কুনজর থেকে বাঁচতে পয়লা বৈশাখে বাড়িতে আনুন এগুলি, দূর করা জরুরি কোন ‘অশুভ’ জিনিস?
শাস্ত্রমতে বছরের প্রথম দিনটা যে কোনও কাজের জন্যই শুভ। নতুন কিছু শুরু করতে হলে এই দিনটি নিশ্চিন্তে নির্বাচন করুন। কিংবা পরে সময় হলে করবেন, এমন কাজের পরিকল্পনা করার জন্যও এই দিনটিকে শুভ মনে করা হয়।
হিন্দু ধর্মে তুলসি গাছের গুরুত্ব অসীম। তার উপর আবার বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, তুলসি গাছ অত্যন্ত শুভ। তাই নববর্ষের প্রথম দিনে বাড়িতে আনুন তুলসি গাছ। তাতে ভগবান বিষ্ণু প্রসন্ন হবেন। মিলবে আশীর্বাদ। ঘরের নেতিবাচকতা দূর হবে। তার ফলে আপনার আর্থিক সমৃদ্ধি হবে। আবার মানসিকভাবে অনেক ইতিবাচক হবেন আপনি। তবে গাছটি যেন শুকিয়ে না যায়, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখুন।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
বাস্তুতন্ত্র অনুযায়ী, বাড়ির প্রধান দরজার উপরে আপনার সংসারের শুভাশুভ নির্ভর করে। তাই নতুন বছরের প্রথম দিনে সেদিকে বিশেষ নজর রাখুন। এদিন প্রধান দরজার বাইরে আম কিংবা অশোক পাতার মালা টাঙান। প্রতি ১৫ দিন অন্তর আম কিংবা অশোক পাতার মালা বদলে ফেলুন। শুকনো পাতা আপনার সংসারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যেন শুকিয়ে না যায়, সেদিকে অবশ্যই নজর দিন।
ঘোড়ার নাল বাস্তুতন্ত্র অনুযায়ী অত্যন্ত শুভ। আর তা আপনার বাড়ির মূল দরজায় টাঙালেই মিলবে সুফল। এখনও কি আপনার ঘরের দরজায় ঘোড়ার নাল টাঙানো হয়নি? বছরের প্রথম দিনে তবে সেই কাজ সেরে ফেলুন। দরজায় অবশ্যই টাঙান ঘোড়ার নাল। তারপর একটি প্রদীপ জ্বালান। শনিদেবের মন্ত্র জপ করতেও ভুলবেন না। গোটা প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন হলে কুনজর থেকে মিলবে মুক্তি।
এবার চলুন কুনজর কাটাতে বাড়ির ভিতরে নজর রাখা যাক। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, রান্নাঘরই হল লক্ষ্মীর আধার। তাই বছরের প্রথমদিন রান্নাঘর একেবারে পরিষ্কার করতে ভুলবেন না। তারপর স্নান সেরে নিন। শুদ্ধবস্ত্রে একটি সাদা কাপড় নিন। তাতে কিছুটা গম এবং সৈন্ধব লবণ মিলিয়ে একটি পুঁটলি তৈরি করুন। তা রান্নাঘরের কোনও এক কোণে রেখে দিন। প্রধান দরজাতেও টাঙাতে পারেন। তাতেই কুনজর থেকে পাবেন রেহাই।
নতুন বছরের প্রথম দিনে ময়ূরের পালক ঘরে আনতে পারেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অত্যন্ত প্রিয় ময়ূরের পালক। বাস্তুতন্ত্র অনুযায়ী, ময়ূরের পালক বাড়িতে রাখলে সংসারে শান্তি, সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। অবশ্যই ঘরের উত্তর-পূর্ব দিকে কিংবা পুজোর স্থানে রাখুন ময়ূরের পালক। তাতে মানসিক অস্থিরতা দূর হবে। ইতিবাচক শক্তিতে ভরে উঠবে আপনার সংসার।
বছরের প্রথম দিনে অনেকেই মন্দিরে পুজো দিতে যান। লক্ষ্মী-গণেশ পুজোর সময় নারকেল অর্পণ করেন। কারণ, নারকেলকে বাস্তুমতে দেবী লক্ষ্মীর প্রতীক হিসাবে গণ্য করা হয়। নতুন বছরের প্রথম দিনে আপনি একটি লাল কাপড়ে মুড়ে নারকেল দেবী লক্ষ্মীর আসনে রাখতে পারেন। নইলে আলমারি কিংবা যেখানে টাকা রাখেন, সেখানেও রাখতে পারেন। কেনার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন নারকেলটি যেন পরিষ্কার ও অক্ষত হয়।
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, ধাতব কচ্ছপ অত্যন্ত শুভ। দীর্ঘায়ু, স্থিরতা ও সৌভাগ্যের প্রতীক ধাতব কচ্ছপ। নববর্ষের প্রথম দিনে কচ্ছপ বাড়িতে আনতে পারেন। পিতল, তামা কিংবা রুপো কচ্ছপ কিনুন। অবশ্যই বাড়ির উত্তর দিকে তা রাখুন। ব্যবসা ও চাকরিক্ষেত্রে আপনার উন্নতি কেউ রুখতে পারবেন না। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের সার্বিক উন্নতিও হবে।
নতুন বছরের শুরুতে বাড়ি থেকে কিছু জিনিসপত্র সরিয়ে রাখা উচিত। নইলে সমস্যায় পড়তে পারেন। অবশ্যই সেই তালিকায় একেবারেই প্রথমে রয়েছে ভাঙা জিনিস। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, বাড়িতে ভাঙা জিনিসপত্র জমিয়ে রাখা একেবারেই অনুচিত। তাতে নাকি মা লক্ষ্মী রুষ্ট হন। তাই নববর্ষের আগেই বাড়ি থেকে ভাঙা জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলুন।
খারাপ হয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিন সামগ্রী কেউ কেউ অনেকদিন বাড়িতে জমিয়ে রাখেন। অবহেলায় পড়ে থাকা সেসব সামগ্রীর উপর ধুলোর আস্তরণ জমে যায়। তার ফলে নেতিবাচক শক্তিতে ভরে ওঠে আপনার বাড়ি। তাই ভুল করেও বাড়িতে এসব জিনিস জমিয়ে রাখবেন না। নতুন বছর মানে নতুন শুরু। নিজেকে কুনজর থেকে বাঁচাতে চাইলে খারাপ হয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিন সামগ্রী ফেলে দেন।
সবুজ, সজীব গাছ ইতিবাচকতার লক্ষণ। মৃত গাছের প্রভাব আবার একেবারেই বিপরীত। অনেকে গাছের দিকে নজর দেন না। দিনের পর দিন বাড়ির টবে শুকনো গাছ পড়ে থাকে। ভুলেও এই ধরনের গাছ বাড়িতে ফেলে রাখবেন না। তাতে আপনার এবং আপনার সংসারের ক্ষতি হতে পারে। তাই শুকনো গাছ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরিয়ে ফেলুন। সাংসারিক উন্নতি হতে বাধ্য। তাই আর দেরি না করে ঘর পরিষ্কারে নজর দিন।