অরুণাচল-লাদাখে লালফৌজের আগ্রাসন। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার দুইপারে একের পর এক জায়গার নামবদল। এই ডামাডোলের মাঝেই ৭ বছর পর ভারতের মাটিতে পা রেখেছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবার ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁদের আলোচনার উঠে এল সীমান্ত সমস্যা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ। এই বৈঠকে জিনপিংকে কড়া ভাষায় মোদি জানালেন, সীমান্তে শান্তি ফিরলে তবেই সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে। মতানৈক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তা যে সংঘাতে না গড়ায়।’
আরও পড়ুন:
বাণিজ্য, বিনিয়োগের পাশাপাশি এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু ছিল সীমান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান। সূত্রের খবর, চিন চায় এই সীমান্ত সমস্যাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থেকে আলাদা রাখতে। যদিও ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ছাড়া সম্পর্ক কোনওভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছে, দুই দেশের সম্পর্কের জন্য সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উভয় পক্ষকেই সীমান্ত সংক্রান্ত চুক্তি এবং সমঝোতা মেনে চলতে হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দুই নেতাই সীমান্ত ইস্যুতে যুক্তিসঙ্গত এবং পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানের প্রতি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। যা দুই দেশের সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং দুই দেশের জনগণের উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, উভয় পক্ষকেই সীমান্ত সংক্রান্ত চুক্তি এবং সমঝোতা মেনে চলতে হবে।
বুধবার বৈঠকের শুরুতে চিনা প্রেসিডেন্টকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি বলেন, “আপনাকে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত। ব্রিকস মঞ্চে আপনার ইতিবাচক বার্তার জন্য ধন্যবাদ। ভারতের ব্রিকসের সভাপতিত্বে চিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।” জবাবে জিনপিং বলেন, “আমার জন্মদিনের দিন অর্থাৎ ১৫ জুন আপনার শহরে আসার আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। গত কয়েক বছরে আমাদের ২১ বার সাক্ষাৎ হয়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছি আমরা। যা ভারত-চিনের কূটনৈতিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল উন্নয়নের পথে পরিচালিত করেছে।” তিনি আরও বলেন, আমাদের দুই দেশের জাতীয় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। একে অপরের শক্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে, একে অপরকে সমর্থনের মাধ্যমে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের।”

উল্লেখ্য, ভারত ও চিনের মধ্যে ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। যাকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বলা হয়। শি জিনপিং জানিয়েছিলেন, “বিশ্বের দুই জনবহুল দেশ এবং গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসাবে, চিন ও ভারতের কাঁধে বড় দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের উচিত মানবতার ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক শক্তি যোগানো।”

আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকতে গেলে এবার মানতে হবে এই শর্ত, কেন বিরাট বদলের পথে বিসিসিআই?
-
বুক চিড়ে শেহনাজের মুখের ট্যাটু, ভক্তের কীর্তিতে হতবাক অভিনেত্রী, ভাইরাল ভিডিও
-
টার্গেট নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট! প্রথম প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারে কংগ্রেস
-
‘হিন্দি চিনি ভাই ভাই’ বলেই নেহরুর পিঠে ‘ছুরি’! মোদির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ফের রঙ বদলাবেন জিনপিং?
-
বামেরা বলত ‘ভণ্ড’, মার্ক্স-লেনিন নিয়ে শুভেন্দুর সমালোচনায় শতরূপের ‘ঢাল’ সেই বিবেকানন্দই!