World Autism Awareness Day

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস: শুধু চিকিৎসা নয়, শিশুদের প্রতি হতে হবে মানবিকও

অটিজম আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কেউ শব্দে নিজেকে প্রকাশ করে, কেউ নীরবতায়; কেউ ভিড়ের মধ্যে স্বচ্ছন্দ, কেউ নিজের ছোট্ট পরিসরে। এই ভিন্নতাগুলোই মানুষকে পূর্ণ করে। তাই পরিবর্তনটা তাদের নয়, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির হওয়া দরকার। দূরত্ব নয়, পাশে থাকা, হতে হবে মানবিক।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২, ২০২৬, ১৬:০৫

options
link
বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস: শুধু চিকিৎসা নয়, শিশুদের প্রতি হতে হবে মানবিকও
অটিজম কোনও অসুখ নয়, ডিসঅর্ডার। ছবি: সংগৃহীত

যে শিশু চোখে চোখ রাখে না, যে কিশোর ভিড় এড়িয়ে নিজের ছোট্ট জগতে স্বস্তি খোঁজে বা যে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষটি নীরবে নিজের মতো করে পৃথিবীকে বোঝে- তাদের প্রত্যেকের গল্প আলাদা, কিন্তু অদৃশ্য এক সুতোয় বাঁধা। সেই সুতোই অটিজম।

Advertisement

প্রতি বছর ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস (World Autism Awareness Day)  আমাদের সেই গল্পগুলো শোনার, বোঝার এবং নতুন করে দেখার সুযোগ করে দেয়। অটিজম কোনও সীমাবদ্ধতার নাম নয়; এটি ভিন্নভাবে অনুভব করা, ভিন্নভাবে বেঁচে থাকার এক বাস্তবতা, যাকে বুঝতে হলে প্রয়োজন সহমর্মিতা, ধৈর্য এবং মানবিকতা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

দিনটি শুধু একটি নির্দিষ্ট রোগ নিয়ে জানার জন্য নয়, বরং সমাজকে আরও সহানুভূতিশীল, মানবিক করে তোলার দিন। ২০২৬ সালের থিম- ‘Autism and Humanity: Every Life Has Value’, আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটি মানুষের অস্তিত্বের নিজস্ব মর্যাদা আছে।

Advertisement
World Autism Awareness Day 2026 urges awareness, early detection, and human compassion.
ছবি: সংগৃহীত

অটিজম কী?
অটিজম কোনও সাধারণ অসুখ নয়। এটি একটি নিউরোডেভেলপমেন্টাল অবস্থা, যা শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের শুরু থেকেই প্রভাব ফেলে। কারও সঙ্গে যোগাযোগ, আচরণ এবং সামাজিক সম্পর্কের ধরন এখানে আলাদা হয়ে ওঠে। তাই অটিজমকে এখন একটি ‘স্পেকট্রাম’ হিসেবে দেখা হয়, যেখানে প্রতিটি মানুষের অভিজ্ঞতা ভিন্ন।

লক্ষণ- যেভাবে বোঝা যায়
অটিজমে আক্রান্ত অনেক শিশু চোখে চোখ রাখতে স্বচ্ছন্দ নয়, নাম ধরে ডাকলেও সাড়া দিতে দেরি করে বা কথোপকথনে অংশ নিতে অসুবিধা অনুভব করে। তাদের আচরণে প্রায়ই দেখা যায় পুনরাবৃত্তি, অর্থাৎ, একই কাজ বারবার করা, নির্দিষ্ট রুটিনে আটকে থাকা বা কোনও একটি বিষয়ে গভীর আগ্রহ। অনেক সময় শব্দ, আলো বা স্পর্শের মতো সাধারণ অনুভূতিও তাদের কাছে তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

একা নয়, সঙ্গে থাকে আরও সমস্যা
অটিজম অনেক সময় একা আসে না। এর সঙ্গে থাকতে পারে অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (ADHD), এপিলেপ্সি বা অ্যানজাইটি ডিসঅর্ডারের মতো সমস্যা। এছাড়া ডিপ্রেশন, ঘুমের সমস্যা বা হজমজনিত অসুবিধাও দেখা যায়। ফলে অটিজমের চিকিৎসার সময় এইসব দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

World Autism Awareness Day 2026: Understand autism, its signs, and the need for empathy
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের চিত্র
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ জন শিশুর মধ্যে অন্তত একজন অটিজমে আক্রান্ত। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক সময়ে অটিজম শনাক্ত হয় না। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অনেকেই লক্ষণ বুঝতে পারেন না বা গুরুত্ব দেন না।

কারণ- একক নয়, অনেক
অটিজমের নির্দিষ্ট কোনও একক কারণ নেই। গবেষণায় দেখা গেছে, জেনেটিক প্রভাব এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি মস্তিষ্কের গঠন ও সংযোগের কিছু পার্থক্যও দায়ী হতে পারে। গর্ভাবস্থার কিছু পরিবেশগত কারণ নিয়েও গবেষণা চলছে, তবে এখনও নির্দিষ্ট কোনও একক কারণ চিহ্নিত হয়নি।

দ্রুত চিহ্নিতকরণ কেন জরুরি
শিশুর আচরণে যদি চোখে চোখ না রাখা, কথা বলতে দেরি, নাম ধরে ডাকলে সাড়া না দেওয়া বা একই আচরণ বারবার করার মতো লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, তত দ্রুত সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়।

World Autism Awareness Day
ছবি: সংগৃহীত

শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা
স্পিচ থেরাপি, বিহেভিয়ারাল থেরাপি বা অকুপেশনাল থেরাপির মাধ্যমে অটিজম আক্রান্তের দৈনন্দিন দক্ষতা অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব। তবে এর পাশাপাশি পরিবার এবং সমাজের সহমর্মিতাই সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে।

ভাঙতে হবে ভুল ধারণা
অটিজম নিয়ে এখনও অনেক ভুল ধারণা ছড়িয়ে আছে। কেউ কেউ মনে করেন, এটি খারাপ প্যারেন্টিং বা টিকার কারণে হয়, কিন্তু এই ধারণাগুলোর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। অটিজম কোনও অসুখ নয়, এটি একটি ডিসঅর্ডার। 

অটিজম আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কেউ শব্দে নিজেকে প্রকাশ করে, কেউ নীরবতায়; কেউ ভিড়ের মধ্যে স্বচ্ছন্দ, কেউ নিজের ছোট্ট পরিসরে। এই ভিন্নতাগুলোই মানুষকে পূর্ণ করে। তাই পরিবর্তনটা তাদের নয়, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির হওয়া দরকার। দূরত্ব নয়, পাশে থাকা, হতে হবে মানবিক।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.