নিজের চেয়ে কম আকর্ষণীয় সঙ্গীতেই মজছে জেন জি! ‘শ্রেকিং’ এখন ট্রেন্ডিং, ব্যাপারটা কী?
২০০১ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘শ্রেক’। সেই সবুজ দানবের নাম থেকেই জেন জি-র ডেটিং ট্রেন্ড ‘শ্রেকিং’-এর নামকরণ করা হয়েছে।
২০০১ সালে মুক্তি পেয়েছিল 'শ্রেক'। উইলিয়াম স্টেইগের কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত ওই ছবি মন জিতেছিল সকলের। জনপ্রিয় হয়েছিল সবজেপানা স্থূলকায় অথচ দয়াবান দানবটি। অস্কারের ইতিহাসে সর্বপ্রথম 'সেরা অ্যানিমেটেড ফিচার ফিল্ম'-এর তকমা পাওয়া ছবিটির পরবর্তী পর্বগুলিও জনপ্রিয়। ২০২৭ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা 'শ্রেক ৫'-এর। এই সবুজ দানবের নাম থেকেই জেন জি-র ডেটিং ট্রেন্ড 'শ্রেকিং'-এর নামকরণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
টিকটকের এক ভিডিওয় পুরো ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করা হয়েছে- 'এমন কোনও অনাকর্ষণীয় সঙ্গীর সঙ্গে ডেট করা যাতে সে সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে যেতে না চায়।' পোস্টের কমেন্টে অনেকেই জানিয়েছেন নিজেদের অভিজ্ঞতা। কোনও কোনও ইউজার জানিয়েছেন, তিনি রীতিমতো 'হট ডেটিং' করেছেন আবেগপ্রবণ কিন্তু কম আকর্ষণীয় সঙ্গীর সঙ্গে। আর সেখানেই অনেকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, শ্রেক যেমন ফিওনাকে কখনও ছেড়ে যাবে না, ব্যাপারটা তেমনই।
কিন্তু সত্যিই কি সম্পর্কের স্থায়িত্ব বাড়াতে শ্রেকিং-এর পথে হাঁটানো যুক্তিযুক্ত? বিশেষজ্ঞরা তা মনে করছেন না। তাঁদের মতে, এই ধরনের ডেটিং ট্রেন্ডগুলোতে গা ভাসিয়ে দেওয়া আসলে নিজেকে বেশি নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দেওয়া। এবং সম্পর্ককে অহেতুক জটিল করে তোলা। আসলে ডেটিং বা প্রেম ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণাদায়ক অভিজ্ঞতা দিলে তবেই তা সার্থক।
আরও পড়ুন:
মনে রাখতে হবে, সম্পর্কের মধ্যে থাকতেই হবে পারস্পরিক সম্মান। শ্রেকিংয়ে তা থাকছে কই? সম্পর্কের ভিত্তি সঙ্গীর বাহ্যিক রূপ বা আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বা এমন কোনও মাপকাঠি যা বোঝাবে, আপনার সঙ্গী আপনার 'সমকক্ষ' নন, বরং আপনার চেয়ে 'নিচে' অবস্থান করেন! এর ফলে আপনার সঙ্গী হীনমন্যতায় ভুগতে শুরু করবে। তাঁর আত্মসম্মানে আঘাতও লাগতে পারে।
‘শ্রেকিং’ এবং ‘গেটিং শ্রেকড’— দু'টোই সম্পর্কের একই গতিপ্রকৃতিকে বোঝায়। ‘গেটিং শ্রেকড’ বলতে বোঝায় একই কাজ করেও শেষ পর্যন্ত হৃদয়ভঙ্গ হওয়া। আসল প্রশ্নটা হল, এই যে সম্পর্ক গড়ার শুরু থেকেই মনস্তাত্ত্বিক খেলা খেলতে চাওয়া... এর মাধ্যমে কি সত্যিই ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া সম্ভব? এটা ডেটিংয়ের স্বাস্থ্যকর পন্থা হতেই পারে না। নিজের চেয়ে নিচু স্তরের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালেও কি হৃদয়ভঙ্গ এড়ানো সম্ভব?
যত সময় গিয়েছে, ততই প্রযুক্তির ধাক্কায় সম্পর্কে বিষ ছড়াচ্ছে বেশি করে। সহজেই জন্ম নিচ্ছে অবিশ্বাস। সেখানে শ্রেকিংয়ের মতো ট্রেন্ডে গা ভাসানো অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে যাচ্ছে। আজকাল যেভাবে ট্রাস্ট ইস্যু, ইমোশনাল ব্যাগেজ, ট্রমার মতো বিষয় বারবার ঢুকে পড়ছে সম্পর্কের চৌহদ্দিতে, সেখানে এমন ট্রেন্ড বোধহয় শুরুতেই ট্র্যাপিজের দড়ির উপরে হাঁটতে চাওয়া! শ্রেক চরিত্রটিকে ভালোবাসা যেতেই পারে, কিন্তু শ্রেকিং? সাধু সাবধান!