সুপ্রিম কোর্টে মিটল না তৃণমূলের ‘প্রতীক যুদ্ধ’! নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না শীর্ষ আদালত। তবে সময় না বেঁধে দ্রুত প্রতীক টানাপোড়েন মেটানোর কথা বলেছে শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে উঠে এসেছে শিব সেনা প্রসঙ্গও। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, “শিব সেনার ক্ষেত্রে বিলম্বের কী পরিণতি হয়েছে, তা আমরা দেখেছি।” মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সপ্তাহে।
আরও পড়ুন:
১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ‘তৃণমূল’ নাম ও ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করে। মমতাপন্থী কালীঘাট শিবির ও ঋত শিবির কোনও পক্ষই এই নাম ও প্রতীক উপনির্বাচনে ব্যবহার করতে পারবে না বলে জানায় জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে মমতাপন্থী তৃণমূল। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি ছিল, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। সেই শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কমিশনের কাছে জানতে চায়, কতদিন সময় লাগবে এই প্রতীক যুদ্ধ মেটাতে? কমিশনকে সেই সময় জানানোর কথা বলেছে শীর্ষ আদলত।
ইসিআই-এর আইনজীবী তথা প্রবীণ আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডুকে উদ্দেশ্য করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপনাদের কতটা সময় লাগতে পারে, তা জেনে নিন। দু’পক্ষের আবেদন খতিয়ে দেখার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দরকার। কিন্তু কোনও ভাবেই তা যেন অতিরিক্ত না হয়।” প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন যে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই শ্রেয়। কারণ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের ৩৫ ও ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, উভয় গোষ্ঠীর প্রার্থীরাই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে উপ নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট কপিল সিব্বল প্রশ্ন তোলেন, “উপনির্বাচনের মাঝে নির্বাচন কমিশন কি এমন আদেশ দিতে পারে?” বিচারপতি জয়মাল্য মন্তব্য করেন, পশ্চিমবঙ্গ উপনির্বাচন ঘোষিত। তাই নির্বাচন কমিশনের নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে, “কোনও হস্তক্ষেপ করা যাবে না।”
বিপক্ষ গোষ্ঠীর নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহতগি যুক্তি দেন যে, শিবসেনা-সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশন এই ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। জবাবে বিচারপতি বাগচী বলেন, “শিবসেনার ক্ষেত্রে বিলম্বের পরিণাম কী হয়েছে, তা আমরা দেখেছি।”
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের নির্বাচনের পর ভাঙা গড়ার পর দু’টি ভাগ হয় তৃণমূলের। কালীঘাট ও ঋত শিবির দু’পক্ষই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে। নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁরা কাগজপত্র জমা দেন। তবে কমিশন তৃণমূল নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করে দেয়। উপ নির্বাচনে মমতাপন্থীরা ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘ফুটবলার’ প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামছে। অন্যদিকে, ঋত শিবির ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ ও ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে লড়াই করছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একজোট বিরোধীরা, অপসারণের দাবিতে এবার সংসদের দু’কক্ষেই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব!
-
দুধের তৈরি না হলে বলা যাবে না ‘পনির’, ভেজালের রমরমা রুখতে কড়া নিয়মের পথে কেন্দ্র
-
পুজোয় বাঙালির পাতে পড়বে না পদ্মার ইলিশ! রুপোলি শস্য রপ্তানিতে মেলেনি ছাড়পত্র
-
SIR-এ বাদ, ট্রাইব্যুনালেও ওঠেনি নাম, হতাশায় চরম সিদ্ধান্ত কালনার যুবকের!
-
নাম জড়ায় ভূপেশ বাঘেল, রণবীর কাপুরদের! গ্রেপ্তার সেই মহাদেব বেটিং অ্যাপের কিংপিং