Ram Mandir Donation Theft Case

‘চুরির পরও লজ্জা নেই, দুর্নীতিগ্রস্তদের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত’, রাম মন্দির বিতর্কে বলল হাই কোর্ট

দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়ে বিচারপতি অতুল শ্রীধরন বললেন, 'রাম মন্দিরের টাকা চুরি করতেও মানুষের লজ্জা হয় না, এটা সততার সর্বনিম্ন স্তর।'

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২২, ২০২৬, ১৬:৪৫

options
link
‘চুরির পরও লজ্জা নেই, দুর্নীতিগ্রস্তদের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত’, রাম মন্দির বিতর্কে বলল হাই কোর্ট
দুর্নীতিগ্রস্তদের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত, বলল আদালত।

রাম মন্দিরে চুরির (Ram Mandir Donation Theft Case) প্রসঙ্গ তুলে বিস্ফোরক মন্তব্য এলাহাবাদ হাই কোর্টের। দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়ে বিচারপতি অতুল শ্রীধরন বললেন, ‘রাম মন্দিরের টাকা চুরি করতেও মানুষের লজ্জা হয় না, এটা সততার সর্বনিম্ন স্তর।’ একইসঙ্গে দুর্নীতিগ্রস্তরা দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে সওয়াল করেন বিচারপতি।

Advertisement

উত্তরপ্রদেশে বুলডোজার অভিযানের বিরুদ্ধে সুরক্ষা চেয়ে সম্প্রতি এলাহাবাদ হাই কোর্টে দায়ের হয়েছিল মামলা। সেই শুনানি চলাকালীন দেশের প্রতিষ্ঠানগুলিতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রসঙ্গ উঠে আসে। রাম মন্দিরে চুরির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিচারপতি শ্রীধরন বলেন, ‘অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ভারতীয়রা এখন দুর্নীতিকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছে। ধরা না পড়লে বিষয়টিকে আর অপরাধ হিসেবে মনে করা হয় না।’ তিনি বলেন, ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ২০২৫-এর প্রতিবেদনে ১৮২টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ৯১। এরপরও আমাদের কোনও লজ্জা নেই।’ এর সঙ্গেই যোগ করেন, ‘রাম মন্দিরে সাম্প্রতিক চুরির ঘটনা ভারতীয়দের সততার সর্বনিম্নস্তর। তারপরও যারা বিচলিত নন, তাঁদের আর কোনও কিছুতেই লজ্জা নেই।’

Advertisement

বিচারপতি বলেন, ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ২০২৫-এর প্রতিবেদনে ১৮২টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ৯১। এরপরও আমাদের কোনও লজ্জা নেই।’

ভারতীয় সমাজে দুর্নীতি যেভাবে গা-সওয়া হয়ে উঠেছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিচারপতি। বলেন, “১৯৮৮ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত সরকারের। দুর্নীতির অপরাধে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার শাস্তি হওয়া উচিত মৃত্যুদণ্ড।” পাশাপাশি বুলডোজার অভিযানের বিরুদ্ধেও সরব হন বিচারপতি। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও নির্বিচারে ভাঙচুর চলছে। যেন রায়গুলোর কোনও অস্তিত্বই নেই, অথবা রাষ্ট্র নিশ্চিত যে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করলেও বিশেষ সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না তাদের।” আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘অসৎ নেতা ও আমলাদের ঘুষ দিয়ে বেআইনি বাড়ি যখন তৈরি হয় তখন প্রশাসন চুপ করে দেখে। সেগুলি কেনার পর সমস্যার মুখে পড়তে হয় নাগরিকদের।’

Advertisement

উল্লেখ্য, রাম মন্দিরে ভক্তদের অনুদান চুরির ঘটনায় সাড়া পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। মামলার তদন্তে নেমে একাধিক জনকে আটক করেছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের জেরা করে জানা গিয়েছে, প্রথমে দুই হাজার টাকা করে চুরি করত তাঁরা। বেশ কয়েকদিন ধরে কেউ তাদের সন্দেহ বা প্রশ্ন করেনি, এরপর নির্ভয়ে টাকার বান্ডিল চুরি করতে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে একদিনে যতটা সম্ভব টাকা গায়েব করা হত। পকেটে ১০,০০০-১৫,০০০ টাকা সহজেই ঢুকে যেত। কেউ কখনও তাদের প্রশ্নও করেনি। লোভ বাড়তে থাকায় প্রতিদিন এক থেকে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত চুরি করতে শুরু করে অভিযুক্তরা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.