কাইঞ্চি ধামে আধ্যাত্মিকতার খোঁজে জুকারবার্গ থেকে বিরুষ্কা, কোন মাহাত্ম্য লুকিয়ে এই আশ্রমে?
সাম্প্রতিককালে নিম করোলি বাবার জীবনের উপর আধারিত ‘হনুমান অংশ’ সিনেমার মুক্তির পরে পর্যটকদের কাছে নতুনভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কাইঞ্চি ধাম।
এখানে কেউ আসেন মানসিক শান্তির জন্য, কেউ আধ্যাত্মিক টানে। কথিত রয়েছে, নিম করোলি বাবার উদ্যোগে এইখানে প্রথম মন্দিরটির স্থাপনা হয় ১৯৬৮ সালে। সাধারণভাবে প্রচলিত ধারণা হল, এইখানে দুটি পাহাড় একে অপরকে ছেদ করে কাঁচির মতো আকৃতি তৈরি করেছে, তাই জায়গার এমন নাম। নিম করোলি বাবার জীবন রহস্যে মোড়া, ভক্তরা তাঁকে ভালোবেসে ‘মহারাজ-জি’ বলে ডাকলেও তাঁর আসল নাম ভিন্ন।
আরও পড়ুন:
উত্তরপ্রদেশে জন্ম নিয়েছিলেন লক্ষ্মণ নারায়ণ শর্মা নামে। পরবর্তী জীবনে সংসার ছেড়ে আধ্যাত্মিক সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। তিনি ছিলেন ভগবান হনুমানের ভক্ত। তাঁর আশ্রম ও কর্মকাণ্ডের সমস্তটাই গড়ে উঠেছে হনুমানের উপাসনাকে কেন্দ্র করে। তাঁর শিক্ষার মূল ভিত্তি খুবই সাধারণ—মানুষকে ভালোবাসা, মানুষের সেবা, ঈশ্বরকে স্মরণ করা প্রভৃতি। দীর্ঘ বক্তৃতার বদলে নিজের অতিসাধারণ জীবনযাপন ও আচরণই ছিল তাঁর শিক্ষাদানের মাধ্যম।
তাঁর মৃত্যুর পর এই দর্শন তাঁর অনুসারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁকে নিয়ে নানা কাহিনী লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে। বিবিধ অলৌকিক লীলা করতে পারতেন বাবা নিম করোলি বাবা, আজও তা বিশ্বাস করে সাধারণ ভক্তরা। শোনা যায়, তাঁকে রেলগাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার পরেই নাকি সে গাড়ি থেমে যায়। সকলের অনুরোধে বাবা ফের চড়ে বসতেই গাড়ি চালু হয়ে যায়।
অন্য এক কাহিনী মতে, আমেরিকাবাসী জনৈক রিচার্ড অ্যালপার্ট নিম করোলি বাবার সংস্পর্শে আসার পর বদলে যান। রামদাস নাম গ্রহণ করে আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের পথে চালিত করেন পরবর্তী জীবন। তাঁর বই ‘বি হিয়ার নাও’ (Be Here Now)-তে সে সমস্ত ঘটনা লেখেন তিনি। পশ্চিমে নিম করোলি বাবার শিক্ষা ও ভারতীয় আধ্যাত্মিকতার পরিচিতি ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই বই।
আরও পড়ুন:
১৯৭৪ সালে ভারত ভ্রমণের সময় নিম করোলি বাবার আশ্রম দর্শন করে স্টিভ জোবস। ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ফেসবুক-স্রষ্টা মার্ক জাকারবার্গ জানান যে স্টিভ জোবসের পরামর্শেই তিনিও কাইঞ্চি ধাম দর্শনে এসেছিলেন। জীবনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে সে সময়ে মানসিক বিপর্যয়ে ছিলেন তিনি।
চলতি বছরেই মুক্তি পেয়েছে হিন্দি ছবি ‘হনুমান অংশ’। নিম করোলি বাবার জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই বায়োপিক ইতিমধ্যেই বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাড়া পেয়েছে। আর তারপর থেকেই পর্যটকদের ঢল নেমেছে কাইঞ্চি ধামে। নৈনিতাল থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে এই ধাম, গাড়ি করে ৪৫ মিনিট মতো সময় লাগে আসতে। কেবল সফলতা পেতে নয়, প্রকৃতির কোলে এই অনন্য ধামে আধ্যাত্মিকতার খোঁজে আসাই যায়।