Suvendu Adhikari

প্রতি পদে বেনিয়ম, রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি! আমফান নিয়ে ক্যাগ রিপোর্টে বিস্ফোরক তথ্য

শনিবার বিধানসভায় সিএজির রিপোর্ট প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত
বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: জুলাই ২৫, ২০২৬, ২১:১৯

options
link
প্রতি পদে বেনিয়ম, রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি! আমফান নিয়ে ক্যাগ রিপোর্টে বিস্ফোরক তথ্য
ছবি এআই দ্বারা নির্মিত।

ঘূর্ণিঝড় আমফান-পরবর্তী ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ভারতের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি)। শনিবার বিধানসভায় পেশ করা সিএজি অর্থাৎ ক্যাগ কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্টে বলা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে গরমিল করা হয়েছিল। হাজার হাজার উপভোক্তাকে একাধিকবার ত্রাণের অর্থ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, আমফানের পরিবর্তে আগের ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ব্যবহার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ রিপোর্টে। শনিবার বিধানসভায় সিএজির রিপোর্ট প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। চার বছর পর অর্থাৎ রাজ্যে পালাবদলের পরই ২৮টি সিএজি রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করেন তিনি। আর সেখানেই তৃণমূল সরকারের আমলের একের পর এক কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে।

Advertisement

রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। কিন্তু জুনের পর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির জন্য অনুদান ২০ হাজার টাকা থাকলেও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির ক্ষেত্রে তা বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়। এই পরিবর্তনের কারণ জানতে চাওয়া হলে তৎকালীন রাজ্য সরকার কোনও নথি দেয়নি

২০২০ সালের ২০ মে সুপার সাইক্লোন ‘আমফান’ পশ্চিমবঙ্গের ১৬টি জেলায় আছড়ে পড়ে। এই ঘূর্ণিঝড়ে রাজ্যের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। সরকারি হিসাবে ৯৯ জনের মৃত্যু হয় এবং বাড়িঘর, কৃষি, মৎস্য, বন, বিদ্যুৎ পরিকাঠামো, সেচ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও শিল্পক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আমফানের ক্ষয়ক্ষতির ভিত্তিতে রাজ্য সরকার জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে ৩৫,০১৮ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা চেয়েছিল। কেন্দ্র ২,৭০৭.৭৭ কোটি টাকা দেয়। 

Advertisement

বিধানসভা পেশ করা ক্যাগ রিপোর্টে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সহায়তার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরি করা হয়েছিল, তা “অতিমাত্রায় বাড়িয়ে দেখানো এবং বাস্তবসম্মত নয়” বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ প্রমাণও পাওয়া যায়নি। জেলা-ভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট পরীক্ষার জন্য না দেওয়ায় ওই মূল্যায়ন যাচাই করা সম্ভব হয়নি জানিয়েছে ক্যাগ। ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি নির্মাণের অনুদান বিতরণেও অসঙ্গতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। কিন্তু জুনের পর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির জন্য অনুদান ২০ হাজার টাকা থাকলেও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির ক্ষেত্রে তা বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়। এই পরিবর্তনের কারণ জানতে চাওয়া হলে তৎকালীন রাজ্য সরকার কোনও নথি দেয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement

এছাড়া, ৯,২২৬ জন উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে একাধিকবার বাড়ি নির্মাণের অনুদান পাঠানো হয়েছে। ফলে মোট ১৮.০৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত বিতরণ হয়েছে বলে সিএজি জানিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, “এটি উপভোক্তা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় গুরুতর ত্রুটি এবং ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি)-এর আগে একাধিকবার অর্থপ্রদান রোধে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অভাবের ইঙ্গিত দেয়।” রিপোর্টে বলা হয়েছে. দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় উপভোক্তা তালিকায় উল্লেখিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরের সঙ্গে ব্যাংক লেনদেনের নথিতে থাকা অ্যাকাউন্ট নম্বরেরও অমিল ধরা পড়েছে। এই অসঙ্গতি ১,৪৪,১৭৫টি লেনদেনের ক্ষেত্রে পাওয়া গিয়েছে। যার মোট মূল্য ১২৫.০৭ কোটি টাকা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.