নিঠারি হত্যাকাণ্ডে আদালতের নির্দেশে বেকসুর খালাস পাওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে সুরেন্দ্র কোলির। প্রাথমিকভাবে তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও, মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কারণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করলেন সুরেন্দ্রর দাদা চন্দন কোলি। এই মৃত্যুতে থানায় এফআইআর দায়েরের পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
গত বছর নিঠারি হত্যাকাণ্ডে সুপ্রিম কোর্ট বেকসুর খালাস করেছিল মামলার মূল অভিযুক্ত সুরেন্দ্র কোলিকে। জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর হরিদ্বারে একটি চায়ের দোকান চালাচ্ছিলেন ৫৩ বছরের সুরেন্দ্র। শুক্রবার সকালে সেখানেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান ছিল আত্মহত্যা করেছেন সুরেন্দ্র। তবে তা মানতে নারাজ পরিবারের সদস্যরা। সুরেন্দ্রর দাদা চন্দন বলেন, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে আমাদের সন্দেহ এটা আত্মহত্যা নয়। হরিদ্বারের সপ্তর্ষি পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করে তিনি বলেন, “শনিবার যখন আমরা সুরেন্দ্রকে দেখি তখন তাঁর শরীর থেকে রক্ত বের হচ্ছিল। মুখে এবং নাকেও ছিল রক্তের দাগ।” তিনি বলেন, “গোটা পরিস্থিতি দেখে আমাদের মনে হয়েছে ভাই হয়ত আত্মহত্যা করেনি। এই মৃত্যুতে কেউ দোষী হলে তাঁর যেন কঠোর শাস্তি হয়।”
আরও পড়ুন:
সুরেন্দ্রর দাদা চন্দন বলেন, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে আমাদের সন্দেহ এটা আত্মহত্যা নয়।
এদিকে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। তবে এখনও পর্যন্ত আত্মহত্যার দিকেই ইঙ্গিত রয়েছে আমাদের। তদন্ত এগোলে বাকি বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি, যেখানে এই ঘটনা ঘটে তার আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
২০০৫-২০০৬ সালে নয়ডায় নিঠারি হত্যাকাণ্ডের খবরে শিউরে উঠেছিল দেশ। এলাকার ধনী ব্যক্তি মণিন্দর সিং পান্ধের ও তার পরিচারক সুরেন্দ্রর নাম জড়ায় একের পর এক শিশু, কিশোরী নিখোঁজ এবং পরে নর্দমার পাড় থেকে তাদের দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায়। অসংখ্য যুবতী, কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন, নরমাংস ভক্ষণ, শবদেহের সঙ্গে সঙ্গমের চেষ্টার মতো জঘন্য অপরাধের অভিযোগ ছিল কোলির বিরুদ্ধে। মামলায় ফাঁসির সাজা খারিজ হয়েছিল আগেই। কোলির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৩টি মামলার মধ্যে ১২টি মামলাতে আগেই খালাস পান তিনি। শেষ মামলা ছিল ১৫ বছরের এক কিশোরীকে খুনের অভিযোগ। সেই মামলাতেও গত বছর নভেম্বর মাসে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস পেয়ে যান। শীর্ষ আদালত প্রমাণের অভাবের জন্য তদন্ত প্রক্রিয়াকে কাঠগড়ায় তুলে জানিয়েছিল, পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ার গলদেই প্রমাণ মিলছে না অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাতৃত্বের পর চেহারা নিয়ে লাগাতার কটাক্ষ ক্যাটরিনাকে, শার্ট খুলে সলমন প্রতিবাদ করতেই ক্ষমাপ্রার্থী কে?
-
ফ্রিজ হওয়া তিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে, প্রতীক খুইয়েও হাই কোর্টে স্বস্তি মমতা তৃণমূলের
-
ক্রিকেট কেরিয়ার শেষ! এবার রাজনীতির ময়দানে নামছেন শামি?
-
‘স্ত্রীকে তিন বেলা বলুন ভালোবাসি’, ভোটপ্রচারে ‘লাভ গুরু’র ভূমিকায় ওয়েইসি
-
মাঝরাতে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত মহিলাকে খুন! ফুলিয়ায় হাড়হিম কাণ্ড