Madrasa

এবার মাদ্রাসাতেও জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা, নির্দেশিকা জারি স্বাস্থ্যদপ্তরের

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েই দূরারোগ্য এই সমস্যা সমাধানে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

গৌতম ব্রহ্ম
গৌতম ব্রহ্ম

শেষ আপডেট: জুন ১৩, ২০২৬, ০০:১১

options
link
এবার মাদ্রাসাতেও জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা, নির্দেশিকা জারি স্বাস্থ্যদপ্তরের

জেটগতিতে প্রযুক্তির উন্নতি আর চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিরন্তর গবেষণার পরও জরায়ুমুখ ক্যানসার বা সার্ভাইক্যাল ক্যানসার দূরারোগ্য ব্যধির তকমা ঝেড়ে ফেলতে পারেনি। তবে ভারতে নিয়ে লাগাতার কাজ চলছে। কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে এই ব্যধি থেকে আগাম সুরক্ষা বাবদ নির্দিষ্ট বয়সের মেয়েদের বিনামূল্যে টিকাকরণ কর্মসূচি রয়েছে। এবার এ রাজ্যেও বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসায় সেই সুবিধা পাচ্ছেন রাজ্যবাসী। গত ৩০ মে থেকে এখানে জরায়ুমুখ ক্যানসারের টিকা বিনামূল্যে দেওয়া শুরু হয়েছে। এবার থেকে রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিতে পাঠরত কিশোরী ছাত্রীদেরও বিশেষ এইচপিভি টিকাকরণ অভিযান শুরু হতে চলেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের গাইডলাইন এবং এসওপি মেনে এই কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। এই মর্মে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

এবার থেকে মাদ্রাসাগুলিতেও স্বাস্থ্যদপ্তরের নির্দেশিকা মেনে চলবে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা। কিশোরী ছাত্রীরা তা নিতে পারবে। এই কর্মসূচিতে মাদ্রাসা পড়ুয়াদের মধ্যেও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়বে বলেই আশা সরকারের।

জরায়ুমুখ ক্যানসারে ক্রমশ বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সারা বিশ্বে প্রতি বছর নতুন করে সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬ লাখ। আর প্রতি বছর ক্যানসারে মৃত্যুহার প্রায় ৩.৪ লাখ। এদেশের নিরিখে, মহিলারা যে ধরনের কর্কটরোগের শিকার হন, তার মধ্যে দ্বিতীয় এই সার্ভাইক্যাল ক্যানসার। ভারতে প্রতি এক লাখে ১৪ জন করে নতুন সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের রোগী প্রতিবছর চিকিৎসা করান। মৃত্যুহার লাখে ৯ জন। এদেশের জনসংখ্যার নিরিখে সংখ্যাটা নেহাতই কম নয়। এই ক্যানসার প্রতিহত করতে বিনামূল্যে টিকাকরণের উপর জোর দিয়েছে কেন্দ্র। সময়মতো টিকা নিয়ে নিলে ক্যানসার প্রায় ৭৫-৮০ শতাংশ প্রতিহত করা সম্ভব বলে চিকিৎসকদের মত।

Advertisement

কেন্দ্রের সেই প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন দেওয়ার অংশ হিসাবে বাংলাতেও শুরু হয়েছে বিনামূল্যে টিকাকরণ কর্মসূচি। গত ৩০ মে অর্থাৎ সরকার গঠনের কয়েকদিন পর থেকেই টিকা দেওয়ার কাজ চলছে। এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের তরফ থেকে বাংলায় ৭ লক্ষ ডোজ টিকা পাঠানো হয়েছে। বিধানননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে তা শুরু হয়। ১৪-১৫ বছরের ঊর্ধ্বে যে কোনও কিশোরী সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের টিকা নিতে পারে। এবার থেকে মাদ্রাসাগুলিতেও স্বাস্থ্যদপ্তরের নির্দেশিকা মেনে চলবে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা। কিশোরী ছাত্রীরা তা নিতে পারবে। এই কর্মসূচিতে মাদ্রাসা পড়ুয়াদের মধ্যেও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়বে বলেই আশা সরকারের।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.