India's population

বাড়ছে জনসংখ্যার বয়স, ধনী হওয়ার আগেই ‘বুড়ো’ হবে দেশ, বলছে সমীক্ষা

মহিলাদের নিয়েও উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য সামনে এসেছে সমীক্ষার সৌজন্যে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৬, ২০২৬, ১৪:২২

options
link
বাড়ছে জনসংখ্যার বয়স, ধনী হওয়ার আগেই ‘বুড়ো’ হবে দেশ, বলছে সমীক্ষা
ফাইল ছবি।

ধনী হওয়ার আগেই ‘বুইড়্যা’ হবে ‘দ্যাশ’! এমনই জানাচ্ছে ট্রান্সফর্ম রুরাল ইন্ডিয়া (টিআরআই)-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষার ফলাফল। ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি পাঁচ জন ভারতীয়র মধ্যে এক জনের বয়স বেড়ে হবে ষাটের উপর। দেশের বর্তমান মোট জনসংখ্যার নিরিখে যে সংখ্যাটা হতে চলেছে প্রায় ৩৪.৭ কোটি। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। এই হিসাব অবশ্য শহুরে ভারতীয়দের জন্য।

Advertisement

গ্রামের দিকে অনুপাতটা হল-প্রতি দশ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে সাত জন। শুক্রবারই প্রকাশিত হয়েছে টিআরআই-এর ‘ডেমোগ্রাফিক ট্রানজিশন, ইভলভিং ফ্যামিলিস অ্যান্ড দ্য ফিউচার অফ দ্য কেয়ার ইকোসিস্টেম ইন রুরাল ইন্ডিয়া’ শীর্ষক সমীক্ষা-রিপোর্ট। টিআরআই-এর ইন্ডিয়া রুরাল কোলাবরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শ্বেতপত্রটি তৈরি করা হয়েছে। আর তাতেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। যেমন জানা গিয়েছে, চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের শেষেই মাথাপিছু প্রতিটি বয়স্ক মানুষকে দেখাশোনা করার জন্য দেশের ‘ওয়ার্কিং এজ অ্যাডাল্ট’-এর (বয়সের নিরিখে কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক) অনুপাত কমে দিয়ে দাঁড়াবে ৫.২ তে। ২০০১ সালে যা ছিল ৮.৪।

Advertisement

নিজেদের সমীক্ষার নেপথ্যে একাধিক সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে টিআরআই। সেই তালিকায় রয়েছে জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা, জনগণনা সংক্রান্ত নথি প্রভৃতি। সমীক্ষা-তথ্য অনুযায়ী, দেশে পরিবারের আকার ক্রমশ ছোট হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কাজের সূত্রে বাইরে যাওয়ার হার বাড়ছে। আর বাড়ছে জীবনের মেয়াদ। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশের বয়স্কদের অন্তত ৯৪ শতাংশের ক্ষেত্রেই দেখাশোনার দায়িত্ব মূলত পরিবারের লোকজনই সামলাচ্ছেন।

Advertisement

মহিলাদের নিয়েও উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য সামনে এসেছে সমীক্ষার সৌজন্যে। যেমন এদেশে মহিলারা প্রতিদিন অন্তত ৩০৫ মিনিট সাংসারিক কাজকর্ম করেন অথচ তার জন্য কোনও বেতন পান না। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সময়ের অঙ্কটা হল মাত্র ৫৬ মিনিট। এ ছাড়াও জানা গিয়েছে যে, দেশে প্রতি বছর মোট মৃত্যুর অন্তত দুই-তৃতীয়াংশই হয় ‘নন-কমিউনিকেবল’ রোগব্যাধি যেমন ডায়াবিটিস, কার্ডিও-ভাসকুলার রোগ এবং ক্যানসারে। শ্বেতপত্রে আরও বলা হয়েছে, এদেশে স্বাস্থ্য পরিষেবার পরবর্তী ধাপ হল এমন মানুষদের পাশে থাকা যারা ‘ক্রনিক’ রোগব্যাধিতে আক্রান্ত, যাঁরা দিব্যাঙ্গ এবং যাঁরা বয়স্ক। টিআরআই-এর সুপারিশ, সমস্যা সমাধানে গ্রহণ করতে হবে ‘নেবারহুড অফ কেয়ার’ মডেল, যার জন্য এগিয়ে আসতে হবে গ্রাম পঞ্চায়েত, সেলফ-হেলপ গ্রুপ, অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার, আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের মতো প্রতিষ্ঠানগুলিকে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.