চর দখল করে ক্যাফে! প্রকাশ্যে ‘মাছচোর’ শওকতের ‘নদীচোর’ ছেলের কুকীর্তি
শওকত মোল্লার ছেলে ইমরানের ক্যাফেটেরিয়ার নাম ‘অরণ্যের কূলে’। ইতিমধ্যে বেশ ভাইরাল।
ক্যানিং পূর্ব এবং পশ্চিমের যোগাযোগ রক্ষায় মজে যাওয়া মাতলা নদীর উপর কয়েক কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হয় তিনটি ব্রিজ। যে তিনটি ব্রিজ কয়েকদিন আগেই উদ্বোধন করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু ব্রিজ হয়েছে তাই নয় তাকে তৈরি করে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি কফি শপ। কোথাও বা বাঁশ দিয়ে কোথাও বা কংক্রিটের। কোনরকম অনুমতি ছাড়াই ক্যাফেটেরিয়াগুলো চলছে দিনের পর দিন।
আরও পড়ুন:
শওকত মোল্লার ছেলে ইমরানের ক্যাফেটেরিয়ার নাম 'অরণ্যের কূলে'। ইতিমধ্যে বেশ ভাইরাল। প্রায় ১০ একর জমির উপরে গড়ে উঠেছে এই ক্যাফে। তাকে সাজানো হয়েছে প্রায় কয়েক কোটি টাকা খরচ করে। একটি তিনতলা বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। চারিদিকে লোহার গ্রিলের বেড়া। পর্যটকদের থাকার জন্য কটেজও তৈরি করা হচ্ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের ফিশারি দখল করে তৃণমূলের লোকজন মোটা টাকায় তা বিক্রি করে দিয়েছে।
রাজ্য সরকারের ক্ষমতা পরিবর্তন হওয়ার আগে এই ক্যাফেতে প্রতিদিন বসতেন রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা। এমনকি পুলিশ প্রশাসনের বড় বড় আধিকারিকদের সান্ধ্য আড্ডা বসত এই ক্যাফেতে। বিরোধীরা অবশ্য সরকার পরিবর্তন হতেই এই ক্যাফেটেরিয়ার দিকে আঙুল তুলেছে। প্রভাব খাটিয়ে সরকারি পয়সা দিয়ে এই ক্যাফেটেরিয়ার উন্নয়ন করা হয়েছে বলেই অভিযোগ। মাতলা নদীর চরে সেচদপ্তরের জায়গায় কী করে এত বড় ক্যাফেটেরিয়া তৈরি করা হল, উঠছে প্রশ্ন।
ক্যাফে তৈরি করতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের টাকা বকলমে ঢোকানো হয়েছে এমনই অভিযোগ বিরোধীদের। শুধু শওকত মোল্লার ছেলেই নন, প্রাক্তন বিধায়ক 'ঘনিষ্ঠ' অনেকেই এখানে ক্যাফেটেরিয়া তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য বিকাশ সর্দার বলেন, "ক্ষমতা দেখিয়ে বহু গরিব মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়। জায়গাগুলো কোটি কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। যার উপর ক্যাফে তৈরি হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।"
আরও পড়ুন:
সরকারের পালাবদলের পরই তদন্তকারীদের নজরে শওকতপুত্রের 'বেআইনি' ক্যাফে। ইতিমধ্যে ইমরান মোল্লাকে আটক করেছেন তদন্তকারীরা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেই খবর। যদিও ঠিক কোন বিষয়ে তাকে আটক করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে শওকতের বাড়িতে যায় এনআইএ। ভাঙড়ের বামুনিয়ায় বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে যান আধিকারিকরা। এখনও খোঁজ পাওয়া যায়নি প্রাক্তন বিধায়কের। তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের বামুনিয়া এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় একজনের মৃত্যু পর্যন্ত হয়। আহত হন আরও বেশ কয়েকজন। সেই ঘটনার তদন্তে সম্প্রতি গতি বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তদন্তের সূত্রে বেশ কিছুদিন আগে আহিদুল ইসলাম নামে এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরেই এদিন এনআইএর একাধিক দল ভাঙড়ে হানা দেয়।
বুধবার রাজ্য় বিধানসভায় এসেছিলেন শওকত মোল্লা। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছাও জানিয়েছিলেন তিনি। রাতারাতি কোথায় গায়েব হয়ে গেলেন শওকত, তা-ই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। আপাতত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে হন্যে হয়ে খুঁজছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, কিছু নথিপত্র নিয়ে নাকি বাংলাদেশে পালাতে পারেন শওকত। সেদিকেও খেয়াল রাখলেন আধিকারিকরা।