মহাকাশচারীদের মতো ঘুমোলেই রোগমুক্তি! এই এক কায়দাতেই ঘটবে ‘ম্যাজিক’
কেউ গুটিসুটি মেরে শুতে ভালোবাসেন। কেউ আবার পাশ ফিরে। কেউ-বা বালিশ আঁকড়ে খোঁজেন মানসিক শান্তি। কিন্তু রাতের পর রাত যে ভঙ্গিতে আমরা কাটাই, তা কি আদৌ শরীরের জন্য লাগসই?
মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার সময় নভশ্চরদের শরীরের ওপর যে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়, তা সামাল দিতেই নাসা এই বিশেষ ভঙ্গির সন্ধান পেয়েছিল। বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় 'নিউট্রাল বডি পজিশন'। এই কায়দায় শুলে মনে হবে শরীর যেন একেবারে ওজনহীন হয়ে বাতাসে ভাসছে। পিঠ এবং জয়েন্টের যাবতীয় ক্লান্তি এক নিমেষে উধাও হয়ে যায় এই জাদুকরি অবস্থানে।
আরও পড়ুন:
বিছানায় সম্পূর্ণ ফ্ল্যাট বা চিত হয়ে শোওয়া নয়। এই পদ্ধতিতে শরীরের ওপরের অংশ এবং পা সামান্য উঁচুতে ধরে রাখতে হয়। কোমর আর উরুর সংযোগস্থলে তৈরি হয় প্রায় ১২০ ডিগ্রি কোণ। হাঁটু দুটো আলতো মুড়ে বুকের চেয়ে একটু ওপরে রাখলেই মেরুদণ্ড সম্পূর্ণ শিথিল হওয়ার সুযোগ পায়। ফলে শরীরের পেশিগুলো কোনও বাড়তি টান ছাড়াই চমৎকার বিশ্রাম পায়।
যাঁরা মাঝেমধ্যেই কোমরের যন্ত্রণায় এপাশ-ওপাশ করেন, তাঁদের জন্য এই অবস্থান বেশ আরামদায়ক হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরকে সামান্য বাঁকিয়ে রাখলে পিঠের নিচের অংশে চাপ কমে। একই সঙ্গে যাঁদের পায়ে জল জমার সমস্যা কিংবা ভেরিকোজ ভেইন রয়েছে, পা উঁচুতে থাকার কারণে তাঁদের রক্তসঞ্চালন বাড়ে। ফলে পায়ের ফোলা ভাব এবং ব্যথা অনেকটাই কমে আসে।
রাতের বেলা ভারী খাবার খাওয়ার পর অনেকেরই অম্বল বা বুকজ্বালার সমস্যা হয়। জিরো গ্র্যাভিটি অবস্থানে শরীরের ওপরের অংশ উঁচুতে থাকায় পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপরে উঠতে পারে না। পাশাপাশি এই ভঙ্গিতে শ্বাসনালি পুরোপুরি খোলা থাকে। ফলে যাঁরা রাতে প্রচণ্ড নাক ডাকেন বা অল্প শ্বাসকষ্টে ভোগেন, তাঁরাও বেশ শান্তিতে ঘুমাতে পারেন। মেটে অম্লের জ্বালাও।