Japanese secret to a long life

১০০ বছর বাঁচতে চান? শতায়ু হওয়ার ‘জাপানি মন্ত্র’ এখন জানেন বাংলার চিকিৎসকরাও!

কলকাতায় এক বিশেষ সম্মেলনে জাপানের 'কমিউনিটি কেয়ার মডেল' তুলে ধরলেন ডা. কিচি হিরিয়ামা।

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৯:২০

options
link
১০০ বছর বাঁচতে চান? শতায়ু হওয়ার ‘জাপানি মন্ত্র’ এখন জানেন বাংলার চিকিৎসকরাও!
প্রতীকী ছবি।

গল্প হলেও সত্যি। এই মুহূর্তে জাপানে একশো পেরনো মানুষের সংখ্যা ১ লক্ষ ছাড়িয়েছে। সে দেশে শতায়ু মানুষের সংখ্যা ১ লক্ষ ৭ হাজার ৬৭৭। যা পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ। কোন জাদুতে জাপানের মানুষ একশো পার করে দিচ্ছেন হেসেখেলে? কলকাতায় জাপানের কমিউনিটি কেয়ার মডেল তুলে ধরলেন ডা. কিচি হিরিয়ামা।

Advertisement

চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্রবীণ মানুষরা একটা সময় নিজেদের ব্রাত্য মনে করেন। একাকীত্বে ভোগেন। জাপানে তাদের জন্য রয়েছে কমিউনিটি কেয়ার মডেল। নিয়মিত প্রবীণদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের অতীত জীবন-ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। এটাকেই এক কথায় বলা হয়, “ইকিগাই”। জাপানি ভাষায় ‘ইকি’ মানে হচ্ছে ‘বেঁচে থাকা’, ‘গাই’ এর অর্থ তাৎপর্য।

জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ মেডিসিনের চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্রবীণ মানুষরা একটা সময় নিজেদের ব্রাত্য মনে করেন। একাকীত্বে ভোগেন। জাপানে তাদের জন্য রয়েছে কমিউনিটি কেয়ার মডেল। নিয়মিত প্রবীণদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের অতীত জীবন-ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। এটাকেই এক কথায় বলা হয়, “ইকিগাই”। জাপানি ভাষায় ‘ইকি’ মানে হচ্ছে ‘বেঁচে থাকা’, ‘গাই’ এর অর্থ তাৎপর্য। চিকিৎসকের বক্তব্য, এই বেঁচে থাকার তাৎপর্য অনুভব করলে মানুষের হতাশা কাটে। প্রবীনদের সঙ্গে কথা বলে জীবনে বেঁচে থাকার আনন্দ অনুভব করাতে হয়। এর জন্য জাপানে রয়েছে একটি বিশেষ কমিউনিটি কেয়ার মডেল।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর বার্ধক্য ও দীর্ঘায়ু পরিচর্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শহরে। রবিবার এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দেশ বিদেশের তাবড় প্রবীণ রোগ বিশেষজ্ঞরা। ডা. ধীরেশ কুমার চৌধুরী, ডা. কৌশিক রঞ্জন দাস, ডা. বিবেক হান্ডা, ডা. অরুণাংশু তালুকদার, ডা. হিমাদ্রী দাসরা উপস্থিত ছিলেন সেখানে। জানলেন জাপানের মানুষের দীর্ঘায়ু হওয়ার রহস্য। দেখা গিয়েছে, জাপানে মানুষ দীর্ঘদিন বেঁচে থাকলেও, জীবনের শেষ পর্যায়ের একটি উল্লেখযোগ্য সময় স্বাস্থ্যগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে দিন বাহিত হয় তাদেরও। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, একশো বছর বাঁচলেও পুরুষদের শেষ সাড়ে ৮ বছর, আর নারীদের শেষ প্রায় ১২ বছর অসুস্থতার মধ্যে কাটে। এই সময়সীমা আরও কমাতে উদ্যোগী জাপান। যাতে নারী-পুরুষ উভয়ই দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ জীবন পেতে পারেন।

Advertisement

ডা. কিচি হিরায়ামা জানিয়েছেন, বয়স্কদের জন্য জাপানে রয়েছে সম্প্রদায়ভিত্তিক সমন্বিত পরিচর্যা ব্যবস্থা। রয়েছে কমিউনিটি জেনারেল সাপোর্ট সেন্টার। প্রতিটি জুনিয়র হাইস্কুল-ভিত্তিক এলাকার জন্য একটি করে কেন্দ্র রয়েছে। এই প্রতিটি কেন্দ্রে রয়েছে একজন নার্স, একজন সমাজকর্মী এবং একজন কেয়ার ম্যানেজার। প্রতিটি এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহায়তার একটি কেন্দ্র।

ডা. কিচি হিরায়ামা জানিয়েছেন, বয়স্কদের জন্য জাপানে রয়েছে সম্প্রদায়ভিত্তিক সমন্বিত পরিচর্যা ব্যবস্থা। রয়েছে কমিউনিটি জেনারেল সাপোর্ট সেন্টার। প্রতিটি জুনিয়র হাইস্কুল-ভিত্তিক এলাকার জন্য একটি করে কেন্দ্র রয়েছে। এই প্রতিটি কেন্দ্রে রয়েছে একজন নার্স, একজন সমাজকর্মী এবং একজন কেয়ার ম্যানেজার। প্রতিটি এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহায়তার একটি কেন্দ্র। এই কেন্দ্রটির যিনি দায়িত্বে থাকেন তাঁর কাজ একা বসবাসকারী বয়স্ক ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়ে প্রতিদিন দেখা করা। নিয়মিত তাঁদের উদ্বেগ ও সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা। প্রতি তিন মাস অন্তর প্রবীণদের সমস্যা নিয়ে বৈঠকও ডাকা হয়। জাপানে প্রবীণ, বয়স্কদের শুধুমাত্র হাসপাতাল বা চিকিৎসকের ওপর নির্ভর না রেখে একটি সিস্টেম গড়ে তোলা হয়েছে যেখানে নার্স, সমাজকর্মী, কেয়ার ম্যানেজার, পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় সম্প্রদায় সকলেই রয়েছেন একসঙ্গে। ডা. হিরিয়ামা জানিয়েছেন, জাপান সরকার মনে করেন স্রেফ দিন কাটানোর জন্য বেঁচে থাকা নয়, নব্বই পেরনো মানুষটির জীবনকেও অর্থবহ করে তুলতে হবে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.