Ruby General Hospital

​কলকাতাতেই বিশ্বমানের চিকিৎসা, রুবি হসপিটালে নতুন বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিট

স্টেম সেল থেরাপি, আধুনিক বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট এবং উন্নত ক্যানসার চিকিৎসার এই নতুন অধ্যায় পূর্ব ভারতের চিকিৎসা পরিষেবায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৫, ২০২৬, ২১:৩১

options
link
​কলকাতাতেই বিশ্বমানের চিকিৎসা, রুবি হসপিটালে নতুন বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিট
সূচনা। রয়েছেন ডিরেক্টর ডা. সৌরভ দত্ত, রুবি দত্ত এবং প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. কমল কুমার দত্ত।

পূর্ব ভারতে ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের সূচনা করল রুবি জেনারেল হসপিটাল এবং রুবি ক্যানসার সেন্টার। অত্যাধুনিক স্টেম সেল ও সেলুলার থেরাপি ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিট বা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিটের উদ্বোধনের মাধ্যমে চিকিৎসা পরিষেবায় আরও এক বড় পদক্ষেপ নিল এই প্রতিষ্ঠান।

Advertisement

৩২ বছর ধরে উন্নত মাল্টি-স্পেশালিটি চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার পর এবার রুবি হসপিটাল নিয়ে এল বিশ্বমানের এমন একটি পরিষেবা, যা জটিল রক্তের অসুখ ও ক্যানসারের চিকিৎসায় বহু রোগীর কাছে নতুন আশার আলো হয়ে উঠতে পারে। ডিরেক্টর ডা. সৌরভ দত্ত ও রুবি দত্তের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান ডা. কমল কুমার দত্ত এই আধুনিক ইউনিটের উদ্বোধন করেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিট তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে। সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে রয়েছে ৬টি বিশেষ আইসোলেশন রুম, যেখানে অত্যাধুনিক হাই-এফিসিয়েন্সি পার্টিকুলেট এয়ার (হেপা) ফিল্ট্রেশন ব্যবস্থা-যুক্ত। এছাড়াও রয়েছে টাচ-ফ্রি হারমেটিক সিলড অটোমেটিক দরজা, সেন্সর-ভিত্তিক ওয়াশরুম, RO এবং UV- পরিশোধিত জলের সুবিধা এবং একই সঙ্গে থাকছে উন্নত ক্রিটিক্যাল কেয়ার ও ডায়ালিসিস সাপোর্ট।

Advertisement
ruby general hospital kolkata launches world class bmt unit bringing new hope in cancer care
চিকিৎসা, সাহস ও মানবিকতার এক অনন্য উদযাপন। রয়েছেন হেমাটোলজিস্ট ডা. তুফান কান্তি দোলুই, রুবি হসপিটালে প্রথম সফল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টে সুস্থ হওয়া রোগী মঙ্গল দাস, হেমাটোলজিস্ট ডা. তুষ্টি গাঙ্গুলি, ডিরেক্টর ডা. সৌরভ দত্ত, প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান ডা. কমল কুমার দত্ত , রুবি দত্ত এবং সৌর্যদীপ।

স্টেম সেল সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য তৈরি হয়েছে আধুনিক অ্যাফেরেসিস রুম। একইসঙ্গে রয়েছে ইন-হাউস ব্লাড ইরেডিয়েশন এবং উন্নত ব্লাড সেন্টার সুবিধা। শিশুরা অসুস্থ হয়ে ভর্তি হলে তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও হয়েছে বিশেষ থাকার ব্যবস্থা, যাতে দীর্ঘ চিকিৎসার সময় পাশে থাকতে পারেন প্রিয়জনেরা।

একই ছাদের নিচে অটোলোগাস ও অ্যালোজেনিক- দু-ধরনের বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টই করা হবে। পাশাপাশি কার-টি সেল থেরাপির মতো অত্যাধুনিক সেলুলার থেরাপির সুবিধাও থাকছে। পুরো বিষয়টি দেখভাল করবেন অভিজ্ঞ অনকোলজিস্ট, হেমাটোলজিস্ট, বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স ও টেকনিশিয়ানদের সমন্বিত দল।

ডা. কমল কুমার দত্তের কথায়, এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থা শুধুমাত্র চিকিৎসার পরিকাঠামো নয়, এটি বহু রোগীর কাছে নতুন জীবনের সুযোগ এনে দেবে। এখন আর কাউকেই বাইরের রাজ্যে ছুটতে হবে না, কলকাতাতেই মিলবে বিশ্বমানের পরিষেবা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট হেমাটোলজিস্ট ও বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. তুফান কান্তি দোলুই। তাঁর কথায়, বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট বিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী আবিষ্কার। অনেকটা রক্তদানের মত পদ্ধতিতেই ডোনার বা দাতার শরীর থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করা হয়। বড় কোনও সার্জারির প্রয়োজন হয় না। যাঁর শরীরে এই স্টেম সেল প্রতিস্থাপন করা হয়, তিনিও খুব দ্রুত সুস্থ জীবনে ফিরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। ২০২৪ সালে রুবি হাসপাতালে সফলভাবে হওয়া প্রথম বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট রোগী মঙ্গল দাসও সুস্থ শরীরে উপস্থিত ছিলেন এদিনের অনুষ্ঠানে।

ruby general hospital kolkata launches world class bmt unit bringing new hope in cancer care
কঠিন লড়াই জয় করে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা। রয়েছেন চিফ জেনারেল ম্যানেজার, অপারেশন’স শুভাশিস দত্ত , সৃজনী সাহু, সৌপ্তিক ভট্টাচার্য, সার্জিক্যাল অঙ্কোলজিস্ট ডা. ঐন্দ্রিলা বিশ্বাস, চিফ অফ মেডিক্যাল সার্ভিসেস ডা. জয়দীপ ভট্টাচার্য, মঙ্গল দাস, প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান ডা. কমল কুমার দত্ত , রুবি দত্ত, ডিরেক্টর ডা. সৌরভ দত্ত  এবং হেমাটোলজিস্ট ডা. তুষ্টি গাঙ্গুলি।

অনুষ্ঠানের এক আবেগঘন মুহূর্তে সংবর্ধনা দেওয়া হয় থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত মেধাবী ছাত্রী সৃজনীকে। উচ্চমাধ্যমিকে অসাধারণ ফল করা সৃজনীর আগামী তিন বছরের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা করে রুবি জেনারেল ক্যানসার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ। সৃজনী হতে চায় মনোবিদ। তাঁর হাতে পঞ্চাশ হাজার চেক তুলে দেন রুবি দত্ত।

আরও এক অনুপ্রেরণার গল্প উঠে আসে আইআইটি-তে পড়ার স্বপ্ন দেখা ১৭ বছরের সৌপ্তিক ভট্টাচার্যকে ঘিরে। ত্রিপুরার এই কিশোর ইভিং সারকোমায় আক্রান্ত হয়েছিল। আগে যেখানে অঙ্গচ্ছেদই ছিল একমাত্র উপায়, সেখানে এখন অত্যাধুনিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর পা বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। সফল অস্ত্রোপচারটি করেন সার্জিক্যাল অঙ্কোলজিস্ট ডা. ঐন্দ্রিলা বিশ্বাস। সুস্থ সৌপ্তিক নিজেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নিজের লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেয়।

স্টেম সেল থেরাপি, আধুনিক বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট এবং উন্নত ক্যানসার চিকিৎসার এই নতুন অধ্যায় পূর্ব ভারতের চিকিৎসা পরিষেবায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.