ফিক্সিংয়ের ‘পুরস্কার’ নারীসঙ্গ, ভূরি ভূরি টাকা, আইপিএলে ফের গড়াপেটার ছায়ায় কলঙ্কিত ক্রিকেট
সিএসকে’র তরুণ ক্রিকেটারের উপর গড়াপেটার সন্দেহের ছায়া।
২০১২-তে আইপিএল চলাকালীন একটি সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থা স্টিং অপারেশন চালায়। যেখানে পাঁচজন ক্রিকেটারকে স্পট ফিক্সিংয়ের বিনিময়ে টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে বিসিসিআই। পাঁচ ক্রিকেটারকেই কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। ডেকান চার্জাসের টিপি সুধীন্দ্রকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়। সেখানে কেঁচো খুড়তে কেউটে বেরিয়ে আসে। জানা যায়, ২০০৯ সালেও স্পট ফিক্সিং হয়েছিল। সেই জন্য তাঁকেও নিষিদ্ধ করা হয়।
আরও পড়ুন:
এছাড়া কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের অমিত যাদব, শলভ শ্রীবাস্তব ও পুণে ওয়ারিয়ার্সের মোহনীশ মিশ্রকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকজন তো বলেছিলেন, তাঁদের কাছে কালো টাকা রয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে স্টিং অপারেশন চলে। মোহনীশ তো বলেছিলেন, তাঁকে ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে ওই সময়ে ১.২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। অথচ বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, তখন আনক্যাপড প্লেয়ার ৩০ লক্ষের টাকা বেশি পেত না। পরে সুধীন্দ্রর ব্যান তুলে দেওয়া হয়।
সবচেয়ে লজ্জাজনক অধ্যায় ঘটে ২০১৩ সালে। স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে তারকা ক্রিকেটার এস শ্রীসন্থ ছাড়া অজিত চাণ্ডিলা ও অঙ্কিত চৌহানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া অভিনেতা বিন্দু দারা সিং, হিরা ব্যবসায়ী প্রিয়াঙ্ক সোপানি ও চেন্নাই সুপার কিংসের গুরুনাথ মেয়াপ্পানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে হোটেলে 'হানি ট্র্যাপের' ফাঁদও ছিল। যা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে।
চণ্ডীগড়ের একটি পাঁচতারা হোটেলে শ্রীসন্থ, অঙ্কিত চৌহানরা ছিলেন। ফুটেজে ধরা পড়ে এক মহিলা তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে ছিলেন শ্রীসন্থের বন্ধু ও বুকি জিজু জনার্দন। প্লেয়ারদের হাতে উপহার তুলে দেওয়া হয়। ঘটনাচক্রে, ওইদিনের ম্যাচেই গড়াপেটা করা হয়েছিল। পরে দিল্লি পুলিশ শ্রীসন্থদের ফোন ট্র্যাক করে জানতে পারে, রাজস্থানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে ওই মহিলাদের যোগাযোগ ছিল। ম্যাচ গড়াপেটার 'পুরস্কার' হিসেবে এসকর্ট সার্ভিস দেওয়া হত।
আরও পড়ুন:
ওই গড়াপেটার ঘটনায় অনেকেই যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ সালে লোধা কমিটি চেন্নাই সুপার কিংস ও রাজস্থান রয়্যালসকে দু'বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। এরপর বিসিসিআই শ্রীসন্থ ও অঙ্কিত চৌহানকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে। অমিত সিংকে ৫ বছরের জন্য ও সিদ্ধার্থ ত্রিবেদীকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। শ্রীসন্থ ব্যাপারটি আদালতে নিয়ে যান। এছাড়া রাজস্থান রয়্যালসের মালিক রাজ কুন্দ্রাকে আইপিএল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।
ফের যাতে এই পরিস্থিতি না হয়, তাই বোর্ড অতিসক্রিয়। বোর্ড চিন্তিত, অনুমতি ছাড়া ঢুকে প্লেয়ারদের 'হানি ট্র্যাপ' বা 'মধুচক্রে' ফাঁসানো হতে পারে। এছাড়া যৌন হেনস্তার মতো অভিযোগ উঠতে পারে। বিশেষ করে প্লেয়ারদের 'প্রেমিকা'রা হোটেলে থাকছেন জল্পনা রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় তাঁদের ফাঁসিয়ে দেওয়া হতে পারে। এবার এক প্রাক্তন রনজি খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে স্টিং অপারেশন চালাতে গিয়ে উঠে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য।
জানা গিয়েছে, ওই খেলোয়াড় রচিত ভাটিয়ার কাছে সিএসকের প্রথম একাদশের তথ্য থাকত ম্যাচের বহু আগে থেকেই। জুয়াড়িদের কাছে সেই তথ্য বিক্রি করতেন তিনি। ভাটিয়ার ইঙ্গিত, বংশ বেদী নামে এক তরুণ ক্রিকেটার দলের গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন। প্রত্যেক টিম লিস্ট পিছু ৬০ লক্ষ টাকা দরও হাঁকতেন তিনি। রচিত জানিয়েছেন, ২০২৫ আইপিএলের পাঁচটি ম্যাচের টিমলিস্ট এভাবেই বিক্রি করেছেন। এরপর ম্যাচপিছু ১ কোটি টাকা ধার্য করেছিলেন ২০২৬ আইপিএলে।