তিন দশকের গেরুয়া গড়ে ধস, ভরাডুবি সামলে কোন অঙ্কে ‘কামব্যাক’ প্রশান্ত কিশোরের?
আগের বার নিজে ভোটে দাঁড়াননি, এবার বাঁকিপুরে ভোটে লড়ে কাঙ্ক্ষিত জয় পেলেন পিকে।
পিকে বলেছিলেন, ''অনেকে মনে করছেন আমি বিহার ছেড়ে চলে যাব। এটা আপনাদের ভুল ধারণা। বিহারকে না বদলিয়ে আমরা রাজ্য ছাড়ছি না।'' ফলপ্রকাশের পরে চলে যান পশ্চিম চম্পারণের ভিটিহারওয়া আশ্রমে। সেখানে নাকি একটা গোটা দিন নিজের সঙ্গে কাটিয়েছিলেন পিকে। সেদিনই মনে মনে ঠিক করে ফেলেছিলেন ফেরার অঙ্ক। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় 'বিহার নবনির্মাণ যাত্রা'। গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়িয়ে বুঝতে চেষ্টা করেন জনমত।
আরও পড়ুন:
পিকে সিদ্ধান্ত নেন আগামী ৫ বছর তিনি তাঁর রোজগারের ৯০ শতাংশ অর্থই দেবেন দলকে। বাংলো ছেড়ে থাকতে শুরু করেন নবনির্মাণ আশ্রমে। ৫ একরের ওই আশ্রমে তাঁর সঙ্গে থাকতে শুরু করেন দলের তিনশোরও বেশি কর্মী। কর্পোরেটের হিসেব নিকেশের উপরে ভরসা না রেখে কর্মীদের সঙ্গে নেমে পড়েন লড়াইয়ে। ১৩০০ কর্মীকে ছাঁটাই করেন জেএসপিটি থেকে, যে সংস্থা বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্বে ছিল।
মহিলা ভোটার, বুথ ম্যানেজমেন্ট, আলাদা জাতিভিত্তিক ফ্রন্ট গড়েন পিকে। সেই সময় থেকেই তাঁর নজর ছিল বাঁকিপুরে। ১৯৯৫ সাল থেকে এখানে হারেনি বিজেপি। নীতিন নবীনের বাবা কিশোর প্রসাদ সিনহা ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত একাধিকবার এই কেন্দ্রের বিধায়ক হন। তাঁর মৃত্যুর পর ২০০৬ সালে উপনির্বাচনে এখানে জয়ী হয়েছিলেন নীতীন। তার পর থেকে নীতীন ও বাঁকিপুর ছিল কার্যত সমার্থক শব্দ।
গতবার নিজে ভোটে লড়েননি। এবার প্রার্থী হলেন পিকে। তাও বাঁকিপুর থেকেই। নিজেকে 'তৃতীয় বিকল্প' হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। আর এতে তিনি যথার্থই সফল হয়েছেন। একদিকে 'ককরোচে'র আন্দোলনে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল গেরুয়া শিবিরকে। অন্যদিকে আরজেডি-কংগ্রেস নিজেদের তুলে ধরতে পারেনি। এই সুযোগেই জয় ছিনিয়ে নিলেন পিকে।
আরও পড়ুন:
এই জয়ের পর অনেকেই মনে করছে বিহারে ক্রমেই আরও মৌরসী পাট্টা গেড়ে বসতে চলেছে পিকের দল। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই একথা বলার সময় আসেনি। বাঁকিপুর মূলত শহুরে বাসিন্দায় ভরা। শিক্ষিতের হারও অনেক বেশি। কিন্তু বিহারের ৮৯ শতাংশ মানুষই থাকেন গ্রামে। গ্রামীণ ও শহুরে ভোটারের এই পার্থক্য বুঝিয়ে দেয় বাঁকিপুরের জয়েই আত্মতুষ্ট হলে চলবে না পিকের। এখনও অনেক পথ চলার বাকি।