও পড়ুন:
‘ইউপিআই’-এর সাফল্যের মূল করণটি হল- এর সহজলভ্যতা এবং প্রায় বিনা খরচে ব্যবহারের সুযোগ। এই ব্যবস্থায় এমন কোনও পরিবর্তন উচিত নয়, যাতে সাধারণ মানুষ আবার নগদের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনে সামান্য অতিরিক্ত খরচও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই ‘এমডিআর’ ব্যবসায়ীদের উপর ধার্য হলেও তার বোঝা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম বাড়িয়ে গ্রাহকের ঘাড়েই এসে পড়বে, এমন আশঙ্কা থাকছে। একই সঙ্গে ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও খরচের বিষয়টি বাস্তব। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার পরিকাঠামো, ব্যাঙ্কিং পরিষেবা, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে অর্থের প্রয়োজন হয়। ২০১৬-‘১৭ থেকে ২০২৫-২৬ সময়পর্বে ‘ইউপিআই’ লেনদেনের পরিমাণ বিপুল হারে বেড়েছে এবং বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬৬ কোটি লেনদেন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রেও ভারতের ‘ইউপিআই’ একটি বড় অংশ দখল করেছে। তাই এর ভবিষ্যৎ ঠিক করার সময় ব্যাঙ্ক, আর্থিক প্রযুক্তি সংস্থা কিংবা সরকারের আর্থিক স্বার্থের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন সেই কোটি কোটি মানুষকে, যারা প্রতিদিন এই ব্যবস্থার উপর নির্ভর করছেন। পরিষেবার স্থায়িত্ব এবং সাধারণ মানুষের সাশ্রয় দুইয়ের মধ্যে ভারসামা তৈরি করাই ‘ইউপিআই’ নীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ব্যবসায়ীরা যাতে বেআইনিভাবে গ্রাহকের কাছ থেকে এই মাশুল আদায় না করেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট বিধি এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থ্য থাকা দরকার।
সর্বশেষ খবর
-
‘দ্রুঝবাদোস্তি’, মোদির জন্মদিন ঢালাও প্রশংসায় শুভেচ্ছাবার্তা পুতিনের, চাকা ঘুরছে বৈশ্বিক কূটনীতির!
-
‘এভাবে হিন্দি দূরে সরিয়ে রাখা যায় না’, ‘আগ্রাসন’ প্রশ্নে তামিলানাড়ু সরকারকে একহাত সুপ্রিম কোর্টের
-
বাতাসে বিষ! কারখানার দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ, ‘তৃণমূল জমানার বদভ্যাস বরদাস্ত নয়’, হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রার
-
‘অন্তত দেড় মাস টাকা থাকবে’, বিজেপি ছাড়ার পর শেহওয়াগের কাছে ‘চাকরি’ করছেন মুখপাত্র!
-
কমছে না গালের দাগছোপ? টোটকা বাতলালেন সুনীলকন্যা আথিয়া, ৭ দিনেই ভোল পালটে যাবে