দানেই বদলান কর্মফল, হিন্দুধর্মে জেনে নিন কোন জিনিসের কী মাহাত্ম্য?
শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, দান কর্মফল উন্নত করে। সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে সাহায্য করে। মনের মলিনতা দূর করে মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল করে তোলে। তাই দানধ্যান করুন।
আরও পড়ুন:
অন্নদান হল মহাদান। শুধুমাত্র ক্ষুধা নিবৃত্তি হয় না। জীবন ধারণেরও সহায়ক। শাস্ত্র অনুযায়ী, দেবী অন্নপূর্ণা হলেন খাদ্য়ের দেবী। যিনি পার্বতীর এক রূপ। শিবকে অন্নদান করেছিলেন। তাই খাদ্য কোনও সাধারণ বস্তু নয়। এটি ঐশ্বরিক এবং পবিত্র। অন্নকে ব্রহ্মস্বরূপ মনে করা হয়। ক্ষুধার্তকে অন্নদান করার অর্থ সরাসরি ঈশ্বর আরাধনা করা। ঋগ্বেদে বলা হয়েছে, যিনি দরিদ্রকে খাদ্য ও অর্থ সাহায্য করে তিনি মহত্ত্বম।
হিন্দুশাস্ত্রে বস্ত্রদান অত্যন্ত পুণ্যের। শাস্ত্রানুসারে অনেকেই বিশ্বাস করেন, কাউকে বস্ত্র করলে চন্দ্রলোক কিংবা স্বর্গলোকে স্থান লাভ হয়। বিশ্বাস করা হয়, বস্ত্রদান করলে ব্যক্তিজীবনে নেতিবাচকতা দূর হয়। পারিবারিক জীবনে উন্নতি হয়। দাতার আধ্যাত্মিক ও মানসিক উন্নতি হ। কারও জন্ম কিংবা মৃত্যুর পর বস্ত্রদান করা অত্যন্ত শুভ। এটি পাপ মুক্তির সহায়ক।
আরও পড়ুন:
পুরাণ অনুযায়ী, ভূমিদান সমস্ত দানের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। বলা হয়, ভূমিদান করলে ব্রহ্মহত্যা-সহ বিভিন্ন মহাপাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কথিত আছে, যিনি সৎ পাত্রে জমি দান করলে নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পান। এবং বিষ্ণুলোকে স্থান পান। ভূমিদানকারী অঢেল সম্পদ, সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু লাভ করেন। শুধু তিনিই নন, তাঁর বংশধরেরাও সমৃদ্ধ হন। প্রাচীনকাল থেকেই মন্দির, আশ্রম কিংবা ব্রাহ্মণকে ভূমিদান করার রেওয়াজ রয়েছে।
হিন্দুধর্মে বিদ্যাদান বা জ্ঞান বিতরণকে শ্রেষ্ঠ দান বলে গণ্য করা হয়। সৌরপুরাণ অনুযায়ী, ভূমিদান, অন্নদান, জলদানের মতো বিদ্যাদানও অত্যন্ত পুণ্য়ের কাজ। যে বিদ্যার সাধনায় আত্মজ্ঞান, পরমাত্মজ্ঞান এবং পূর্ণ ব্রহ্মজ্ঞান লাভ হয়, তাকে ব্রহ্ম বিদ্যা বলা হয়। এটি বেদ, বেদাঙ্গ, গীতা এবং পুরাণের মতো শাস্ত্র অধ্যয়নের মাধ্যমে লাভ হয়।