Akshaya Tritiya 2026

অক্ষয় তৃতীয়ায় কী দান করলে মেলে শ্রীকৃষ্ণের কৃপা, জানুন পুরাণের কাহিনি

বৈশাখ মাস শ্রীহরির অতিপ্রিয়। শাস্ত্রে বলা হয়, বৈশাখের সমান মাস আর মাধবের সমান দেবতা ত্রিভুবনে নেই। এই পুণ্য মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিটিই হল ‘অক্ষয় তৃতীয়া’।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১৪:৩১

options
link
অক্ষয় তৃতীয়ায় কী দান করলে মেলে শ্রীকৃষ্ণের কৃপা, জানুন পুরাণের কাহিনি
পুরাণ মতে, অক্ষয় তৃতীয়ায় এই দানেই মিলবে অক্ষয় ফল।

বৈশাখ মাস শ্রীহরির অতিপ্রিয়। শাস্ত্রে বলা হয়, বৈশাখের সমান মাস আর মাধবের সমান দেবতা ত্রিভুবনে নেই। এই পুণ্য মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিটিই হল ‘অক্ষয় তৃতীয়া’। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ দিনে যা শুরু হয়, তার বিনাশ নেই। ১৯ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পুরাণ মতে, এই তিথি শুধু উৎসবের নয়, বরং অনন্ত পুণ্যফল লাভের এক অনন্য সুযোগ।

Advertisement
ছবি: সংগৃহীত

মৎস্যপুরাণ ও বরাহপুরাণে এই তিথির মহিমা শতমুখে বর্ণিত হয়েছে। প্রলয়জল থেকে ধরণীকে উদ্ধার করে ভগবান বরাহদেব স্বয়ং দেবী বসুন্ধরাকে এই তিথির মাহাত্ম্য শুনিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অক্ষয় তৃতীয়ায় স্নান, দান, জপ ও তর্পণ করলে মানুষ অক্ষয় ফল লাভ করে। এদিন উপবাস করলে নিখিল সুকৃতি সঞ্চিত হয়। এমনকী এই তিথি যদি কৃত্তিকা নক্ষত্র যুক্ত হয়, তবে তার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। শাস্ত্র অনুযায়ী, এদিন তণ্ডুল বা অক্ষত দ্বারা বিষ্ণুর পূজা এবং ব্রাহ্মণকে ছাতু বা শক্তু দান করলে পরম সৌভাগ্য প্রাপ্তি ঘটে। এই ব্রত পালনকারী রমণীদের সন্তানের কীর্তিও অক্ষয় হয় বলে পুরাণে উল্লেখ রয়েছে।

Advertisement
ছবি: সংগৃহীত

অক্ষয় তৃতীয়ায় দানের অমোঘ শক্তির শ্রেষ্ঠ উদাহরণ শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর বাল্যসখা সুদামা। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত সুদামা একবার দ্বারকায় কৃষ্ণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। সম্বল বলতে ছিল স্ত্রী সুশীলার দেওয়া সামান্য কয়েক মুষ্টি চ্যাপ্টা চাল বা চিঁড়ে। শ্রীকৃষ্ণ পরম আদরে সেই উপহার গ্রহণ করেন। সখার ভক্তিমাখা সেই সামান্য দানই কৃষ্ণের কাছে ছিল অমূল্য। সুদামা মুখে কিছু না চাইলেও, অন্তর্যামী ভগবান তাঁর নিঃস্ব কুটিরকে রাজপ্রাসাদে পরিণত করে দেন। তুচ্ছ দানেও যে অক্ষয় ঐশ্বর্য লাভ করা যায়, কৃষ্ণ-সুদামার এই উপাখ্যান অক্ষয় তৃতীয়ায় সেই শিক্ষাই দেয়।

Advertisement

শাস্ত্র মতে, এদিন গঙ্গা স্নান সেরে সামর্থ্য অনুযায়ী জলদান, অন্নদান বা বস্ত্রদান করা উচিত। এতে কেবল নিজের নয়, পূর্বপুরুষদের আত্মাও তৃপ্ত হয়। আধুনিক ব্যস্ততার মাঝেও অক্ষয় তৃতীয়ায় এই ধর্মকথা মনে রাখা জরুরি। বৈশাখের এই পবিত্র তিথিতে ভক্তিভরে করা সামান্য কর্মও ভক্তের জীবনে নিয়ে আসতে পারে অসীম শান্তি ও সমৃদ্ধি। দিনটি শুরু হোক শুদ্ধ চিত্তে ও পরমেশ্বরের নামস্মরণে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.