মক্কা চুক্তি বা মুসলিম ন্যাটো শাঁখের করাত হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের জন্য। সৌদি আরবে হাউথির লাগাতার হামলায় মুসলিম ন্যাটোর নিস্ক্রিয়তা গোটা বিশ্বের সমালোচিত। এরইমাঝে পাকিস্তানের মাটিতে সরাসরি হামলার হুঁশিয়ারি দিল হাউথি বিদ্রোহীরা। বলা হয়েছে, সৌদির সঙ্গে যুদ্ধে পাকিস্তান বা তুরস্ক যদি নাক গলায় তবে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। সবমিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত জটিল আকার নিয়েছে।
সৌদিতে লাগাতার হামলার মাঝেই মক্কা চুক্তির শরিক দুই দেশ পাকিস্তান ও তুরস্ককে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হাউথি নেতা আল-বুখাইতি। তিনি বলেন, ইসলামাবাদ বা আঙ্কারা যদি এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে তবে তাদের উপরও সরাসরি হামলা চালানো হবে। ইয়েমেন এখনও পর্যন্ত আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান বা তুরস্ক হস্তক্ষেপ করলে আমরা ছেড়ে কথা বলব না। ইয়েমেনে কোনও বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে ওদের উপরও হামলা চলবে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে হওয়া মক্কা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যদি এই তিন দেশের মধ্যে কোনও দেশে হামলা হয় সেক্ষেত্রে বাকিরা এই হামলাকে নিজেদের উপর হামলা হিসেবে গণ্য করবে। তিন দেশ যৌথভাবে তা প্রতিরোধ করবে।
আরও পড়ুন:
ইয়েমেন এখনও পর্যন্ত আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান বা তুরস্ক হস্তক্ষেপ করলে আমরা ছেড়ে কথা বলব না। ইয়েমেনে কোনও বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
এর ঠিক পরই সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হয় হাউথির। চুক্তির বাস্তব প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হতেই অবশ্য পিঠটান দিয়েছে ইসলামাবাদ। বিবৃতি দেয়, সৌদি আরবের সঙ্গে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির অর্থ এই নয় যে, হাউথিদের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাকিস্তানকে সামরিক পদক্ষেপ করতে হবে। ইয়েমেনে সেনা পাঠানোর বিষয়ে কোনও পরিকল্পনা আপাতত তাদের নেই। পাকিস্তান পালটি খেলেও তুরস্ক এখনও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, “আমরা দেখছি সৌদি আরবের উপর লাগাতার হামলা হচ্ছে। সৌদি আমাদের প্রতিরক্ষা চুক্তির শরিক। ফলে প্রয়োজন হলে আমরা ওদের সামরিকভাবে সাহায্য করতে প্রস্তুত।”
গোটা ঘটনায় বিশ্বমঞ্চে বেআব্রু পাকিস্তানের ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানী’ কূটনীতি। আমেরিকার প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল এইচআর ম্যাকমাস্টার বলেন, মক্কা চুক্তির পেছনে পাকিস্তানের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট। বরং বলা যেতে পারে কিছুটা বিপাকে পাকিস্তান। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের শুরুতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মাঠে নেমেছিল ইসলামাবাদ। তাদের সেই পদক্ষেপ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে ইরান সমর্থিত হাউথির সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে পাকিস্তানের শত্রু হয়ে উঠবে ইরান। যা কোনওভাবেই চান না শাহবাজ সরকার। ফলে গোটা পরিস্থিতিতে কূটনৈতিকভাবে চরম টানাপোড়েনের মুখে ইসলামাবাদ। এখন যে কোনও পদক্ষেপ পাকিস্তানের জন্য বুমেরাং হতে পারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পুজোর আগে ঘরকে দিন নতুন রূপ, এই ৬ জিনিস বদলালেই কেল্লাফতে
-
সুদর্শন নায়কের টানেই পড়াশোনায় মন! পাঠ্যবইয়ে হৃত্বিক সংক্রান্ত প্রশ্নের প্রস্তাব কলকাতার স্কুলের
-
ইমরানের মুক্তিতে দাবিতে বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি, ঘোষণা হতেই গ্রেপ্তার প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রীর বোন
-
অফসাইড গোলে চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান! শিল্ড বয়কটের ভাবনা মহামেডানের, কী ভাবছে আইএফএ?
-
হ্যারি-মেগানকে হেয় সংবাদমাধ্যমের! ডায়নার পরিণতি মনে করালেন ভাই স্পেনসার