বাংলার লৌকিক দেব-দেবীদের মধ্যে অন্যতম হলেন মা ষষ্ঠী। তিনি মূলত সন্তানদাত্রী ও রক্ষাকর্ত্রী। সন্তানের মঙ্গল কামনায় সারা বছর ধরেই নানা ষষ্ঠী পুজো করেন মায়েরা। সেই পুজোর পুরোভাগে দেবীর কল্যাণময়ী রূপ। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে এই বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যের সময় থেকেই মা ষষ্ঠীর আরাধনার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে জামাই আদর ও আপ্যায়নের এই মধুর প্রথা। উল্লেখ্য যে, এ বছর ২০ জুন, শনিবার পালিত হবে জামাইষষ্ঠী (Jamai Shashthi 2026)।
আরও পড়ুন:

জামাইষষ্ঠী মানেই এক চির-চেনা ছবি। ধুতি-পাঞ্জাবি পরে জামাইবাবুর শ্বশুরবাড়িতে আগমন। এক হাতে মিষ্টির হাঁড়ি। আর অন্য হাতে বড় রুই-কাতলা। জামাইকে বরণ করার লৌকিক আচারগুলোও ভারি চমৎকার। ভুরিভোজের আগে চলে আসল পর্ব। জামাইয়ের হাতে বেঁধে দেওয়া হয় হলুদ মাখানো সুতো। এই সুতো হল দুই পরিবারের মধুর বন্ধনের প্রতীক। এরপর তালপাতার পাখা দিয়ে হাওয়া করে দূর করা হয় সব অমঙ্গল। মুখে বলা হয় ‘ষাট-ষাট’। জামাইয়ের দীর্ঘায়ু কামনায় মাথায় দেওয়া হয় ধান ও দূর্বা। ধান যেমন সমৃদ্ধি আনে, দূর্বা তেমনই আজীবন প্রাণবন্ত থাকার আশীর্বাদ দেয়। এরপরই পাতে পড়ে পঞ্চব্যঞ্জন। মাছ, মাংস, আম, কাঁঠাল আর মিষ্টিতে জামাইয়ের রসনাতৃপ্তি ঘটে।

এই উৎসবের পিছনে লুকিয়ে আছে এক প্রাচীন সামাজিক রীতি। আগেকার দিনে কন্যাসন্তান মা না হওয়া পর্যন্ত বাবা-মা মেয়ের শ্বশুরবাড়ির অন্ন গ্রহণ করতেন না। সেই যুগে মেয়েদের বাপের বাড়ি আসার সুযোগও কম মিলত। তাই মেয়েকে নিজের চোখে একটু দেখার জন্যই শুরু হয়েছিল জামাইকে নিমন্ত্রণ করার এই চল। জামাইকে নিজের ছেলের মতো আপন করে নেওয়া এবং মেয়ের সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য মা ষষ্ঠীর আশীর্বাদ চাওয়াই এই উৎসবের আসল মাহাত্ম্য। যুগ বদলেছে, কিন্তু বাঙালি আজও এই লোকাচারকে পরম আদরে টিকিয়ে রেখেছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগ, পুলিশের দ্বারস্থ বধূ
-
‘খুব বাঁচা বেঁচেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ’, রচনার সুরবদলের পরই কেন একথা বললেন মনোরঞ্জন?
-
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও চুনকাম! ১০৫০ দিন পর সিরিজ হার ভারতের, কেন খেলানো হল না বৈভবকে?
-
‘তোলাবাজি’র অর্থে মেয়ে-স্বামীর নামে সম্পত্তি, নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন! তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ
-
অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গ্রুপ থেকে বিদায়, বিশ্বকাপে স্বপ্নভঙ্গ ভারতের মেয়েদের