প্যান্টের ফাঁক থেকে উঁকি দিচ্ছে অন্তর্বাস! বিশ্বকাপে ইয়ামালের ‘অন্দর কি বাত’, মালামাল হল কে?
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বজয়ী। ঝুলিতে রয়েছে ইউরো কাপ, লা লিগা থেকে শুরু করে একঝাঁক ট্রফি লামিনে ইয়ামালের।
বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, ক্লান্ত ইয়ামাল জার্সি দিয়ে মুখ মুছছেন। আর প্যান্টের ফাঁক থেকে উঁকি মারছে বার্সেলোনা তারকার অন্তর্বাস। গোড়ায় বিষয়টিকে সেরকম আমল দেননি কেউই। ম্যাচ চলাকালীন ইয়ামাল একাধিকবার এইভাবে জার্সি তুলেছেন। স্পেন চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাওয়ার দিনকয়েক পরে ইয়ামালের অন্তর্বাসের ছবি পোস্ট করে ৬পিএম সিজন নামে একটি ব্র্যান্ড।
আরও পড়ুন:
তখন থেকেই গোটা বিশ্বের নজর কেড়ে নেয় ইয়ামালের অন্তর্বাস। কোন ব্র্যান্ড, কী রং, কত দাম-ইয়ামালের অন্তর্বাস নিয়ে আগ্রহ বাড়তে থাকে নেটিজেনদের। এখানেই শেষ নয়, ইয়ামালের মতো অন্তর্বাস কিনতে লাইন পড়ে যায় ক্রেতাদের। জানা গিয়েছে, ৬পিএম সিজনের নির্দিষ্ট কিছু অন্তর্বাস চোখের নিমেষে বিক্রি হয়ে গিয়েছে। গাঁটের কড়ি খরচ করেও সেই অন্তর্বাস কিনতে পারছেন না আমজনতা।
ইয়ামালের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর কত অন্তর্বাস বিক্রি হয়েছে সেই নিয়ে ৬পিএম সিজনের তরফে কিছু জানানো হয়নি। কিন্তু এই অন্তর্বাস নিয়ে জনমানসে আগ্রহ বাড়ছে সেটা সোশাল মিডিয়াতেই স্পষ্ট। অনলাইনে ৬পিএম সিজনের স্টোর বলছে, একজোড়া অন্তর্বাসে দাম ৩০ ইউরো, ভারতীয় মুদ্রায় ৩২৯৮ টাকা। আকাশছোঁয়া চাহিদা সামাল দিতে অন্তর্বাস উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ইচ্ছাকৃতভাবে বিশ্বকাপের মঞ্চে অন্তর্বাস প্রদর্শন করছিলেন ইয়ামাল? পছন্দের ব্র্যান্ডের প্রচার করছিলেন? উত্তরটা 'না'। টুর্নামেন্টের শুরুতে বা ফাইনালের আগে ওই ব্র্যান্ডের তরফ থেকে কোনও চুক্তি করা হয়নি ইয়ামালের সঙ্গে। সাধারণত এই ধরনের বড় মঞ্চে ব্র্যান্ডের প্রচার করতে হলে সংস্থাগুলিকে বিরাট খরচ করতে হয়। ইয়ামালের ক্ষেত্রে সেসব কিছুই হয়নি।
আরও পড়ুন:
স্পেনের তরুণ তুর্কির একটা কাজের ফলেই ৬পিএম সিজনের ব্র্যান্ড ভ্যালু আকাশ ছুঁয়েছে। কোনও খরচ ছাড়া, কোনও উদ্যোগ ছাড়াই আশাতীত সাফল্য় পেয়ে গিয়েছে এই জার্মান সংস্থাটি। তবে স্রেফ পুরুষ নয়, মহিলাদের অন্তর্বাসও তৈরি করে তারা। এছাড়াও হুডি, সোয়েটপ্যান্ট, জুতো, জিনসের পোশাক সমস্তই মেলে সেখানে। তবে বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ডগুলির তালিকায় আসে না এই ৬পিএম সিজন। ইয়ামালের এহেন ঘটনার পরই প্রচারের আলোয় এসেছে তারা।
তবে স্রেফ অন্তর্বাস নয়, বিশ্বকাপ ফাইনালে নজর কেড়ে নিয়েছে ইয়ামালের আরও এক বিষয়। তা হল স্প্যানিশ তারকার ছোট্ট ভাই কেইন ইয়ামাল। বয়স মাত্র সাড়ে তিন। অনেকে তো কেইনকে বিশ্বকাপের সেরা ফ্যান তকমা দিয়ে দিয়েছে। বিশ্বজয়ের মঞ্চ মাতাল তার কাণ্ড। মাঠ জুড়ে ঘুরে বেড়াল, দাদার কোলে উঠে পড়ল। কখনও বা খোদ মার্কিন পুলিশকেই প্যাঁচে ফেলে দিল।
বিশ্বকাপে স্পেনের সব ম্যাচেই তাকে নিয়ে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকছেন লামিনের মা শেইলা ইবানা। এমনও দেখা গিয়েছে, মায়ের কোল থেকেই মাঠে দাঁড়ানো দাদার উদ্দেশ্যে ‘ফ্লাইং কিস’ দিচ্ছে কেইন। পাল্টা আদর ফিরিয়ে দিয়েছেন লামিনেও। ভাইয়ের প্রতি দাদার ভালোবাসা অকৃত্রিম। বহু সাক্ষাৎকারে কেইনকে নিজের সবচেয়ে প্রিয় বলেও উল্লেখ করেছেন লামিনে। দাদাকে উৎসাহ দিতে তাই মার্কিন মুলুকে শহরে শহরে ঘুরেছে এই খুদেও।