Amritsar

তীর্থে হারিয়ে বিহারে, এআই-এর সাহায্যে পাঞ্জাবের বৃদ্ধকে ঘরে ফেরালেন গয়ার যুবক

বৃদ্ধের মুখে শোনা গ্রামের নাম ধরে শুরু হয় খোঁজ। ইন্টারনেটে চ্যাটজিপিটির সাহায্যে তিন দিন পর নীরজ জানতে পারেন লুধিয়ানার মাচ্ছিওয়ারা সাহিবের কাছে ফতেগড় গুজরান নামে এক গ্রাম রয়েছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ২১:০৪

options
link
তীর্থে হারিয়ে বিহারে, এআই-এর সাহায্যে পাঞ্জাবের বৃদ্ধকে ঘরে ফেরালেন গয়ার যুবক
এআই ছবি।

পাঞ্জাব সরকারের মুখ্যমন্ত্রী তীর্থযাত্রা প্রকল্পে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির দর্শনে গিয়েছিলেন বৃদ্ধ। দলছুট হয়ে রাস্তা ভুলে তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন ১২০০ কিলোমিটার দূরে বিহারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে শেষমেষ বাড়ি ফিরলেন ৮০ বছরের সেই বৃদ্ধ চমন লাল। চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিয়ে বৃদ্ধের বাড়ির ঠিকানা খুঁজে তাঁকে প্রিয়জনকের কাছে ফেরালেন গয়ার এক যুবক।

Advertisement

জানা গিয়েছে, পাঞ্জাবের লুধিয়ানা জেলার ফতেগড় গুজরান গ্রামের বাসিন্দা চমন লাল। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতিভ্রংশের সমস্যায় ভুগছেন তিনি। এই অবস্থাতেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্পে যোগ দিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর অমৃতসর যান ওই বৃদ্ধ। কোনওভাবে সেখানে দলছুট হয়ে চলে যান স্টেশনে। এরপর ভুল ট্রেনে উঠে পৌঁছে যান বিহারের গয়ায়। ক্ষুদার্থ, বিধ্বস্ত অবস্থায় গয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। এই অবস্থায় তাঁকে দেখতে পান নীরজ নামে স্থানীয় বাসিন্দা। বৃদ্ধের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না তিনি। ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলে একটিই নাম বলছিলেন তিনি ফতেগড় গুজরান। পাঞ্জাবি ছাড়া অন্য ভাষা না জানায় কথোপকথনেও বিশেষ সুবিধা হয়নি।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্পে যোগ দিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর অমৃতসর যান ওই বৃদ্ধ। কোনওভাবে সেখানে দলছুট হয়ে চলে যান স্টেশনে। এরপর ভুল ট্রেনে উঠে পৌঁছে যান বিহারের গয়ায়।

বৃদ্ধের দুর্দশা দেখে নীরজ তাঁকে নিজের বাড়ি নিয়ে যায়। চারদিন ধরে নীরজের পরিবারের সঙ্গে ছিলেন চমন লাল। এর মধ্যেই বৃদ্ধের মুখে শোনা গ্রামের নাম ধরে শুরু হয় খোঁজ। ইন্টারনেটে চ্যাটজিপিটির সাহায্যে তিন দিন পর নীরজ জানতে পারেন লুধিয়ানার মাচ্ছিওয়ারা সাহিবের কাছে ফতেগড় গুজরান নামে এক গ্রাম রয়েছে। এরপর আর বৃদ্ধকে একা ছাড়েননি নীরজ। চমন লালকে সঙ্গে নিয়ে গয়া থেকে লুধিয়ানা হয়ে আসেন মাচ্ছিওয়ারায়। এখানে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করে পৌঁছন বৃদ্ধের গ্রামে। গ্রামে ঢোকার পর বৃদ্ধকে চিনতে পারেন কৃষাণ লাল নামে এক ব্যক্তি।

Advertisement

এরপর আর অসুবিধা হয়নি। বৃদ্ধের বাড়িতে খবর পৌঁছতেই ছুটে আসেন চমন লালের নাতি সুখচেইন সিং। তিনি বলেন, অমৃতসরে বহু খোঁজাখুঁজি, পুলিশে খবর দেওয়া, এমনকী সোশাল মিডিয়ায় দাদুর ছবি দিয়েও কোনও খবর পাওয়া যায়নি। এমন অতর্কিতে প্রিয়জনকে ফিরে পেয়ে খুশি পরিবার। নীরজকে মালা পরিয়ে রীতিমতো সংবর্ধনা দেওয়া হয় গ্রামে। দেওয়া হয় উপহারও। পেশায় নির্মাণ শ্রমিক নীরজ বলেন, “একজন প্রবীণ মানুষের কষ্ট দেখে এড়িয়ে যেতে পারিনি। গ্রামের নাম জানার পর মনে হল, ওনাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়াটা আমার দায়িত্ব। সেই কাজটুকুই করেছি মাত্র।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.