পৃথিবীর সেরা ১০০ বিমানবন্দরের তালিকায় ভারতের ৫, জেনে নিন কোথায় অবস্থিত
ভারতের কাছে এ স্বীকৃতি নিতান্তই গর্বের। গত বছরের তালিকাতে বিমানবন্দরগুলির নামোল্লেখ থাকলেও, চলতি বছর র্যাঙ্কিং উঠে এসেছে উপরের দিকে।
২৮তম স্থানে রয়েছে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ভারতের ব্যস্ততম বিমানবন্দর এটি। উত্তর ভারতের মুখ্য প্রবেশপথও বলা চলে। বিস্তৃত লবি এবং সুউচ্চ ছাত প্রবেশ মাত্রই নজর কাড়বে। অন্দরসজ্জায় ব্যবহার হয়েছে কাচ, স্টিল ও পাথরের কারুকাজ। ভারতীয় শিল্পের নানা নিদর্শন চোখে পড়বে প্রতিটি মোড়ে। টার্মিনাল থ্রি-র দেওয়ালে অতিকায় হস্ত মুদ্রার ভাস্কর্য বিশেষভাবে উল্লেখ্য। বিভিন্ন সময়েই স্বীকৃতির পালক জুড়েছে এই বিমানবন্দরের মুকুটে।
আরও পড়ুন:
৪১তম স্থান পেয়েছে বেঙ্গালুরুর কেমপেগৌড়া ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দর। ভারতের আধুনিকতম বিমানবন্দরগুলির অন্যতম এটি। প্রযুক্তিগত সমস্তরকমের সুব্যবস্থা রয়েছে এখানে। যাত্রীদের সুবিধার্থে রাখা হয়েছে বিবিধ বন্দোবস্ত। বিমানবন্দরের ভিতরে রয়েছে হাজারের উপর গাছ! কারুকাজ ও আসবাব তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে বাঁশ ও কাঠের মতো প্রাকৃতিক উপাদান। দিনের আলো প্রবেশ করার ব্যবস্থাও রয়েছে বিমানবন্দরটিতে। বিস্তৃত লবি ধরে হাঁটলে মনে হয়, বোটানিক্যাল গারডেনে এসে হাজির হয়েছেন যাত্রী।
এরপরই ৪৩তম স্থান অধিকার করেছে হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। দক্ষিণ ভারতের পরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম মুখ্য কেন্দ্র এটি। ভিতরের প্রশস্ত লবি এবং ঝাঁ-চকচকে ওয়াকওয়ের সামনে এসে রীতিমতো তাক লেগে যায় যাত্রীর। মনে হয়, যেন ভবিষ্যতের কোনও শহরে পৌঁছে গিয়েছে সে! কাচের ছাত, কাচের দেওয়াল ঘেরা বিমানবন্দরটির বাইরে বেরনোর আগে পর্যন্ত যেন এক ‘ফিউচারিস্টিক’ স্বপ্নের অংশ হয়ে থাকে যাত্রী।
৬৪তম স্থানে উত্তর গোয়ার মনোহর ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ভারতের নতুনতম বিমানবন্দরগুলির মধ্যে অন্যতম এটি। ভারতের সবচাইতে জনপ্রিয় পর্যটক কেন্দ্রগুলির তালিকায় উপরের দিকেই রয়েছে গোয়া। তাই পর্যটকদের কথা মাথায় রেখেই এই বিমানবন্দরের নির্মাণ। সমুদ্র তীরবর্তী শহর গোয়ার নিজস্ব সত্ত্বাটি যেন ধরা দিয়েছে এখানকার সজ্জায়। প্রাকৃতিক আলো যাতে ঢুকতে পারে, সেই বন্দোবস্ত রয়েছে এখানে। রয়েছে হাওয়া চলাচলের সুবন্দোবস্তও। অন্দরসজ্জায় ব্যবহার হয়েছে প্রকৃতি-ঘেঁষা রঙ।
আরও পড়ুন:
মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট রয়েছে ৬৬তম স্থানে। বলা বাহুল্য, ভারতের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রটির মুখ্য প্রবেশদ্বার এটি। বিপুল সংখ্যক যাত্রী ধারনের ক্ষমতা রয়েছে এই বিমানবন্দরের। ভিতরে পা রাখলে মনে হয়, যেন এয়ারপোর্ট নয়, এসে পৌঁছে গিয়েছেন কোনও আর্ট মিউজিয়ামে। ভিতরে দেখতে পাওয়া যায় বিখ্যাত ‘জয় হে’ আর্ট ইন্সটলেশনটি। এছাড়াও ভারতীয় সংস্কৃতি দ্বারা অনুপ্রাণিত হাজারের উপর শিল্পকর্ম ব্যবহৃত হয়েছে অন্দরসজ্জায়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ‘স্কাইট্র্যাক্স ওয়ার্ল্ড এয়ারপোর্ট অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ প্রথম স্থান অধিকার করেছে সিঙ্গাপোর চাঙ্গি এয়ারপোর্ট। এই প্রথম নয়, বিগত ১৪ বছর ধরেই প্রথম স্থানে বহাল রয়েছে এই বিমানবন্দরের নাম। অভিবাসন থেকে শুরু করে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই অত্যন্ত সুদক্ষ পরিচালন ব্যবস্থার সাক্ষী হওয়া যায় সেখানে। ভিতরে রয়েছে কেনাকাটা, খাওয়া এবং মনোরঞ্জনের সুবন্দোবস্তও। অন্দরসজ্জায় স্থান পেয়েছে প্রকৃতি ও আধুনিকতার অসামান্য মেলবন্ধন।