Alipur Zoo

মোষ বন্ধ, রোজ পাতে ‘মহার্ঘ’ পাঁঠা, বাঘ-সিংহের খাবার জোগাতে হিমশিম আলিপুর চিড়িয়াখানা!

অগ্নিমূল্য বাজার। মাছ-মাংস কার্যত ছুঁতে পারছে না মধ্যবিত্ত। সেখানে রোজ পাঁঠার মাংস চিবোচ্ছে বাঘ-সিংহ। আর তাদের পাতে মাংস জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

নিরুফা খাতুন
নিরুফা খাতুন

শেষ আপডেট: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৯:১৩

options
link
মোষ বন্ধ, রোজ পাতে ‘মহার্ঘ’ পাঁঠা, বাঘ-সিংহের খাবার জোগাতে হিমশিম আলিপুর চিড়িয়াখানা!
রোজ মেনুতে পাঁঠার মাংস। ফাইল ছবি

অগ্নিমূল্য বাজার। মাছ-মাংস কার্যত ছুঁতে পারছে না মধ্যবিত্ত। সেখানে রোজ পাঁঠার মাংস চিবোচ্ছে বাঘ-সিংহ। আর তাদের পাতে মাংস জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। কলকাতা পুরসভা কসাইখানার লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ না করায় মোষের মাংস মিলছে না। অগত্যা তাদের পাতে দিতে হচ্ছে পাঁঠার মাংস। ফলে আগের থেকে এখন মহার্ঘ হয়ে উঠেছে তাদের পাত। এতে খরচভার এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে আলিপুর চিড়িয়াখানায়। তার উপর বাজারদর বেড়ে যাওয়ায় মাংস সরবরাহকারীরাও দামবৃদ্ধির দাবি তুলেছেন।

Advertisement

সম্প্রতি রাজ্য বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ অরণ্য ভবনে চিড়িয়াখানার আবাসিকদের খাবার সরবরাহকারী ভেন্ডরদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। এই প্রথম কোনও বনমন্ত্রী ভেন্ডরদের নিয়ে বৈঠক করলেন। সেখানে এই সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, চড়া বাজারে পাতে রোজ পাঁঠার মাংস রাখতে গিয়ে দপ্তরের যে আর্থিক ভার বাড়ছে, তা নিয়ে কনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণও করে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। মন্ত্রী বলেন, “পুরসভা লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ না করায় কসাইখানা থেকে মাংস সরবরাহকারীরা মোষ কাটাতে পারছেন না। তাই সমপরিমাণ পাঁঠার মাংস দেওয়া হচ্ছে। লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ ইস্যু যাতে দ্রুত মেটানো হয় তা নিয়ে পুরসভার সঙ্গে কথা বলা হবে। যতদিন না মিটছে তাদের পাতে খাসির মাংসই থাকবে।” 

Advertisement

আলিপুর চিড়িয়াখানায় বছরে ৫১ হাজার কেজি মতো মোষের মাংস লাগে। দরপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৩৫০ টাকায় প্রতি কেজি তাজা মোষের মাংস (হাড় ছাড়া) সরবরাহ করা হয় আলিপুরে। হাড়-সহ দাম ২৭০ টাকা। কিমা লাগে ২৮০০ কেজি।

প্রসঙ্গত, চিড়িয়াখানার পশুপাখিদের খাবারের জন্য প্রতি বছর দরপত্র ডাকা হয়। একাধিক এজেন্সি এই খাবার সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত। কেউ পাখিদের খাবার সরবরাহ করে থাকে, কেউ সরীসৃপদের, কেউ হাতি, গন্ডার, জিরাফদের। মাংসাশীদের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা সংস্থা। যেমন গরু-মোষের মাংস সরবরাহকারী সংস্থা ছাগল বা মুরগির মাংস সরবরাহ করে না। আলিপুর চিড়িয়াখানায় বছরে ৫১ হাজার কেজি মতো মোষের মাংস লাগে। দরপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৩৫০ টাকায় প্রতি কেজি তাজা মোষের মাংস (হাড় ছাড়া) সরবরাহ করা হয় আলিপুরে। হাড়-সহ দাম ২৭০ টাকা। কিমা লাগে ২৮০০ কেজি।

Advertisement

২৮৫ টাকায় প্রতি কেজি কিমা সরবরাহ করা হয়। পাঁঠার মাংস লাগে বছরে ৯৮০ কেজি। মাটনের কিমা লাগে ১২ কেজি। হাড় ছাড়া এক কেজি পাঁঠার মাংস ৭২৮ টাকা পড়ে। সেখানে হাড়-সহ পড়ে ৬৯৫ কেজি। কিমার দাম ৭২৬ টাকা। ট্যাংরায় পুরসভার কসাইখানা থেকে মোষ কাটিয়ে সেই মাংস চিড়িয়াখানায় সরবরাহ করত এজেন্সি। বিধানসভা ভোটের পর থেকে সেখানে মোষ-গরু কাটা বন্ধ রয়েছে। এজেন্সিগুলিরও লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করছে না পুরসভা। এই জট কবে কাটবে? পুরসভার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করেও কিছু জানানো হচ্ছে না বলে খবর।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.