এআই চ্যাটবটের মতো আধুনিক প্রযুক্তি যে কখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছে, তা বুঝি আমরা খেয়ালও করতে পারিনি। জীবনের ছোট ছোট কাজেও এখন হরহামেশা এআই-এর ব্যবহার চলে। কর্মক্ষেত্রে ছুটি চেয়ে চিঠি লিখতে হবে? অথবা বাড়ির একরত্তির প্রোজেক্ট জমা দিতে হবে রাত পেরোলেই? চোখ বুজে এআই-এর দ্বারস্থ হন সকলেই। আর এর ফলে যে কোনও ব্যক্তিগত তথ্যই বিনা প্রশ্নে ভাগ করে নিই এআই চ্যাটবটের (AI Chatbot) সঙ্গে। তবে এআই-এর এমন যথেচ্ছ ব্যবহার করার আগে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
আরও পড়ুন:
‘স্ট্যানফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান-সেন্টারড এআই’-এর একটি গবেষণায় ওপেনএআই, গুগল, অ্যানথ্রপিক, অ্যামাজন, মেটা ও মাইক্রোসফট-সহ ছয়টি বড় এআই চ্যাটবট নির্মাতার ‘প্রাইভেসি পলিসি’ খতিয়ে দেখা হয়েছিল। আর তা থেকেই তাঁরা এই সিদ্ধান্তে আসেন, যে ৫ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য কখনওই এআই-কে জানানো উচিত নয়।

১. ব্যক্তিগত পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য
নিজের পুরো নাম, বাড়ির ঠিকানা, ফোন নম্বর, পাসপোর্ট, আধার, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা অন্য কোনও পরিচয়পত্রের নম্বর চ্যাটবটে না দেওয়াই ভালো। শুধু টাইপ করা তথ্য নয়, আপলোড করা ফাইলের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রয়োজন। যেমন, চাকরির সিভি এআই দিয়ে ঠিক করাতে চাইলে আগে ঠিকানা, ফোন নম্বর বা অন্য পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য সরিয়ে দেওয়াই ভালো।
২. অত্যন্ত ব্যক্তিগত বিষয়
এআই চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথন অনেক সময় স্বাভাবিক আলাপচারিতার মতোই মনে হয় আমাদের কাছে। ফলে সম্পর্ক, মানসিক চাপ বা ব্যক্তিগত সমস্যার মতো বিষয়ও অনেকে বিস্তারিতভাবে লিখে ফেলেন। কিন্তু এমন সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করার আগে মনে রাখা দরকার, চ্যাটবট কিন্তু কোনও গোপনীয়তাজনিত আইনি সুরক্ষার দাবি করে না।
৩. চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য
স্বাস্থ্য নিয়ে এআই-এর সাহায্য নেওয়ার প্রবণতা ইদানিংকালে বেড়েছে। তবে রোগের রিপোর্ট, মেডিক্যাল হিস্ট্রি, প্রেসক্রিপশন প্রভৃতি সরাসরি চ্যাটবটে না দেওয়াই নিরাপদ। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রশ্ন করলেও ব্যক্তিগত পরিচয় বাদ দিয়ে সাধারণ তথ্য জানতে পারেন।
৪. অফিসের গোপন তথ্য
কোম্পানির অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট, ক্লায়েন্টের তথ্য, গোপন নথি বা চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চ্যাটবটে দেওয়া উচিত নয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও এমন তথ্য শেয়ার করা সংস্থার নীতি বা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করতে পারে।

৫. আর্থিক তথ্য
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য, ক্রেডিট কার্ড নম্বর, পে-স্লিপ, কর সংক্রান্ত নথি বা অন্যান্য আর্থিক তথ্য এআই চ্যাটবট থেকে শত হস্ত দূরে রাখুন। এই ধরনের তথ্য ফাঁস হলে প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ইতিমধ্যেই কোনও সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করে ফেললে, সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে চ্যাট হিস্ট্রি মুছে ফেলুন এবং অভিজ্ঞ কারও সাহায্য নিয়ে ‘প্রাইভেসি সেটিংস’ খতিয়ে দেখুন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পুজোর আগে চুলের জেল্লা ফেরাতে ডিম থেরাপি! আঁশটে গন্ধ দূর হবে ৫ ঘরোয়া টোটকায়
-
১২ বছরের দাম্পত্য জীবন, ঘুমন্ত স্ত্রীর মুন্ডু কাটলেন স্বামী! বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জের?
-
নেই বিল্ডিং, ফাঁকা জমিতে ভর্তি আগাছা, সরকারি খাতায় থাকলেও বাস্তবে অস্তিত্বই নেই হুগলির মাদ্রাসার
-
ছড়াচ্ছে ক্রিকেট, ভারত ম্যাচ নিয়ে জাপানেও তুঙ্গে উন্মাদনা, নিমেষে শেষ সব টিকিট
-
জোট প্রস্তাবে সাড়া দেননি অখিলেশ, এবার মায়াবতীর দ্বারস্থ ওয়েইসি! স্বস্তিতে বিজেপি