Kidney Cancer

প্রস্রাবে রক্ত? ছোটখাটো রোগ ভেবে অবহেলা নয়, চুপিসারে বাড়তে পারে কিডনি ক্যানসার!

Blood in Urine: কিডনি ক্যানসারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, এটি দীর্ঘদিন কোনও স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে। তাই প্রস্রাবে রক্ত দেখা দেওয়াকে কখনওই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৩, ২০২৬, ১৫:০৭

options
link
প্রস্রাবে রক্ত? ছোটখাটো রোগ ভেবে অবহেলা নয়, চুপিসারে বাড়তে পারে কিডনি ক্যানসার!
অবহেলার সুযোগ নেই। ছবি: সংগৃহীত

প্রস্রাবে রক্ত মানেই কিডনি ক্যানসার, এমনটা নয়। তবে এটিকে কখনওই সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়াও উচিত নয়। কারণ অনেক সময় এই একটি লক্ষণই হতে পারে কিডনি ক্যানসারের প্রথম সতর্কবার্তা। চিকিৎসকদের মতে, রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসা হয় অনেক বেশি কার্যকর এবং রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

Advertisement

নীরবে বাড়তে থাকে কিডনি ক্যানসার
কিডনি ক্যানসারকে অনেকেই ‘সাইলেন্ট ডিজিজ’ বলে থাকেন। কারণ এই ক্যানসার দীর্ঘদিন শরীরে বেড়ে উঠলেও শুরুতে তেমন কোনও লক্ষণ প্রকাশ পায় না। ফলে বেশিরভাগ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে থাকেন, অথচ অজান্তেই কিডনিতে টিউমার তৈরি হতে থাকে। যখন উপসর্গ স্পষ্ট হয়, তখন অনেক ক্ষেত্রেই রোগটি বেশ এগিয়ে যায়। ফলে চিকিৎসাও হয়ে ওঠে আরও জটিল।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

কেন প্রস্রাবে রক্ত দেখা দেয়?
কিডনির টিউমার যখন পেলভিস এবং ক্যালিসিয়াল সিস্টেমে প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তখন সেখান থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। আবার কিছু ক্যানসার এই অংশ থেকেই শুরু হয়, তাই সেক্ষেত্রে রোগের একেবারে শুরুর দিকেই প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিতে পারে।

Advertisement

অনেকেই ভাবেন, একবার রক্ত বেরিয়ে পরে যদি আর না দেখা যায়, তাহলে আর উদ্বেগের কারণ নেই। কিন্তু এই ধারণা ভুল। রক্তপাত সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও রোগ থেকে যেতে পারে। চিকিৎসায় দেরি হলে ক্যানসার আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

Is blood in urine an early warning sign of kidney cancer?
উপসর্গ দেখা দিলে জরুরি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। ছবি: সংগৃহীত

ব্যথা না থাকলেও বিপদের ইঙ্গিত
অনেকের ধারণা, ব্যথা না থাকলে সমস্যা গুরুতর নয়। কিন্তু কিডনি ক্যানসারের ক্ষেত্রে বাস্তব চিত্র ঠিক উলটো। এই রোগে অনেক সময় কোনও ব্যথা ছাড়াই প্রস্রাবে রক্ত দেখা যায়। ফলে রোগীরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না।

রক্তের পরিমাণ বেশি হলে প্রস্রাব গোলাপি, লাল বা কোকাকোলার মতো গাঢ় বাদামি রঙের হতে পারে। আবার কখনও এতটাই অল্প রক্ত মেশে যে খালি চোখে বোঝা যায় না। নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষায় ধরা পড়ে এই মাইক্রোস্কোপিক হিমাচুরিয়া। দৃশ্যমান হোক বা অদৃশ্য, দুই ক্ষেত্রেই কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?
চিকিৎসকদের মতে, কয়েকটি কারণে ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়-

  • বয়স ৫০ বছরের বেশি হলে
  • ধূমপানের অভ্যাস থাকলে
  • স্থূলতায় ভুগলে
  • দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলে
  • পরিবারে কিডনি ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে

এই ঝুঁকির মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের প্রস্রাবে একবারও রক্ত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?
প্রথমে প্রস্রাব পরীক্ষা করে রক্তের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী আল্ট্রাসাউন্ড, সিটি স্ক্যান বা অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনি ও মূত্রনালির অবস্থা খতিয়ে দেখা হয়। এর মাধ্যমে বোঝা যায় রক্তপাতের কারণ সংক্রমণ, কিডনিতে পাথর, নাকি কিডনি ক্যানসারের মতো গুরুতর কোনও অসুখ।

সময়মতো পদক্ষেপই জীবন বাঁচাতে পারে
কিডনি ক্যানসারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, এটি দীর্ঘদিন কোনও স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে। তাই প্রস্রাবে রক্ত দেখা দেওয়াকে কখনওই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়, তা একবারের জন্য হোক বা পরে নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাক।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, এমন কোনও উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের কাছে যান এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান। কারণ দ্রুত রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসার সুযোগ যেমন বাড়ে, তেমনই সুস্থ জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনাও অনেক বেশি থাকে। শরীরের এই ছোট্ট সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিন, কারণ সময়মতো নেওয়া একটি সিদ্ধান্তই অনেক সময় জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.