নতুন টেস্ট-টোয়েন্টি ফরম্যাটে চমক, একই সঙ্গে একই দলে খেলবেন পুরুষ ও মহিলারা, কীভাবে?
টেস্ট-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের উদ্যোক্তাদের দাবি, এতদিন ক্রিকেটে লিঙ্গসাম্যের কথা বহুবার বলা হলেও বাস্তবে সেটা সম্ভব হয়নি। এই প্রথম প্রকৃত অর্থে লিঙ্গসাম্য তুলে ধরা হবে ক্রিকেট মাঠে।
এত কিছু সত্ত্বেও নারী এবং পুরুষের ক্রিকেটের বিভেদ ঘোচানো গিয়েছে কি? প্রশ্নটা রয়ে গিয়েছে। আসলে এই উদ্যোগগুলির কোনওটিতেই নারী এবং পুরুষকে একত্রিত করে ভাবা হয়নি। যে বোর্ড বা যে সংস্থা মহিলা ক্রিকেটের উন্নতির কথা ভেবেছে, প্রত্যেকের ভাবনাই ছিল নারী ও ক্রিকেটের মধ্যে সমান্তরাল দূরত্ব বজায় রেখে। অর্থাৎ আলাদাভাবে মেয়েদের ক্রিকেটের উন্নতির কথা ভাবা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এই প্রথম সম্ভবত একই সঙ্গে একই দলে নারী ও পুরুষকে ক্রিকেট খেলানোর কথা ভাবছে একটি সংস্থা। ইতিমধ্যেই টেস্ট-টোয়েন্টি ফরম্যাটের কথা অনেকে জেনে গিয়েছেন। গোটা বিশ্বের প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের নিয়ে টেস্ট-টি-২০ ফরম্যাটের সংমিশ্রণে তৈরি একটি ফরম্যাটের টুর্নামেন্টের কথা ভেবেছে এক সংস্থা। ওই টুর্নামেন্টে একই সঙ্গে একই টিমে খেলবেন পুরুষ ও মহিলারা।
আরও পড়ুন:
অন্যান্য আইনকানুনের মধ্যে, প্রতিটি দল একটি মাত্র পাওয়ারপ্লে নিতে পারবে, প্রথম বা দ্বিতীয় ইনিংস-যখন খুশি। ৪ ওভার স্থায়ী এই পাওয়ারপ্লেতে ৩০ গজ বৃত্তের বাইরে থাকতে পারবে মাত্র দুই ফিল্ডার। যদি দ্বিতীয় ইনিংসের সপ্তম ওভারের মধ্যে অধিনায়ক পাওয়ারপ্লে কখন নেবেন সেই সিদ্ধান্ত না জানান, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সপ্তম থেকে দশম ওভার পর্যন্ত চলবে পাওয়ারপ্লে। বাকি নিয়ম কমবেশি একই।
আয়োজকদের প্রাথমিক টার্গেট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রথমবারের মতো মাঠে গড়ানোর কথা ছিল টেস্ট-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের। ছয়টি গ্লোবাল ফ্র্যাঞ্চাইজি অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে তিনটি দল হবে ভারতের শহরভিত্তিক এবং বাকি তিনটি দল দুবাই, লন্ডন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবে। যদিও এখনও টুর্নামেন্ট নিয়ে বিশেষ অগ্রগতি হয়নি।
নতুন এই সংস্করণের ধারণা নিয়ে এসেছেন ক্রীড়া উদ্যোক্তা ও দ্য ওয়ান ওয়ান সিক্স নেটওয়ার্কের সিইও গৌরব বহিরবানি। এই উদ্যোগের সঙ্গে এরই মধ্যে যুক্ত হয়েছেন একাধিক কিংবদন্তি। তালিকায় রয়েছেন স্যার ক্লাইভ লয়েড, ম্যাথু হেডেন, এবি ডি'ভিলিয়ার্স এবং হরভজন সিং। তাঁদের দাবি, ২০২৭ সালের শুরুতেই টুর্নামেন্ট শুরু হবে।
ধরা যাক একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি এই টুর্নামেন্টে খেলবে, সেই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে একই সঙ্গে একটি মহিলা ও একটি পুরুষ দল বানাতে হবে। টেস্ট-টোয়েন্টি যেহেতু দুই ইনিংসের খেলা, সেই দুই ইনিংসের একটি ইনিংস খেলবে পুরুষদের দল, আরেকটি ইনিংস খেলবে মহিলাদের দল। অর্থাৎ একটি ইনিংস খেলা হবে দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির পুরুষ দলের মধ্যে এবং আরেকটি ইনিংস খেলা হবে দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির মহিলা দলের মধ্যে।